Main Menu

নাটোরে বাস-বালুবোঝাই ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১৪

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নাটোরের বড়াইগ্রামে বাস ও ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে ১৪ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ২০ জন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) ভোররাত সাড়ে ৪টার দিকে নাটোর-পাবনা মহাসড়কের সরকারপাড়া এলাকায় এ ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে। তবে তাৎক্ষণিক তাদের পরিচয় জানা যায়নি।

দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে ১১ জনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে পুলিশ। তারা হলেন ১। বাস ড্রাইভার মোঃ সোহেল রানা (৪০), পিতা- আব্দুল হাকিম, গ্রাম ফরাদপুর, থানা- গোদাগাড়ী, জেলা- রাজশাহী, ২। আনোয়ার হক (৩০) পিতা- বাবর আলী, গ্রাম-চায়পাড়া, থানা- বাগমারা, জেলা- রাজশাহী, ৩। তাসফিয়া (৮), পিতা- শহিদুল ইসলাম গ্রাম সুবিদ আলী, থানা- মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী, ৪। জুয়েল (৪০), পিতা জহর উদ্দিন, গ্রাম-রামকৃষ্ণপুর, থানা- জাজিরা, শরীয়তপুর, ৫। ট্রাক ড্রাইভার মোঃ কালাম (৫০), পিতা- জাকির গ্রাম- বরাতলা,থানা- ঝিনাইদহ। ৬। সালাল মোল্লা(৪৫), পিতা-জাহান উদ্দিন মোল্লা, গ্রাম- ডুবি সাহাবুর, থানা- জাজিরা, শরীয়তপুর, ৭। মোঃ শাহিন (৩৫), পিতা-রাজ্জাক, গ্রাম- কাজির হাট, থানা- জাজিরা, শরীয়তপুর, ৮। সোহাগ (৩০), পিতা ইউনুস গ্রাম-ডুবি সাহাবুর, থানা- জাজিরা, শরীয়তপুর, ৯। আব্দুস সামাদ (৭০), পিতা আরব আলী ফকির,গ্রাম-ডুবি সাহাবুর, থানা- জাজিরা, শরীয়তপুর, ১০। মোঃ শহিদুল ইসলাম (৪৫), পিতা আজাহার হাওলাদার, গ্রাম পূর্ব সুবিদখালী, থানা- মির্জাগঞ্জ, পটুয়াখালী, ১১। রাসেল (৩৫), পিতা-মৃত সাজ্জাদ, গ্রাম- কলমুডাঙ্গা, থানা সাপাহার, নওগা।

জানা গেছে, বরিশালের বরগুনা থেকে রাজশাহীগামী আরপি পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস ভোরে বড়াইগ্রাম এলাকায় পৌঁছালে পাবনাগামী বালুবোঝাই ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত হন। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

ঘটনার পরপরই স্থানীয় লোকজন ও ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা যৌথভাবে উদ্ধার কাজে নামেন। প্রথমে দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দুটি সড়কের ওপর থাকায় সাময়িকভাবে নাটোর-পাবনা মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হলেও পরে তা স্বাভাবিক করা হয়।

বনপাড়া হাইওয়ে থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আলমগীর হোসেন ও নাটোর ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের স্টেশন কর্মকর্তা আব্দুর রউফ বলেন, সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই নয়জনের মৃত্যু হয়। পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়। মরদেহগুলো উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে এবং আহতদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন ক্লিনিক, হাসপাতাল, নাটোর সদর হাসপাতাল ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

এ বিষয়ে নাটোরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইফতেখায়ের আলম বলেন, বর্তমানে ওই সড়কে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক রয়েছে। আহত ও নিহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে বড়াইগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) লায়লা জান্নাতুল ফেরদৌস দুর্ঘটনার কারণ হিসেবে তিনি বলেন, যেহেতু ভোর ছিল, চালক হয়তো ঘুমন্ত অবস্থায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যেহেতু অনেকেই গুরুত্বর আহত, মৃতের সংখ্যা বাড়তে পারে। আহত ও নিয়হতের পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে প্রশাসন।

এ ঘটনায় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াতকে প্রধান করে ৭ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছেন জেলা প্রশাসক সুমনী আক্তার।

দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে ১ লাখ টাকা করে প্রদান করা হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় সংসদের হুইপ রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু।

Share





Related News

Comments are Closed