জুড়ীতে টানা বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতা, আহত ৬
জুড়ী প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায় ভারী বর্ষণে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে বিভিন্ন নদী ও পাহাড়ি ছড়ার প্রতিরক্ষা বাঁধ ভেঙে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী এবং ফুলতলা ইউনিয়নের ১৬টি গ্রাম পানি বন্দি হয়ে পড়ে। শতাধিক ঘরবাড়ি পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এছাড়া জুড়ী ফুলতলা, সাগরনাল, গোয়ালবাড়ী এই তিনটি ইউনিয়নের সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। সদর জায়ফরনগর ইউনিয়নের মনতৈল ও গুচ্ছগ্রাম এলাকায় টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘরের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মাটিচাপায় শিশুসহ ছয় ব্যক্তি আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন মনতৈল গ্রামের আক্কেল আলী (৫৫), তাঁর স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৪০), ছেলে আল ইসলাম (১২) ও মেয়ে সাহিদা বেগম (১০), সিরাজ মিয়া (৬০), তাঁর ছেলে মন্নান মিয়া (১২)। আহতরা জুড়ী সেন্ট্রাল হসপিটালে চিকিৎসাধিন রয়েছেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত মঙ্গল ও বুধবার উপজেলায় কয়েকদফা ভারি বৃষ্টি হয়েছে। এতে পাহাড়ি ঢলে জুড়ী উপজেলার কয়েক শতাধিক বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে গেছে। জুড়ী নদী, রাঘনা ছড়া ও ধলাই ছড়ার বিভিন্ন স্হানে ভাঙন দেখা দেয়। এতে সাগরনাল ইউনিয়নের উত্তর সাগরনাল, উত্তর বড়ডহর, দক্ষিণ বড়ডহর, বরইতলি,কাশিনগর, হোসেনাবাদ, কাপনা পাহাড় চা-বাগান ও জাঙ্গালিয়া, গোয়ালবাড়ীর নয়াবাজার বাজার, মন্ত্রীগাঁও, পূর্ব শিলুয়া, যোগীমোড়া ও পশ্চিম শিলুয়া এবং ফুলতলার কোনাগাঁও, ফুলতলা বস্তি, বটুলি ও ধলাইর হাওর এলাকা পানিতে তলিয়ে গেছে।

বৃহস্পতিবার সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, নয়াবাজার বাজারে পানি বাড়ছে। নয়াবাজার ফাজিল মাদ্রাসা ও নয়াবাজার প্রাইমারী স্কুলের ভিতরে দুই হাত পানি প্রবেশ করেছে। সাগরনালের বরইতলি গ্রামে জুড়ী নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধের দুটি স্হানের ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি প্রবেশ করছে। অব্যাহত ভারি বৃষ্টিতে এবং পাহাড়ী ঢলে জন জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ আর দুর্দশা। ডুবে যাওয়া বসত ঘরের সদস্যরা তাদের গরু, মহিষ এবং শিশু সন্তানদের নিরাপদ আশ্রয় স্তলে সরিয়ে নিচ্ছেন।
পৃর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড়দামাই গ্রামের সালমান হোসেন বলেন, বৃষ্টি হলে পানি আরোও বাড়তে থাকবে। পানি বাড়তে থাকলে বড় সম্যসায় পড়বো আমরা।
সাগরনাল ইউনিয়নের ইমরানুল ইসলাম জানান পুরো সাগরনাল বাসী পানি বন্দী এবং পানি কমতে শুরু করেছে।

জায়ফরনগর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মাছুম রেজা জানান, গুচ্ছগ্রাম ও মনতৈল গ্রামে টিলা ধসে ৫০টি বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গোয়ালবাড়ী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শাহাব উদ্দিন আহমদ জানান, তাঁর এলাকার বিভিন্ন গ্রামের দুই শতাধিক বাড়িঘর জলাবদ্ধতায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অন্তত এক হাজার মানুষ পানিবন্দী।
সাগরনাল ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান এমদাদুল ইসলাম চৌধুরী জানান, তাঁর এলাকার কমপক্ষে ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দী। বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট তলিয়ে গেছে। অন্তত শতাধিক খামারের মাছ ভেসে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে ত্রাণসামগ্রী চাওয়া হয়েছে।
ফুলতলা ইউপির চেয়ারম্যান ফয়াজ আলী জানান, টানা বৃষ্টি-পাহাড়ি ঢলে জলাবদ্ধতায় তাঁর এলাকার দুই হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন।
জুড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান ও উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান কিশোর রায় চৌধুরী জলাবদ্ধ ও ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাছির উল্লাহ খান জানান তাৎক্ষণিক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের জন্য ৩০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসনের কাছে প্রয়োজনীয় ত্রাণ সামগ্রী চাওয়া হবে।
Related News
কমলগঞ্জে চা শ্রমিকদের কৃষিপণ্য লুট ও পান গাছ কাটার প্রতিবাদে মানববন্ধন
Manual4 Ad Code কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলা উপজেলার আলীনগর ইউনিয়নের সুনছড়া ও ডবলছড়াRead More
শ্রীমঙ্গলে ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুই দিনে দুই যুবকের মৃত্যু
Manual4 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে দুইRead More



Comments are Closed