Main Menu

‘দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনে নাসির উদ্দীন ছিলেন এক সিংহ পুরুষ’

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: উচ্চ পর্যায়ে দুর্নীতি বিরোধী গণআন্দোলন ও গণজাগরণ গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৯৮ সালে গঠিত দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম, অসংগঠিত নির্দোষ সরল প্রাণ গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহকদের দাবি আদায়ের লক্ষ্যে গঠিত গ্যাস বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদের রূপকার ও প্রতিষ্ঠাতা মরহুম নাসির উদ্দিন এডভোকেটের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে অত্র সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করে।

শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) কর্মসূচির মধ্যে ছিল কোরআনখানি, ফাতেহা পাঠ, কবর জিয়ারত ও বিকেল ৪ টায় কুদরত উল্লাহ মসজিদ মার্কেটের ৩য় তলা কার্যালয়ে দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ ফোরাম কেন্দ্রীয় কমিটির উদ্যোগ এক আলোচনা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

কেন্দ্রীয় সভাপতি ইকবাল হোসেন চৌধুরী সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক জননেতা মকসুদ হোসেনের পরিচালনায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন গ্যাস-বিদ্যুৎ গ্রাহক কল্যাণ পরিষদের কেন্দ্রীয় আহবায়ক ও সিলেট জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল।

বিশেষ মেহমান ছিলেন স্থায়ী কমিটির সদস্য বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ সমাজসেবক নেছারুল হক চৌধুরী বুস্তান স্যার, ইউরিয়া ফার্টিলাইজার কলেজ চট্টগ্রামের প্রাক্তন অধ্যক্ষ ডঃ রমেন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য্য, বীর মুক্তিযোদ্ধা মহিউদ্দিন আহমদ।

বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় সহ সভাপতি ডাঃ অরুণ কুমার দেব, সহ সভাপতি মামুন রশীদ এডভোকেট, সহ সভাপতি শেখ মোঃ লায়েক মিয়া, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল গফুর, আইন বিষয়ক সম্পাদক অরুণ চন্দ্রনাথ এডভোকেট, সহ তথ্য প্রচার সম্পাদক মীর আব্দুল করিম পাখি মিয়া ও শাহিদুর রহমান জুনু, দপ্তর সম্পাদক আব্দুল মোতওয়ালি ফলিক, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক রফিকুল ইসলাম শিতাব, সহ-শ্রম সম্পাদক মিজান গাজী, ইসমত ইবনে ইসহাক সানজিদ, মোঃ লুৎফুর রহমান লিলু, সাবেক ছাত্রনেতা তারেক আল-মঈন, যুক্তরাজ্য প্রবাসী আশিক চৌধুরী, দুর্নীতি মুক্তকরণ বাংলাদেশ যুব ফোরামের কেন্দ্রীয় আহবায়ক নিয়াজ কুদ্দুস খান, কামাল আহমদ তালুকদার, জুয়েল আহমদ নিপু, আশরাফ আলী প্রমুখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে অ্যাডভোকেট সরওয়ার আহমদ চৌধুরী আবদাল সিলেটি জেলা বারের সিনিয়র আইনজীবী এডভোকেট নাসির উদ্দিনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে গভীর শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, তিনি ছিলেন জাতীয় মুক্তি সংগ্রামের অন্যতম সেক্টর কমান্ডার। পাশাপাশি ক্ষণজন্মা এক খাঁটি দেশপ্রেমিক আইনজীবী।

সভাপতির বক্তব্যে ইকবাল হোসেন চৌধুরী বলেন, দেশের পরিস্থিতি যে মোটেই ভালো নয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। এটা অবশ্য সত্য যে অবস্থা কখনোই ভালো ছিল না। তবে এখনকার পরিস্থিতি বিশেষভাবে মন্দ মনে হচ্ছে কয়েকটি অতিরিক্ত কারণে, প্রথমত মানুষ আশা করেছে, অবস্থার পরিবর্তন হবে কেবল আশাই করেনি, পরিবর্তনের জন্য শ্রম দিয়েছে, আন্দোলন করেছে, আত্মত্যাগ করেছে, অংশ নিয়েছে সরকার পরিবর্তনের সংগ্রামে। মানুষ এখন আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় অধিক ক্ষুব্ধ। বৈষম্য বিরোধী আন্দোলনের অপর নাম দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলন। সেই আন্দোলনের মূল আকাঙ্খা ধ্বংস করে দিয়েছে বড় বড় দুর্নীতিবাজদের অন্যতম পার্টনার, জাতীয় গাদ্দাররা। নাসির উদ্দিনের এডভোকেট আমাদের শিখিয়েছেন নিরব থাকাটা অপরাধের শামিল। আমরা হক কথা বলে যাব। মোটকথা নাসির উদ্দিন এডভোকেট ছিলেন দুর্নীতি বিরোধী আন্দোলনের আমাদের এক সিংহ পুরুষ। তিনি খাঁটি ধার্মিক ও প্রকৃত আল্লাহ ওয়ালা ছিলেন। এজন্যই তার মৃত্যু হয়েছে জুমার রাত্রে।

কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক জননেতা মকসুদ হোসেন বলেন, নাসির উদ্দিনের এই সত্য ন্যায় সংগ্রামের জন্য আমি জাতীয় রাজনীতি ছেড়ে দিয়েছি। গণঅভ্যুত্থানের ভেতর দিয়ে এক স্বৈরশাসনের পতন ঘটেছিল, আমরা তার নাম দিয়েছিলাম ফ্যাসিস্ট স্বৈরাচার। স্বৈরাচারী ফ্যাসিস্ট কিন্তু মোটেই কমেনি। জনপ্রিয় ২০০৭ সালের তত্ত্বাবধায়ক সরকার বড় বড় দুর্নীতিবাজদের দমনের অন্যতম জাতীয় বীর জেনারেল মাসুদ আজ কারাগারে। আমরা ওই প্রতিহিংসাপরায়ণ আচরণ সহ্য করছি। বোঝা যাচ্ছে দুর্নীতি বিরোধী আওয়াজ, সংগ্রাম ও স্বৈরাচারী কর্মকাণ্ডের ধিক্কার দেওয়া, ধমক দেওয়ার শক্তি সমাজে এখন আর নেই। এও এক করুণ নিম্নগমন বটে। সমাজের সর্বত্র নৃশংসতা ভয়ংকর ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। আজ কোন নিরাপত্তা নেই। নেই অর্থনৈতিকও। রাষ্ট্র তার কর্তব্য পালন করতে পারছে না। উপরন্তু সে নিজেই একটি দুর্নীতি ও সন্ত্রাসী। আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত নাসির উদ্দিনের নেক স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা করে যাবো ইনশাল্লাহ।

পরে নাসির উদ্দিন এডভোকেটের রুহের মাগফেরাত ও দুর্নীতি দমন স্থিতিশীল মানবিক বাংলাদেশ এর কামনা করে এক মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। দোয়া পরিচালনা করেন কুদরত উল্লাহ হাফিজি মাদরাসার শিক্ষক হাফিজ মাওলানা ফখরুল ইসলাম। বিজ্ঞপ্তি

Share





Related News

Comments are Closed