পঞ্চগড়ে কুমড়া চাষে ফল নেই শুধু গাছ, কৃষকের কোটি টাকা লোকসান
সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। দিন-রাত পরিশ্রম আর ধার-দেনা করে গড়ে তুলেছিলেন বিশাল এক স্বপ্নের কৃষি প্রকল্প। বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধে বিপুল বিনিয়োগ করেও বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার এক সফল কৃষি উদ্যোক্তা।
১৮০ বিঘা (৬০ একর) জমির বিশাল কুমড়া ক্ষেতে লতা-পাতার সমারোহ থাকলেও ধরেনি একটিও কুমড়া। এতে ওই কৃষকের প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ টাকার মরণঘাতী লোকসান হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুঁজি হারিয়ে সম্পূর্ণ ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়া উদীয়মান এই কৃষি উদ্যোক্তা এখন দিশেহারা।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের নাম মো. সাজ্জাদ হোসেন, তিনি বোদা উপজেলার লাঙ্গল গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, চলতি মৌসুমে তিনি ৬০ একর জমি লিজ নিয়ে আলু ও কুমড়া চাষের মহাপরিকল্পনা করেন। গত ২৬ জানুয়ারি স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেলের মাধ্যমে ‘আলমগীর সীড কোম্পানি’-র কাছ থেকে নগদ টাকায় প্রায় ১০ কেজি ৬০০ গ্রাম ‘ব্যাংকক সুইট-২’ জাতের হাইব্রিড মিষ্টি কুমড়ার বীজ ক্রয় করেন সাজ্জাদ।
জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত অভিযোগে কৃষক সাজ্জাদ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, “বীজ কেনার সময় কোম্পানির পক্ষ থেকে প্রতি একরে ১৯ থেকে ২০ টন কুমড়া ফলনের চটকদার আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। তাদের দেওয়া সমস্ত নির্দেশনা অক্ষরে অক্ষরে মেনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে জমি প্রস্তুত, সার ও নিবিড় পরিচর্যা করি। বীজ রোপণের পর গাছগুলো বেশ সতেজ ও বড় হয়ে পুরো মাঠ সবুজ পাতায় ভরিয়ে দেয়। কিন্তু রোপণের ৮০ থেকে ৯০ দিন পার হয়ে গেলেও ক্ষেতে একটি কুমড়াও ফলেনি। ভবিষ্যতে ফল আসারও কোনো সম্ভাবনা নেই বলে তিনি আশঙ্কা করছেন।
এদিকে কোম্পানির বীজ সাজ্জাদ হোসেনের কাছে বিক্রি করে চরম বিব্রতকর পরিস্থিতিতে পড়েছেন স্থানীয় বীজ ব্যবসায়ী মো. আরিফুল রহমান রাসেল। তিনি বলেন, “আলমগীর সীড কোম্পানি আমাকে শতভাগ নিশ্চয়তা দিয়েছিল যে তাদের এই ‘ব্যাংকক সুইট-২’ বীজের ফলন অত্যন্ত ভালো হবে।
কোম্পানির সেই ভরসাতেই আমি সাজ্জাদ ভাইকে বীজগুলো দিয়েছিলাম। এখন উনার এত বড় ক্ষতিতে আমি নিজেও চরমভাবে লজ্জিত ও বিব্রত।”

জমির মালিক সর্দারপাড়া গ্রামের কাব্য ভূষণ বর্মন জানান, “আমরা ছয় ভাই মিলে সাজ্জাদ ভাইকে ৬০ বিঘা জমি দিয়েছি। আলু চাষে তিনি অনেক টাকা লোকসান করেছেন। পরে সেই জমিতে তিনি মিষ্টি কুমড়া করেন। জমিতে গাছে ভরে গেলেও কোনো ফল আসেনি। এটা বীজের দোষ। আমাদের জমির পাশেই অন্যরা মিষ্টি কুমড়া করেছে, তাদের জমি ফলনে ভরে গেছে। সাজ্জাদ ভাই আলু চাষে কিছু টাকা পরিশোধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন মিষ্টি কুমড়া বিক্রি করে বাকি টাকা দেবেন। কিন্তু ফল না আসায় আমরাও টাকার জন্য চিন্তিত।”
বিঘার পর বিঘা জমিতে ফলন না আসার এই খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকদের মাঝেও তীব্র আতঙ্ক ও ধোঁয়াশা তৈরি হয়েছে।
জেলা বীজ ও প্রত্যয়ন কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. শামীম বলেন, কৃষি উদ্যোক্তা সাজ্জাদ বীজ কিনে প্রতারিত হওয়ার অভিযোগ দিয়েছেন, যার অনুলিপি আমরা পেয়েছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ও উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাসহ সরেজমিনে গিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। তিনি আসলেই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
Related News
খাগড়াছড়ির বিখ্যাত আম্রপালি আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খাগড়াছড়ির বিখ্যাত ও সুস্বাদু আম্রপালি আম চলতি মৌসুমে বাজারেRead More
পঞ্চগড়ে কুমড়া চাষে ফল নেই শুধু গাছ, কৃষকের কোটি টাকা লোকসান
Manual3 Ad Code সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। দিন-রাতRead More



Comments are Closed