Main Menu

জয়পুরহাটে মাদকসেবীদের নতুন হাাতিয়ার ‘ওমরফোন’

মোঃ অালী হাসান, জয়পুরহাট জেলা প্রতিনিধি: গাঁজা, হেরোইন, ইয়াবা, ফেনসিডিল সর্বশেষ বাংলাদেশের জিঁসকা ফার্মাসিউটিক্যালের বাজারজাতকৃত ট্যাবলেট ‘ওমরফোন’ (জেনেরিক বা প্রিপারেশন অক্সিমোরফিন) ব্যবহার মাদক হিসাবে এখন প্রিয় জয়পুরহাট শহরের মাদক সেবিদের কাছে। এর ব্যবহার হেঁরোইন/ইয়াবার মতো করে নেঁশা করছে জয়পুরহাট শহরের বেশ কিছু যুব সমাজ যার সিংহভাগই ছাত্র/ছাত্রী ও বেকার যুবক। যার ফলে তারা জড়িয়ে পড়ছে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ডে। নষ্ট হচ্ছে জেলার যুব সমাজের উজ্জল ভবিষৎ।
জানা যায়- হেঁরোইন, গাঁজা, ইয়াবার মতো ট্যাবলেট ওমরফোনও এখন জয়পুরহাট শহরে সহজলভ্য। জয়পুরহাট শহরের বেশ কিছু ওষুধের দোকান সহ আধুনিক জেলা হাসপাতালের সামনে ৩/৪টি ওষুধের দোকান, বাটারমোড় সহ বেশ কয়েকটি ওষুধের দোকান থেকে নিয়মিত ট্যাবলেট ‘ওমরফোন’ ২০০-২৫০ টাকায় (প্রতি ট্যাবলেট) কিনে নেঁশা করছে বলে জানায় ওমরফোন নেঁশায় আসক্ত সোহাগ (২৮)। দোকানের নাম জানতে চাইলে দেখিয়ে দিতে পারবে বলেও জানায় সে।
জয়পুরহাট জেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সদস্য মামুন জানান- ট্যাবলেট ওমরফোন বাজারজাত করার শর্তের মধ্যে রেজিষ্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশান ছাড়া বিক্রি নিষেধ ছিল। সে হিসাবে প্রেসক্রিপশান ছাড়া এটা বিক্রি আইনত অপরাধ। আর এখনতো ওষুধটি কোম্পানী উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ করে দিয়েছে। তারপরও যদি কোন ওষুধ ব্যবসায়ী এর মজুত ও বিক্রির সাথে জড়িত থাকে তবে সঠিক তদন্ত সাপেক্ষে আইনত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। ওমরফোন ব্র্যান্ডের ওষুধ ব্যবহার করা হয়-ক্যানসারের থ্যারাপি গ্রহনকারী রুগীদের ব্যাথানাশক বা এ্যানালজেসিক ও সিডেটিভ বা ঘুমের সহায়ক হিসাবে। কিন্তু এর ব্যবহারে সঠিক পরিমাপ না হলে ও অপব্যবহারে মানুষের সেন্ট্রাল নার্ভাস সিস্টেমের ক্ষতি করবে- যার ফলে মানুষ তার স্বরনশক্তি হারাবে এবং অস্বাভাবিক আচরন করবে বলে জানান- সাজ চিকিৎসা কেন্দ্র, জয়পুরহাটের পরিচালক ডাঃ খালিদ-বিন-শরীফ।
এই ওষুধ বাজারজাত ও উৎপাদনকারি ফার্মা-জিসকা ফার্মার জয়পুরহাটের মার্কিটিং ও প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান- কোম্পানির ফার্মা বিভাগ ওষুধটি ট্যাবলেট আকারে উৎপাদন ও বাজারজাত করেছিল মুলত ক্যানসারের রুগীদের জন্য কিন্তু যখন এর অপব্যবহারের কথা কোম্পানী অবগত হয়েছে তৎক্ষনাত উৎপাদন ও বাজারজাত বন্ধ করে দিয়েছে। কিন্তু এখনো বাজারে সহজলভ্য ও মজুত আছে প্রশ্নের জবাবে তিঁনি জানান- অনেকে আগের কেনা ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রি করছে বলে আমিও জানতে পেরেছি। কিন্তু প্রমান না পাওয়ায় কোন ব্যবস্থা নিতে পারছি না।
শহরের সচেতন নাগরিকের মতে এখনই প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিৎ ঐ সকল ওষুধ ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে- যারা প্রান রক্ষাকারি ওষুধের আড়ালে এসকল সেনসেটিভ ওষুধ অবৈধভাবে বিক্রি করে। কারন একজন মাদক ব্যবসায়ী আর তাদের মধ্যে কোন প্রার্থক্য নাই। বিশেষ করে সংশ্লিষ্ঠ মাদক নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর সহ জয়পুরহাট ড্রাগ লাইসেন্স প্রদানকারি প্রতিষ্ঠান, সিভিল সার্জন ও জেলা প্রশাসকের বিশেষ ভাবে এ ব্যপারে ব্যবস্থা গ্রহনের মাধ্যমে জয়পুরহাটের এ সকল নেশাগ্রস্থ যুব সমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে অনূরোধ জানান- ওমরফোনে আসক্ত্য ছেলে/মেয়েদের (পরিচয় গোপনের শর্তে) অভিবাবকগন।

Share





Related News

Comments are Closed