Main Menu
শিরোনাম
কমলগঞ্জে ৫দিনব্যাপী শারদীয় দুর্গাপূজা সমাপ্ত         সিলেটে একদিনে আরো ৩৭ জন শনাক্ত, মৃত্যৃ ১         বিশ্বনাথ-জগন্নাথপুর সড়কে অপরিকল্পিত খোড়াখুড়ি         বিশ্বনাথে সড়কের বেশিরভাগ অংশ নদী গর্ভে বিলীন         সিলেট জেলা ছাত্রদল নেতা আতাউর আটক         সিলেটে এক ব্যক্তির ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার         সিলেটে একদিনে করোনায় আক্রান্ত ২৬, সুস্থ ৫৩         সিলেটে একদিনে করোনা রোগী শনাক্ত ৪২ জন         শাবির ল্যাবে ১৭ জনের করোনা শনাক্ত         সিলেটে একদিনে নতুন শনাক্ত ২৪ জন, সুস্থ ৪১         কমলগঞ্জে হামলায় সাবেক মহিলা ইউপি সদস্য আহত         জামালগঞ্জ উপজেলায় নৌকার প্রার্থী ইকবাল বিজয়ী        

ছাতকে মাল্টা চাষে সফল নারী নাছিমা আক্তার

আনোয়ার হোসেন রনি, ছাতক থেকে: সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলায় বাড়ির সামনে দেড় একর জমিতে মাল্টার চাষ করে সফল নারী চাষী হচ্ছেন নাছিমা আক্তার খাঁন ছানা। ইতিমধ্যে বাগান জুড়ে মাল্টা গাছে ফল এসেছে। আর মাত্র দেড় মাস পরেই পরিপক্ক মাল্টা বাজারজাত করতে পারবেন।

এ বছর প্রথম গাছে ফল এসেছে। লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি করতে পারবেন বলে তিনি আশাবাদী। মাত্র তিন বছরেই তিনি আজ সফল মাল্টাচাষি হয়েছেন। এখানে উর্বর মাটি যেন ফল-ফলাদি চাষের জন্য অনন্য এক উদাহরণ।

অনূকুল জলবায়ু ও আবহাওয়ার কারণে ছাতকে সবুজ সুস্বাদু ফল মাল্টার বাগানের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে। উদ্ভাবিত বারি-১ জাতের এ মাল্টার জনপ্রিয়তা গ্রাম গঞ্জে বাড়ছে। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে পরিক্ষামুলক ভাবে ৩ হেক্টর জমিতে মাল্টা চাষ করে সফল কৃষি বিভাগ।

পরিক্ষামুলক ভাবে তার নিজের বাড়ির পাশে পরিত্যাক্ত জমিতে ২০১৮ সালে মাল্টা চাষ করে সফলতা অর্জন করেছেন উপজেলা পরিষদের সাবেক মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নাসিমা আক্তার খান ছানা। তিনি উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ-সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের হাইলকেয়ারি গ্রামের সৌদি প্রবাসী মুনসুর আলী মনসাদ মিয়ার স্ত্রী। তার নিজস্ব জমিতে আড়াই বছর আগে শখ এবং স্বপ্ন পূরণ করতে শুরু করেন মাল্টার বাগান। নিবিড় পরিচর্যা আর যত্নে চারাগুলি ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে। গত বছর গাছে ফুল ও ফল আসতে শুরু করে। প্রথম বছর শতাাধিক গাছে কম-বেশি ফল এসেছে। গাছ ভেদে ২০ থেকে ৫০টি পর্যন্ত ফল ধরেছে। প্রথম বছর তুলনামুলকভাবে ফল কম ধরলেও সব মিলিয়ে প্রথম বছরে লক্ষাধিক টাকার মাল্টা বিক্রি হবে বলে তিনি আশা করছেন।

জানা যায়, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ছাতক উপজেলা কৃষি অফিসের সাবিক সহযোগিতায় সিলেট অঞ্চলে শস্যে নিবিড়তা বৃদ্বিকরণ প্রকল্পে মাল্টা প্রদর্শনী প্লট (বারি মাল্টা-০১) এর আওতায় ৫০ শতক জমির ওপর গত ২০১৮ সালে মাল্টা বাগান করেছেন নাসিমা আক্তার খান ছানা। আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এ বাগানটি আবাদ করেন। দুই শতাধিক মাল্টার গাছ লাগানোর পর এ বছরেই প্রায় দেড় শতাধিক গাছে বাম্পার ফলন ধরেছে গাছে। তার মাল্টা বাগানে গাছে সমাহার বাম্পার মাল্টা ফলন দেখতে প্রতিদিন শত শত মানুষ ভিড় করছেন।

মঙ্গলবার চাষী নাছিমা আক্তার ছানা জানান, তার স্বামী সৌদি প্রবাসী মুনসুর আলী মনসাদের অনুপ্রেরণায় মালটা চাষের সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এরপর ইউটিউবসহ ইন্টারনেটের মাধ্যমে মাল্টা চাষ সম্পর্কে ধারণা নেন। এক পর্যায়ে ভাল চারা কোথায় পাওয়া যাবে সে ব্যাপারে খোঁজখবর নেয়া শুরু করেন। পরে ছাতক কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ি তিনি তার বসত বাড়ির পাশের জমিটি মাটি ভরাট করে মাল্টার চাষাবাদ শুরু করেন। প্রায় লক্ষাধিক টাকা ব্যয় করেছেন। তার নিজের বাড়িতে বাগান করে ফর্মালিন মুক্ত সবুজ রঙের টাটকা রসালো মাল্টা ক্ষেতে সুস্বাদু।

এদিকে মাল্টা চাষের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ায় কৃষকদের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক চাষীই মাল্টার বাগান দেখতে ভিড় করছে এবং চাষ পদ্ধতি সম্পর্কে ধারণা নিচ্ছেন। আগামীতে মাল্টা চাষের আগ্রহ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় একাধিক চাষী। এছাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে বিভিন্ন পেশার লোকজন মাল্টা বাগান পরিদর্শন করেছে এবং অনেক চাষী নতুন বাগান তৈরির আগ্রহ দেখিয়েছেন।

নজরুল ইসলাম জানান, এ খবর শোনার পর আমি বাগানটি পরিদর্শনে যাই। সেখান থেকে কাঁচা অবস্থায় মাল্টা রস করে খেয়েছি। স্বাদ খুব ভাল। একজন নারী চাষী সাহস নিয়ে এত বড় বাগান গড়ে তুলেছে, দেখে খুব মুগ্ধ হয়েছি। আমিও একটি বাগান করার চিন্তা ভাবনা করছি।

এ ব্যাপারে উপজেলা উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তা আনিসুর রহমান জানান এখানে উর্বর মাটি যেন ফল-ফলাদি চাষের জন্য অনন্য এক উদাহরণ।

ছাতক উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা তৌফিক হোসেন খান জানান, আমাদের তত্ত্বাবধায়নে চাষী নাছিমা আক্তার খান ছানা মাল্টার চাষ করেছেন। শুরু থেকে আমরা সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছি। পুরোপুরি উৎপাদন শুরু হলে ছাতক উপজেলার চাহিদার পাশাপাশি প্রতিবেশি জেলার চাহিদার কিছুটা হলেও পূরণ করতে সক্ষম হবে। এছাড়া আশপাশের এলাকার চাষীরা মাল্টা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছে।

0Shares





Related News

Comments are Closed