Main Menu

সিলেটে গৃহবধূর জিহ্বা কর্তনের ঘটনায় শাশুড়ি গ্রেফতার

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেট শহরতলীর পশ্চিম দর্শা গ্রামে গৃহবধু সুমা বেগমের উপর যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের ঘটনায় শাশুড়ী জয়বুন্নেছাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শনিবার সকালে দক্ষিণ সুরমার খানুয়া গ্রাম থেকে জয়বুন্নেছাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বৃহস্পতিবার (১৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট সদর উপজেলার পশ্চিম দর্শা গ্রামে এ নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।
বর্বর হামলার শিকার গৃহবধুর নাম সোমা বেগম। গুরুতর আহত অবস্থায় তিনি বর্তমানে সিলেট ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এ ব্যাপারে জালালাবাদ থানায় মামলা করা হয়েছে।
মামলার অভিযোগ ও সুমার পরিবারসূত্রে জানা যায়, ২০০৮ সালে দক্ষিন সুরমা উপজেলার লামুয়া গ্রামের বেলাল মিয়ার সাথে বিয়ে হয় সোমা বেগমের। বিয়ের তিন বছরের মধ্যেই আরেকটি বিয়ে করেন বেলাল। আর এরপর থেকেই সোমার ওপর শুরু হয় স্বামীর নির্যাতন। নির্যাতন সইতে না পেরে এক বছর আগে বাবার বাড়ি সদর উপজেলার পশ্চিম দর্শায় ফিরে আসেন সোমা।
সুমার বড় ভাই হাফিজ মিয়া ও ভাবি রুমা বেগম জানান, সোমাদের বাড়িতে গিয়েও স্ত্রীর কাছ থেকে জোর করে টাকা আনতেন বেলাল। কিন্তু চাহিদামত টাকা দিতে না পারায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বেলাল তার সহযোগীদের নিয়ে সোমার ওপর চালায় নির্মম নির্যাতন। ওড়না দিয়ে মুখ বেঁধে প্রথমে কেটে ফেলেন সোমার জিহ্বা। এরপর তার দু’পায়ের রগ কেটে ফেলার চেষ্টা করেন। এক পায়ের রগ কেটে ফেলেন। কুপিয়ে জখম করেন অপর পা।
এ ব্যাপারে শুক্রবার (১৬ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় বেলাল ও তার পরিবারের সদস্যদের আসামি করে জালালাবাদ থানায় মামলা দায়ের করা হয়। পরে শনিবার (১৭ ডিসেম্বর) সকালে অভিযান চালিয়ে মামলার অন্যতম আসামি বেলালের মা জয়বুন্নেসাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
গ্রেফতারের সত্যতা নিশ্চিত করে জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকতার হোসেন সংবাদ মাধ্যমকে বলেন, “বেলাল তার পরিবারের লোকজনের প্ররোচনায় যৌতুক দাবি করে সোমার ওপর নির্যাতন চালানোর অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রধান আসামি বেলালের পাশাপাশি তার পরিবারের সদস্যদেরও ওই মামলায় আসামি করা হয়েছে । বেলাল এখনো পলাতক থাকলেও তার মা জয়বুন্নেসাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বেলালকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে ।
জালালাবাদ থানার ওসি আক্তার হোসেন জানিয়েছেন, সুমার অবস্থা গুরুতর। সে বর্তমানে ওসমানী হাসপাতালের চতুর্থ তলার ৬নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
১৫ ডিসেম্বর বৃহস্পতিবার রাতে যৌতুকের দাবিতে পিত্রালয়ে থাকা সুমা বেগমকে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে দুই সহযোগি সহ অকথ্য নির্যাতন চালায় স্বামী বেলাল আহমদ ও তার দুই সহযোগি। এ সময় তারা সুমার জিহ্বা কেটে দেওয়া ছাড়াও পায়ের রগ কেটে দেয়।
এ ঘটনার পর রাতেই সুমাকে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে তার জিহ্বা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। শুক্রবার রাতে এ ঘটনায় জালালাবাদ থানায় মামলা করেন সুমার বড় ভাই হাফিজুর রহমান।
শনিবার সন্ধ্যায় হাফিজুর রহমান জানিয়েছেন, সুমার অবস্থা এখনও সংকটাপন্ন। রাতে তার বাম পায়ের রগ কেটে দেওয়া অংশে অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, সুমার জ্ঞান এখনো ফিরেনি। ডাক্তাররাও সুমার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন বলে জানিয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed