Main Menu

ছাত্র-ছাত্রীসহ দশ গ্রামের মানুষের ভোগান্তি ৩ কিমি রাস্তা

ফুলবাড়ী (দিনাজপুর) প্রতিনিধি: গত তিন যুগেও পাকা করা হয়নি দিনাজপুরের ফুলবাড়ী উপজেলার উত্তর লক্ষিপুর বাজার থেকে পার্শ্ববর্তি উপজেলার কুর্শখালী গ্রাম প্রর্যন্ত মাত্র তিন কিলোমিটার রান্তা। এতে সারা বছরে ভোগান্তির শিকার হচ্ছে ফুলবাড়ী ও পার্শবর্তি বিরামপুর উপজেলার ৫টি বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীসহ ১০ গ্রামের দশ হাজার মানুষ।
গ্রামবাসীরা জানায়, শুস্ক মৌসুমে পায়ে হেটে যাতায়াত করা গেলেও বর্ষাকালে তারা হাট-বাজারে যোগাযোগ করতে পারে না, এতে ওই এলাকায় বসবাসরত স্কুল কলেজ পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা বিপাকে পড়ে। এছাড়া ওই গ্রামে বসবাস করা সকলে কৃষক, তাদের উৎপাদিত কৃষিপণ্য সময়মত বাজার জাত করতে পারে না। এ কারনে তারা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মুল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে।
সেখানকার বাসীন্দারা জানায়, উত্তর লক্ষিপুর বাজার থেকে কুর্শখালী প্রর্যন্ত এই রাস্তাটি ফুলবাড়ী উপজেলার খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন ও বিরামপুর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের মধ্যে বিভক্ত হয়ে পড়েছে, উত্তর লক্ষিপুর বাজার থেকে তেতুঁল ডাঙ্গা গ্রাম পর্যন্ত ফুলবাড়ী উপজেলার অন্তর্গত হলেও, কুর্শাখালী শান্তির মোড় থেকে দক্ষিন সাহাবাজপুর পর্যন্ত বিরামপুর উপজেলা, এই কারনে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানগণ একে অপরের নিকট দায়ীত্ব দিয়ে নিজেদের দায় এড়িয়ে যায়, ফলে রাস্তাটি মেরামত হয় না। অথচ এই রাস্তা দিয়ে ফুলবাড়ী উপজেলার তেতুঁল ডাঙ্গা, উত্তর লক্ষিপুর মুসলিম পাড়া ও হিন্দুপাড়া সহ ৪টি গ্রামের মানুষ ও বিরামপুর উপজেলার কুর্শাখালী, দক্ষিন সাহাবাজপুর, বেলপুকুর, বুকসি, রতনপুর, চাপাইয়াপাড়াসহ ৬ গ্রামের ১০ হাজার মানুষ উত্তর লক্ষিপুর বাজার হয়ে ফুলবাড়ী-বিরামপুর মহাসড়ক দিয়ে চলাচল করে থাকে।
কুর্শাখলি গ্রামের পল্লি চিকিৎসক আবুল বাশার বলেন, আমরা সকলে কৃষক, বর্ষাকালে এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করতে না পারায়, আমরা আমাদের কৃষিপণ্য সময়মত বাজার জাত করতে পারিনা। একই কথা বলেন কুর্শাখালী গ্রামের আসাদুল ইসলাম আসাদ, হাশেম আলী ও লোকমান হাকিম।
একই গ্রামের বাসীন্দা ও লক্ষিপুর স্কুল এ্যান্ড কলেজের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য রেজাউল ইসলাম বলেন, বর্ষাকালে এই রাস্তাটি চলাচলের একেবারে অযোগ্য হয়ে পড়ে, এই কারনে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সময়মত বিদ্যালয়ে উপস্থিত হয়ে ক্লাস করতে পারে না, এতে তাদের শিক্ষা গ্রহনের ব্যাপক ক্ষতি হয়। তাই রাস্তাটি পাকা করনের একান্ত প্রয়োজন।
এ বিষয়ে খানপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইয়াকুব আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, রাস্তাটি অধিকাংশ ফুলবাড়ী উপজেলা খয়েরবাড়ী ইউনিয়নের মধ্যে, তাই সেখানে বরাদ্ধ দেয়া কঠিন হয়ে পড়েছে, তবে খয়েরবাড়ী ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আবু তাহের বলেছেন, রাস্তাটি পাকা করনের জন্য ইতিমধ্যে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ঠ সাংসদ বর্তমান প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রীর সাথে যোগাযোগ করেছেন, অল্প সময়ের মধ্যে রাস্তাটি করা সম্ভাব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

Share





Related News

Comments are Closed