Main Menu

তেলের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় সুনামগঞ্জের কৃষকরা

Manual3 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বেশ কিছু দিন ধরে দেশে জ্বালানি তেল নিয়ে বিশৃঙ্খলা চলছে। সরকার তেলের সংকট বলতে না চাইলেও চাহিদা মাফিক তেল মিলছে না পাম্পগুলোতে। এমন অস্থিরতার মধ্যেই ১৮ এপ্রিল রাতে তেলের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

Manual8 Ad Code

সরকারের ঘোষণা অনুযায়ী, অকটেনের দাম ১২০ টাকা থেকে ১৪০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ থেকে ১৩৫, ডিজেল ১০০ থেকে ১১৫ ও কেরোসিন ১১২ থেকে ১৩০ টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে।

Manual7 Ad Code

তেলের দাম বৃদ্ধিতে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন সুনামগঞ্জের কৃষকরা।

Manual5 Ad Code

সুনামগঞ্জ জেলা কৃষি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ছোট বড় ১৩৭টি হাওর রয়েছে। ধান চাষ করা যায় এমন বিল রয়েছে ৬২টি। মোট ১৯৯টি হাওর-বিলে চাষ করা হয়েছে ২ লক্ষ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর ধান। এসব ধান ঘরে তুলতে ধান কাটার শ্রমিকসহ মাঠে কাজ করছে ৬০২টি কম্বাইন হারভেস্টার মেশিন। এসব মেশিন সঠিকভাবে কাজ না করলে এতো বিশাল জমির ধান কোনো ভাবেই গোলায় তোলা সম্ভব না।

কৃষকরা বলছেন, তেলের খুব সংকট। একটি হারভেস্টার মেশিন দৈনিক গড়ে ৪০ কিয়ার (১২ একর) জমির ধান কাটতে পারবে। এজন্য প্রায় ১৫০ লিটার জ্বালানি তেল লাগে। সেই তেল পাবে কোথায়। যদিও পাওয়া যায়, অসাধু ব্যবসায়ীরা বেশি দাম রাখে। এখন সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে তেলের দাম বাড়িয়েছেন। ব্যবসায়ীরা আরো দাম বাড়াবে। এদিকে, ১৯০০ টাকা কিয়ারে (৩০ শতকে এক কিয়ার) ধান কাটার নির্দেশনা দিয়েছে জেলা প্রশাসন। কোনোভাবেই ধান কেটে হারভেস্টার মেশিন মালিকের পোষাবে না। এজন্য হাওরে তুলনামূলক কম মেশিন নামছে।

রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের পাখিমারা হাওরের পাগলা অংশ গিয়ে দেখা যায়, হাওরে মাত্র ১টি হারভেস্টার মেশিন। যতদূর চোখ যায় শুধু ফসলের মাঠ। কোনো জমির ধান পেঁকেছে আবার কোনো জমি এখনো পাঁকেনি। তবে যে পরিমান হারভেস্টার মেশিন থাকার কথা সে পরিমাণে নেই। কৃষকরা জানান, ইসলামপুর গ্রামের দক্ষিণে ও বীরগাঁও বাজারের পাশে গেলে আরো দু’চারটি হারভেস্টার মেশিন পাওয়া যেতে পারে। কি কারণে হাওরে মেশিন কম? জানতে চাইলে মাঠের কৃষকরা জানান, তেলের দাম বৃদ্ধি, কোথাও কোথাও তেল পাওয়া যায় না, তাই মেশিন এখনো পর্যন্ত তেমনিভাবে মাঠে নামে নি। তাছাড়া অনেক জায়গায় কিছু পানিও আছে। তবে, পুরোপুরিভাবে ধান পাঁকতে আরো কিছু সময় লাগতে পারে। যখন ধান কাটার ধুম পড়বে তখন হাওরে আরো কিছু মেশিন নামবে। কিয়ার প্রতি ধান কাটতে দাম হয়তো একটু বেশি পড়বে। এদিকে, অনেক কৃষক তেলের দাম বৃদ্ধি ও তেল সংকটে বিপাকে পড়েছেন ভাড়ায় আনা ধান বহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর বা ট্রলি নিয়ে। লাভের আসায় ট্রাক্টর এনে রীতিমতো দুঃশ্চিন্তায় সময় কাটছে তাদের। মিলছে না তেল, মিললেও দাম লিটার প্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি। এই অবস্থায় সরকার নতুন করে দাম বাড়ানোয় আরো বিপদে পড়েছেন ভাড়ায় ট্রাক খাটানো ব্যবসায়ীরা।

হারভেস্টার মেশিনের মালিক ও কৃষক আবদুল কাদির বলেন, আমার একটা মেশিন ইতোমধ্যে বন্ধ আছে। কিছু সমস্যাও আছে মেশিনে। তেল সংকটের কথা মাথায় রেখে মেশিন ঠিক করাচ্ছি না। তেলের যে পরিমাণ দাম বেড়েছে তাতে কৃষকের খুব সমস্যা হবে।

ভাড়ায় ট্রাক্টর এনেছেন শুভন দেব। তিনি বলেন, আমি তিনটি ট্রাক ভাড়ায় এনেছি। দুটি বন্ধ আছে। তেল সংকট। দামও খুব বেশি।

অন্যদিকে, রবিবার আরেক দফায় এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির ঘোষণা দিয়েছে সরকার। গত ১৮ দিনের ব্যবধানে দুই দফায় ৫৯৯ টাকা বৃদ্ধি হয়ে বর্তমানে ১২ কেজির সিলিন্ডারের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১৯৪০ টাকা। গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত দাম বৃদ্ধিতে ভীষণ চিন্তায় পড়েছেন সব শ্রেণির মানুষ। গ্রামীণ অঞ্চলে বিশেষ করে ভাড়া বাসায় থাকা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন দুঃশ্চিন্তায় পড়েছেন বেশি।

Manual3 Ad Code

শান্তিগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, কৃষকরা যাতে নির্বিঘ্নে জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেন এ বিষয় প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহের ব্যবস্থা নেয়ার জন্য উর্ধতন কর্তৃপক্ষ কে পত্র প্রেরণ করা হয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual5 Ad Code