Main Menu

পরকীয়া ; সন্তান হত্যা করে স্বামীকে ফাঁসিয়ে দিল স্ত্রী

বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেটে আওয়ামী লীগ নেতার সাথে পরকীয়া প্রেম ও সন্তান হত্যা করে স্বামীকে ফাসিয়ে দিয়েছেন এক গৃহবধূ। জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের কাছে এমন অভিযোগ দেয়া হয়েছে। বিয়ানীবাজার উপজেলার ঘোঙ্গাদিয়া দরগাটিলার তয়রুন বেগম রোববার (১৫জানুযারী) পৃথকভাবে এ অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় বিয়ানীবাজার জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সর্বমহল থেকে ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করা হয়েছে।
অভিযোগে প্রকাশ, ২০১১ সালে বিয়ানীবাজার পৌর শহরের নয়াগ্রামের সিরাজ উদ্দিনের মেয়ে রহিমা বেগমের বিয়ে হয় উপজেলার ঘোঙ্গাদিয়া দরগাটিলার উজ্জল হোসেনের সাথে। বিয়ের পর রহিমা তার নিজ গ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা এনামের সাথে পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে তুলে। এনাম নিজেকে বিয়ানীবাজার পৌর আওয়ামী লীগের ৫নং ওয়ার্ডের সাংগঠনিক সম্পাদক বলে দাবি করছেন। পরকীয়া সম্পর্ক নিয়ে স্বামী উজ্জল ও স্ত্রী রহিমার মধ্যে প্রায়ই বিরোধ লেগে থাকতো। এ বিরোধের জের ধরে রহিমা গত ১৮ নভেম্বর রাতে তার ৬ মাসের গর্ভজাত কন্যা নাজিফা জান্নাত তাহিয়াকে হত্যা করে পুকুরে ফেলে রাখে। খবর পেয়ে পুলিশ পরদিন সকালে লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ মর্গে প্রেরন করে।
রহিমার শাশুড়ী তয়রুন বেগমের অভিযোগ, এ ঘটনায় শিশুর পিতা ও স্বজনরা শিশুর মা রহিমাকে আসামী করে মামলা দিতে চাইলে রহিমার পরকীয়া প্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতা এনাম বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। পরে এনাম রাজনৈতিক প্রভাবে ঘাতক রহিমার বদলে তার নিরপরাধ স্বামী উজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা {নং-৯০(১১)১৬} করান এবং বিনা দোষে শিশুর পিতা উজ্জলকে গ্রেফতার করিয়ে জেলে পাঠান। তয়রুন বেগম তার নিরপরাধ পুত্র উজ্জলকে মামলার দায় থেকে অব্যাহতি এবং ঘটনার উচ্চপর্যায়ের তদন্ত দাবি করেন। তিনি শিশু খুনের দায়ে শিশুর মা রহিমা ও তার পরকীয়া প্রেমিক আওয়ামী লীগ নেতা এনামকে দায়ী করেন এবং তাদের বিরুদ্ধে ব্যবংস্থা গ্রহনে উর্ধতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
সিলেটের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখা তয়রুন বেগমের আবেদন প্রাপ্তির সত্যতা নিশ্চিত করেছে। পৃথক এ আবেদনের অনুলিপি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইজিপি ও সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সহ সরকার ও প্রশাসনের বিভিন্ন দায়িত্বশীল মহলে প্রেরন করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনামের সাথে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ সম্পূর্ন অস্বীকার করেন । তবে শিশু হত্যার পর মামলা দায়ের ও আসামী গ্রেফতারে শিশুর মা রহিমাকে সহযোগিতা করার কথা স্বীকার করেন তিনি।
রহিমা বাদী হয়ে যে মোবাইল নাম্বার দিয়ে থানায় মামলা করেছে তা বন্ধ পাওয়া গেছে। তার অপর মোবাইল নাম্বারে যোগাযোগ করা হলে রহিমার বোন পরিচয় দিয়ে রিসিভ করে নাম প্রকাশ না করে এব্যাপারে কোন তথ্য দিতে সম্পূর্ন অপারগতা প্রকাশ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed