পঞ্চগড় থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাউনের চাষ
মোঃ সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: পঞ্চগড় জেলা থেকে হারিয়ে যাচ্ছে কাউনের চাষ। সরেজমিনে জেলার বিভিন্ন অঞ্চল ঘুরে কোথাও তেমন কাউন চাষাবাদ খুঁজে পাওয়া যায়নি। কেউ কেউ শখের বসে ৫/১০ শতক জমিতে কাউন চাষ করেছেন। এ সময় কথা হয় বোদা উপজেলার বেংহারী ইউনিয়নের উলিপুকুরী গ্রামের চাষী রমজান মিয়ার সাথে। তিনি ৮ শত জমিতে কাউন চাষ করেছেন। বর্তমানে কাউন এর শীষ বের হয়েছে। অল্প কয়েকদিনের মধ্যে কাউন ক্ষেত ঘরে তুলবেন। আরো কয়েকজন কৃষক কাউন আবাদ করেছেন অল্প জমিতে শখের বসে।
অনেক কৃষক জানান, কাউন চাষ আমাদের আর করতে হয় না। এখন ভুট্রা আর বাদাম চাষাবাদ বেশী হচ্ছে। উপজেলার বিস্তৃর্ণ অঞ্চল এখন ভুট্রা আর বাদামের ক্ষেতে ভরে গেছে।
তারা জানান, এখন কাউন আবাদ করতে কৃষকরা আর আগ্রহী নয়। এমন এক সময় ছিল অনেক মানুষ কাউনের ভাত খেয়ে জীবিকা নির্বাহ করতো। এই তো ২০/২৫ বছর আগে আষাঢ় ও শ্রাবণ মাসে নিম্ন আয়ভুক্ত পরিবারের অনেকে কাউন এর ভাত খেয়ে দিনাতিপাত করেছে। এছাড়াও কাউনের চালের পায়েস সুস্বাদু – স্বাদে অতুলনীয় ও খুবই প্রিয় খাবার এ এলাকার মানুষদের কাছে ।
সবার কাউন এর আবাদ না করার কারণ হিসেবে তারা জানান, বাজারে কাউন এর দাম কম। দাম কম হওয়ার কারণে কৃষকরা লাভবান হতে পারছেন না কাউন চাষাবাদ করে। এজন্য অনেক কৃষক কাউন চাষ ছেড়ে দিয়েছেন। এখন উপজেলার প্রায় প্রত্যেক কৃষক বোরো ধান ব্যাপক হারে চাষাবাদ করছে। তাই কৃষকদের আর ভাতের অভাব দেখা যায় না। তাই অভাব দুর করার জন্য তাদের আর কাউন এর ভাত খেতে হয় না। কাউন চাষ যে ভাবে হারিয়ে যাচ্ছে, তাতে আমাদের নতুন প্রজন্ম পরবর্তীতে আর কাউন চাষাবাদ সম্পর্কে কিছু জানবে না।
এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি অফিসার জানান, আমরা কৃষি বিভাগ কৃষকদের সব রকমের রবি শস্যের চাষাবাদ করতে কৃষকদের পরামর্শ প্রদান করি। তিনি বলেন, কাউন চাষাবাদে এ অঞ্চলের কৃষকরা দিন দিন আগ্রহ হারিয়ে ফেলছে। আমরা ৫০ হেক্টর জমিতে কাউন চাষাবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি। মনে হয় লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে কম জমিতে কাউন চাষাবাদ হয়েছে।
Related News
খাগড়াছড়ির বিখ্যাত আম্রপালি আম বাজারে উঠতে শুরু করেছে
Manual8 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খাগড়াছড়ির বিখ্যাত ও সুস্বাদু আম্রপালি আম চলতি মৌসুমে বাজারেRead More
পঞ্চগড়ে কুমড়া চাষে ফল নেই শুধু গাছ, কৃষকের কোটি টাকা লোকসান
Manual4 Ad Code সফিকুল আলম দোলন, পঞ্চগড় জেলা প্রতিনিধি: বাম্পার ফলনের আশায় বুক বেঁধেছিলেন। দিন-রাতRead More



Comments are Closed