বিয়ানীবাজারে সেই শিশু ধর্ষক সরোয়ার জামিনে মুক্ত
বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি: সিলেটের বিয়ানীবাজারের চাঞ্চল্যকর শিশু ধর্ষণ মামলার আসামী সরোয়ার হোসেন জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন ট্রাইবুনাল আদালত তাকে জামিনে মুক্তি দেন। এর আগে ভিকটিমকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে আদালতে আপোষনামা দাখিল করিয়েছেন দালাল চক্র। এতে সহযোগিতা করেছেন কানাইঘাট উপজেলার এক ইউপি সদস্য। একটি সূত্র জানিয়েছে, সরোয়ার আদালত থেকে জামিনে বেরিয়ে এসেই দালাল চক্রের কাছে হিসেব চেয়েছেন। এ নিয়ে দালাল চক্র ও সরোয়ারের মধ্যে মতবিরোধও দেখা দিয়েছে বলে সুত্রটি দাবী করেছে।
জানা যায়, ধর্ষিত এক শিশুকে বিচার পাইয়ে দেয়ার আশ্বাসে আটকে রেখে তার ওপর আবারও যৌন নির্যাতন চালান লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমদ। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের দেউলগ্রামের আব্দুল লতিফ ওরফে লতই মিয়ার পুত্র। এ ঘটনায় গত ২০ জুন শনিবার রাতে অভিযান চালিয়ে ওই প্রবাসী সরোয়ারকে তাঁর বাড়ি থেকে আটক করে র্যাব। আর ধর্ষকের বাড়ি থেকে শিশুটিকে উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় মেয়েটির পিতা বাদী হয়ে বিয়ানীবাজার থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেন। এ মামলায় একদিনের রিমান্ডও মঞ্জুর হয় সরোয়ারের। রিমান্ডে সে পুলিশের কাছে ধর্ষণের কথা স্বীকার করে। তবে ধর্ষিত মেয়েটি পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, ১৭ দিনে তাকে প্রতিদিন ৩ বার করে ধর্ষণ করা হয়েছে।
এ ঘটনার পর সরোয়ারকে ছাড়িয়ে আনতে স্থানীয় এক দালালের মাধ্যমে ভিকটিমের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করা হয় এবং কানাইঘাটের এক ইউপি সদস্যের মধ্যস্থতায় ভিকটিমকে মোটা অংকের টাকায় ম্যানেজ করে আদালতে আপোষনামা দাখিল করিয়েছে ওই চক্রটি। সূত্রটি জানায় প্রায় ২২ লাখ টাকা ভিকটিম, দালালসহ বিভিন্ন মহলে বন্ঠন করা হয়েছে।
পুলিশ বলছে, খুব শীঘ্রই ধর্ষক সরোয়ারের বিরুদ্ধে চার্জশীট দেয়া হবে। এ ব্যাপারে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, প্রবাসী সরোয়ার আহমদের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত ধর্ষণ মামলাটি এখনো তদন্তাধিন। আমরা খুব শীঘ্রই চার্জশীট দাখিল করবো।
প্রসঙ্গত, কানাইঘাট উপজেলার এরালিগুল গ্রামের এক দরিদ্র পিতার ১২ বছর বয়সী মেয়ে নিজ এলাকায় গণধর্ষণের শিকার হয়। ধর্ষিতার বড় ভাই একটি হত্যা মামলায় গ্রেফতার হওয়ার পর গ্রামের প্রভাবশালীরা তাদের গ্রামছাড়া করেন। এ সময় নির্যাতনের শিকার মেয়েকে বড় ভাইয়ের কাছে রেখে স্ত্রী ও অপর আরেক সন্তানকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান হতভাগা ওই পিতা। স্ত্রী ও সাথে থাকা শিশু সন্তানটিকে নিয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলার দেউলগ্রামের লন্ডন প্রবাসী সারোয়ার আহমেদের বাড়িতে আশ্রয় নেন। এখানেও সুযোগ বুঝে মেয়েটিকে ধর্ষণ করে ওই বাড়ির কর্তা সরোয়ার আহমদ।
Related News
আট মাসে ৩৬ নিখোঁজ শিশুর মরদেহ উদ্ধার, এখনও নিখোঁজ প্রায় দুই হাজার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে শিশু হত্যা ও নিখোঁজ সংক্রান্ত অপরাধমূলক ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। সম্প্রতি কুমিল্লায় নিখোঁজেরRead More
মে মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ৩২৬টি, ধর্ষণের শিকার ৭৮
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চলতি বছরের মে মাসে বাংলাদেশে মোট ৩২৬টি নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনাRead More



Comments are Closed