আট মাসে ৪০০ শিশু ধর্ষনের শিকার, আত্মহত্যা ১০৪ শিশুর
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: দেশে গত আট মাসে ভয়াবহভাবে বেড়েছে কন্যাশিশুদের প্রতি সহিংসতা। জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের প্রতিবেদনে জানা গেছে, জানুয়ারি থেকে আগস্টের মধ্যে ১৮ বছরের কম বয়সী প্রায় ৪০০ কন্যাশিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে এবং নিপীড়ন ও হেনস্তার শিকার হয়ে আত্মহনন করেছে অন্তত ১০৪ কন্যাশিশু।
শনিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে ‘কন্যাশিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ও নিপীড়ন’ শীর্ষক এই প্রতিবেদন প্রকাশ করে সংগঠনটি।
প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের ৭০টি জাতীয় ও আঞ্চলিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবর বিশ্লেষণ করে এই তথ্য সংগৃহীত হয়েছে। এতে দেখা যায়, ধর্ষণ ও আত্মহত্যার পাশাপাশি বহু কন্যাশিশু যৌন নিপীড়ন, নির্যাতন এবং মানবপাচারের শিকার হয়েছে।
প্রতিবেদন উপস্থাপনকালে বক্তারা বলেন, কন্যাশিশুরা আজ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। তাদের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও নিরাপদ বেড়ে ওঠা মারাত্মক হুমকির মুখে। শুধু সামাজিক নয়, রাষ্ট্রীয় পর্যায়েও এই ইস্যুতে কার্যকর পদক্ষেপের ঘাটতি রয়েছে।
ঐকমত্য কমিশনের সদস্য বদিউল আলম মজুমদার বলেন, কমিশনে নারীর অধিকার নিয়ে আলোচনা হলেও রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে তেমন কোনো ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যায়নি। ফলে নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়টি আজও প্রশ্নের মুখে।
ডিবেট ফর ডেমোক্রেসির চেয়ারম্যান হাসান চৌধুরী কিরণ বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার কৌশলে বাল্যবিবাহের সংজ্ঞা পরিবর্তন করেছে। ফলে বাল্যবিবাহ রোধে টেকসই কোনো সমাধান প্রতিষ্ঠা করা যায়নি। কন্যাশিশুদের সুরক্ষা দিতে হলে এই অস্পষ্টতা দূর করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, নারীর প্রতি সহিংসতা ও বৈষম্য রোধে সুশাসন ও কঠোর আইন প্রয়োগের বিকল্প নেই। কন্যাশিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র—সব পক্ষকেই একযোগে কাজ করতে হবে।
তারা জোর দিয়ে বলেন, নারীর প্রতি সুশাসন ও ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না করলে সভ্য ও উন্নত সমাজ গঠন অসম্ভব। এ ক্ষেত্রে সরকারকেই প্রথম পদক্ষেপ নিতে হবে।
সম্মেলনে উপস্থিত শিশু অধিকারকর্মীরা সরকারের প্রতি দাবি জানান, ধর্ষণ ও যৌন নির্যাতনের মামলাগুলো দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করা, স্কুল ও কলেজ পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম বাড়ানো এবং কন্যাশিশুদের নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিতে স্থানীয় প্রশাসনকে আরও সক্রিয় করা।
প্রতিবেদনে উপসংহারে বলা হয়, কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ করতে হলে শুধু আইন নয়, মানসিকতা ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি। এখনই পদক্ষেপ না নিলে আগামী প্রজন্ম এক ভয়ংকর ভবিষ্যতের মুখোমুখি হবে।
Related News
স্বপ্নার নতুন জীবনের শুরু
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: মাত্র চার বছর বয়সে সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের ব্যস্ত প্ল্যাটফর্মেRead More
দক্ষিণ সুরমা উপজেলার শ্রেষ্ঠ অদম্য নারীর সাফল্য অর্জনের গল্প
Manual2 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলা পর্যায়ে ২টি ক্যাটাগরিতে সাফল্য অর্জনকারীRead More



Comments are Closed