Main Menu

সিলেটে বিমানবন্দরের ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের দাবিতে স্মারকলিপি

Manual2 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণকৃত জমির ক্ষতিপূরণের অর্থ দ্রুত পরিশোধের দাবিতে জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি প্রদান এবং অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকরা।

বৃহস্পতিবার (২১ মে) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে এই স্মারকলিপি জমা দেওয়া হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের বাইরে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।

স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, সিলেট সদর উপজেলার বিমানবন্দর থানার অন্তর্গত কেওয়াছড়া, ছালিয়া, বড়শালা ও আঙ্গারুয়া মৌজার ৩নং খাদিমনগর ইউনিয়নের ৩, ৪ ও ৫নং ওয়ার্ডের ধূপাগোল, ছালিয়া, আটকিয়ারী, লালবাগ, রঙ্গিটিলা, চরচড়িকান্দি ও বাইশটিলা এলাকার জমি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ‘নিরাপত্তা বেষ্টনী ও নিরাপত্তা টহল সড়ক নির্মাণ প্রকল্প’-এর জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছে।

Manual3 Ad Code

ভূমির মালিকরা জানান, এলএ মামলা নং-১/২০২০ এর আওতায় ২০২০ সালের ডিসেম্বর মাসে ৪ ধারার নোটিশ জারি ও যৌথ তদন্ত সম্পন্ন হলেও প্রায় ছয় বছর পেরিয়ে গেলেও তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ পাননি। এমনকি ২০২৬ সালেও পুনরায় যৌথ তদন্ত করা হয়েছে। অথচ অধিগ্রহণ কার্যক্রমের পরও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ প্রদান করা হয়নি।

স্মারকলিপিতে আরও বলা হয়, ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুম দখল আইন, ২০১৭’ অনুযায়ী নোটিশ জারির এক বছরের মধ্যে ক্ষতিপূরণ প্রদানের বাধ্যবাধকতা থাকলেও দীর্ঘসূত্রতার কারণে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো চরম দুর্ভোগে পড়েছে। জমি বিক্রি, নামজারি, খাজনা পরিশোধ, ঘরবাড়ি মেরামত, সন্তানদের বিয়ে, বিদেশ গমনসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজ ব্যাহত হচ্ছে।

Manual2 Ad Code

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ২০২৪ সালের ভয়াবহ শিলাবৃষ্টিতে তাদের অধিকাংশ টিনশেড ঘর ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া চলমান থাকায় সেগুলো সংস্কার করতে পারছেন না। ক্ষতিপূরণের অর্থ না পাওয়ায় অনেক পরিবার মানবেতর জীবনযাপন করছে।

স্মারকলিপিতে তারা অভিযোগ করেন, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার আবেদন ও যোগাযোগ করা হলেও এখন পর্যন্ত শুধু আশ্বাস মিলেছে, কার্যকর কোনো সমাধান হয়নি। এ অবস্থায় আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করা হলে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে নিয়ে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলেও হুঁশিয়ারি দেন তারা।

অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তারা বলেন, বিশ্বব্যাপী করোনা মহামারী দেখা দেওয়ার কারণে আমাদের প্রকল্পের কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। সংশ্লিষ্ট শাখার পক্ষ থেকে আমরা জানতে পারি যে, করোনাভাইরাসের কারণে প্রকল্পটির কাজ কয়েকদিন স্থগিত ছিল। পরবর্তী সময়ে আমরা যোগাযোগ করার পর জানতে পারি যে প্রকল্পটি এখনও সংশোধনী পর্যায়ে রয়েছে। বারবার বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে প্রস্তাবটি সংশোধন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত সম্ভবত এগারোবার এই প্রস্তাবের সংশোধনী হয়েছে।

আমরা প্রায় ৯০ থেকে ৯৫ শতাংশ মানুষ বেড়ার ভেতরে অবস্থান করছিলাম। বৃষ্টির কারণে আমাদের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এখনো পর্যন্ত আমরা বৃষ্টির মধ্যেই দিন কাটাচ্ছি। ছাদ ফুঁড়ে বৃষ্টি পড়ছে, পানি ঢুকছে, ফলে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি।

আমাদের বর্তমান জেলা প্রশাসক জনাব সারোয়ার আলম আমাদের আশ্বস্ত করেছিলেন যে, ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যেই তিনি একটি সুরাহা করে দেবেন। হয় প্রকল্পটি চালু থাকবে, না হলে এটি বন্ধ করে দেওয়া হবে। তিনি আমাদের এ বিষয়ে একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আশ্বাস দিয়েছিলেন।

পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক মহোদয়ের অনুরোধে আমরা আরও প্রায় দেড় মাস সময় দিয়েছি, যাতে রমজান মাসের মধ্যে প্রস্তাবটির সংশোধনের কাজ সম্পন্ন করা যায়। এরপরও কোনো কার্যকর অগ্রগতি হয়নি।

বক্তারা আরও বলেন, এভাবে গত ছয় বছর ধরে আমাদের শুধু আশ্বাস দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আমরা দুর্ভোগের মধ্যেই আছি। আমরা ঠিকমতো খাবার-দাবারের ব্যবস্থা করতে পারছি না। বাচ্চাদের পড়াশোনা, ঘরবাড়ির মেরামতসহ নানা প্রয়োজন ছয় বছরে তৈরি হয়েছে। কিন্তু আমাদের মৌলিক চাহিদাগুলোর কোনোটিই আমরা পূরণ করতে পারছি না।

Manual6 Ad Code

একদিকে আইনের বাধার কথা বলে আমাদের সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে নামজারি, খাজনা ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশোধনের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন অফিসে গিয়ে আমরা কোনো সহযোগিতা পাচ্ছি না। অযথা হয়রানির শিকার হচ্ছি।

Manual3 Ad Code

সুতরাং আজ আমরা এখানে এসেছি এই দাবি নিয়ে যে, আমরা প্রশাসনকে আরও ৪৫ দিন সময় দিয়েছি। এই সময়ের মধ্যে হয় আমাদের প্রকল্পের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে হবে, নয়তো প্রকল্পটি বাতিল ঘোষণা করতে হবে। এর বাইরে আর কোনো বিকল্প নেই।’

এ বিষয়ে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম বলেন, ‘ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সম্প্রসারণ প্রকল্পের অধিগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ক্ষতিগ্রস্ত ভূমির মালিকদের আবেদন আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। ক্ষতিপূরণ প্রদানের প্রক্রিয়ায় যেসব প্রশাসনিক ও কারিগরি জটিলতা রয়েছে, সেগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে। আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর যেন প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা দ্রুত ক্ষতিপূরণের অর্থ পান, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual2 Ad Code