Main Menu

বিশ্বনাথে জেকেঁ বসেছে শীত

মোঃ আবুল কাশেম, বিশ্বনাথ থেকে: সারা দেশের ন্যায় হাড় কনকনে তীব্র শীত রাতের ঘন কুয়াশায় সিলেটের বিশ্বনাথের জনজীবনে নেমে এসেছে চরম দূর্ভোগ। হিমেল হাওয়া স্বাভাবিক জীবন যাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। বিশেষ করে দুঃস্থ ও ছিন্নমূল মানুষের অবস্থা শীতে কাহিল। হতদরিদ্র মানুষের জীবনে চরম বিপর্যয় নেমে এসেছে। শীত বস্ত্রের অভাবে ছিন্নমূল মানুষেরা জবুথবু হয়ে কোনো মতো শীত থেকে নিজেদের রক্ষা করতে শত চেষ্টা করছেন। গরম কাপড়ের অভাবে অনেকেই রাত জেগে খড়কুটো জ্বালিয়ে শীত নিভারনের চেষ্টা করছেন। শ্রমজীবি মানুষেরা কাজে বের হতে না পারায় তাদের পরিবার নিয়ে অভূক্ত থাকছেন। হাড় কাপানো শীতের কারণে সন্ধ্যার পর লোকজন ঘর থেকে বের হতে পারেছেন না। শীতের তীব্রতায় শিশু ও বৃদ্ধ লোকজনের সর্দি, কার্শি, হাঁপানি, হাড় ও বাতের ব্যাথার বেড়ে যাওয়াসহ নানা রোগও উপসর্গ দেখা দেয়ায় তাদের কষ্টের মাত্রা বেড়ে গেছে।
গত তিন দিন ধরে শীতের প্রকোপ বেড়ে যাওয়ায় লেপ-তোশক, ছাদর, সোয়েটারসহ গরম কাপড়ের চাহিদা বহুগুণ বেড়ে যাওয়ায় দামও বৃদ্ধি পেয়েছে। মোটা কাপড়ের দোকানে মানুষের ভীড় লক্ষ্য করা গেলেও দাম বেশী হওয়ায় নিম্ম আয়ের মানুষজন তা কিনতে পারছেননা। উপজেলা সদরে অস্থায়ী পুরনো কাপড়ের দোকানগুলোতে নিম্ম আয়ের মানুষের ভীড় বেড়ে গেছে। উপজেলার বেশ কয়েকটি সামাজিক সংগঠন ইতিমধ্যে এলাকার হত-দরিদ্র পরিবারের মধ্যে শীতের কম্বল বিতরণ করেছেন। তবে চাহিদার তুলনায় অনেক কম। তবে রোবরাব প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ ভান্ডার থেকে বরাদ্দকৃত এলাকার প্রায় এক হাজার হত-দরিদ্র মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করা হয়।
স্থানীয় চিকিৎসক এম এ কুদ্দুছ চৌধুরী বলেন, শীতকালে নবজাতক ও অপুষ্টিতে ভোগা শিশুদের সর্দি কাশি, নিউমোনিয়া ও টনসিলের প্রভাব বেড়ে যায়। এমনকি মৃত্যুঝুঁকিও থাকে কোনো কোনো ক্ষেত্রে। এছাড়া ডায়রিয়া, হাঁপানি, ব্রঙ্কাইটিসসহ শীতকালীন নানা রোগের প্রাদুর্ভাব ছড়িয়ে পড়ে। সেজন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি, পরিচ্ছন্নতার সঙ্গে গরম কাপড় পরিধানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। বয়স্কদের ক্ষেত্রেও সমান সতর্কতা অবলম্বনের প্রতি গুরুত্বারোপ করেছেন।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার অমিতাভ পরাগ তালুকদার বলেন, সরকারিভাবে প্রায় ৩ হাজার কম্বল এসেছে। এগুলো এলাকার শীর্তাত মানুষের মধ্যে বিতরণ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed