৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে অচল ছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ওসিসহ আহত অর্ধশত
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষে প্রায় চার ঘণ্টা অচল হয়ে পড়ে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক।
বুধবার (১০ জুন) সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত চলা সংঘর্ষে ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) অন্তত অর্ধশত মানুষ আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের জেরে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন হাজারো যাত্রী।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সন্ধ্যার দিকে ভৈরবের নিউটাউন মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিরোধের সূত্রপাত হয়। একপর্যায়ে শ্রমিক দলের নেতা সিয়ামের নেতৃত্বে কমলপুর এলাকার এক পক্ষ এবং অন্তরের নেতৃত্বে ভৈরবপুর এলাকার আরেক পক্ষ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি অবস্থান নেয়। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে।
সংঘর্ষ দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের একটি বড় অংশ কার্যত রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে গেলে উভয় পক্ষের হামলায় ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হন। সংঘর্ষ চলাকালে কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। পাশাপাশি আশপাশের কিছু দোকানপাট ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সংঘর্ষের কারণে ঢাকা-সিলেট ও ভৈরব-ময়মনসিংহ মহাসড়কের উভয় পাশে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানবাহন আটকে থাকায় নারী, শিশু ও অসুস্থ যাত্রীদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। অনেক যাত্রীকে যানবাহন ছেড়ে হেঁটে গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দিতে দেখা যায়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে কিশোরগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। রাত ১২টার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা সংঘর্ষ নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হতে শুরু করে।
ভৈরব থানার ওসি মোহাম্মদ আতাউর রহমান আকন্দ গণমাধ্যমকে বলেন, “সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রথমদিকে তা সম্ভব হয়নি। পরে জেলা শহর থেকে অতিরিক্ত পুলিশ এসে রাত ১২টার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে যান চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
এদিকে, মাত্র এক সপ্তাহের ব্যবধানে ভৈরবে এটি দ্বিতীয় বড় সংঘর্ষের ঘটনা। এর আগে গত ৪ জুন ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ভৈরব রেলওয়ে স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পৌর শহরের পঞ্চবটী ও জগন্নাথপুর এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে টানা সাত ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়েছিল। ওই ঘটনায় ঢাকা-চট্টগ্রাম, ঢাকা-সিলেটসহ পূর্বাঞ্চলীয় রেলওয়ের বিভিন্ন রুটে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। সংঘর্ষে সাত পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ৩০ জন আহত হন। সে সময় রেলওয়ে স্টেশনের ট্রেন পরিচালনা কক্ষ (কেবিন) ও রেলওয়ে থানায় ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে।
Related News
৪ ঘণ্টার সংঘর্ষে অচল ছিল ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক, ওসিসহ আহত অর্ধশত
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কিশোরগঞ্জের ভৈরবে মাইক্রোবাস স্ট্যান্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই পক্ষের সংঘর্ষেRead More
দাঁড়িয়ে থাকা ট্রাকে পিকআপের ধাক্কা, নিহত ৪
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: টাঙ্গাইলের সখীপুরে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বাঁশবোঝাই ট্রাকের পেছনে মুরগিবাহীRead More



Comments are Closed