Main Menu

টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড ট্রাজেডির ১১ বছরেও মিলেনি ক্ষতিপূরণ

আল-হেলাল, সুনামগঞ্জ থেকে : দীর্ঘ ১১ বছর অতিবাহিত হওয়ার পরও দেশের অন্যতম প্রাকৃতিক খনিজ সম্পদ সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড ট্রাজেডির ক্ষতিপূরন মিলেনি।
২০০৫ সালের ৭ জানুয়ারী রাত ১০ টায় সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা গ্যাস ক্ষেত্রে প্রথম দফা বিস্ফোরন ঘটে। প্রথম দফা বিস্ফোরনের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে না উঠতেই দ্বিতীয় দফা বিস্ফোরন ঘটে একই বছরের ২৪ জুন রাত ২টায়।
দুই দফা বিস্ফোরণে টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ডের প্রোডাকশন কূপের রিগ ভেঙ্গে প্রচন্ড গর্জন এবং ভয়াবহ কম্পনসহ ২০০ থেকে ৩০০ ফুট উচ্চতা পর্যন্ত আগুন উঠানামা করতে থাকে। দুইদফা বিস্ফোরণে গ্যাসফিল্ডের মাটির ওপরে ৩ বিসিক গ্যাস পুড়ে যাওয়া এবং ৫.৮৯ থেকে কমপক্ষে ৫২ বিসিক গ্যাসের রিজার্ভ ধ্বংস হওয়াসহ আশপাশের টেংরাটিলা, আজবপুর, গিরীশনগর, খৈয়াজুড়ি ও শান্তিপুরের মানুষের ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ ও পরিবেশের ক্ষতি হয়। বিস্ফোরনের পর আশপাশের মানুষের সামান্য ক্ষতিপূরন দিয়ে কিছুদিন পরই নাইকো তাদের সরঞ্জামাদি নিয়ে গ্যাসক্ষেত্র থেকে চলে যায়।
tengratila-1দূর্ঘটনার প্রায় ১১ বছর পরও দোয়ারাবাজার উপজেলার টেংরাটিলা পরিত্যাক্ত গ্যাসফিল্ডের আশপাশ এলাকা ও বাড়িঘর এবং টিওবওয়েল দিয়ে বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হচ্ছে। এখনও টিওবওয়েল দিয়ে উদগীরিত গ্যাসে দাউদাউ করে আগুন জ্বলছে। টেংরাটিলা গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে ও গ্যাসফিল্ডের পাশের গ্রামের বিভিন্ন পুকুর, জমি,রাস্তা ও বাড়িঘরের ফাটল দিয়েও বুদবুদ আকারে গ্যাস বেরুচ্ছে। এখনও আতংকিত টেংরাটিলা গ্রামের মানুষ। গ্রামের প্রায় সকল বাড়িতেই বিভিন্ন ফাটল, ফসলি জমি ও রাস্তা দিয়ে গ্যাস উদগীরনের কারনে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ পাতা ঝরে শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। ঐ এলাকার অগনিত মানুষ টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড ট্রাজেডির বিভীষিকাময় স্মৃতির প্রত্যক্ষ সাক্ষী হয়ে আজো বেঁচে আছেন। বর্তমানে ঐ এলাকায় নারীপুরুষ ও শিশুরা মারাত্মক স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছেন। স্থানীয়রা আর্সেনিক দূষণ, অকাল গর্ভপাত, শ্বাসকষ্ঠ, চোখে কম দেখা, চর্মরোগসহ নানা শারীরিক সমস্যায় আক্রান্ত বলে জানিয়েছেন ভূক্তভোগীরা।
agun 1এদিকে উদগীরিত গ্যাসে এলাকার প্রাকৃতিক পরিবেশের স্বভাবিক ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যাওয়ায় টেংরাটিলা ও তার আশপাশের এলাকা অনেকটা বৃক্ষশূন্য হয়ে পড়েছে। ফলে স্থানীয়রা বিকল্প জ্বালানী চাহিদা মেটাতে না পারায় ঝুকিপূর্ণভাবে অনিয়ন্ত্রিত গ্যাস যত্রতত্র ব্যবহার করছে বলে জানিয়েছেন টেংরা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ফরিদ উদ্দিন আহমদ ও স্থানীয় সাংবাদিক আশীষ রহমান তালুকদার। তারা আরো জানান, দূর্ঘটনার এগারো বছর পেরিয়ে গেলেও কথা রাখেনি নাইকো কর্তৃপক্ষ। ক্ষতিগ্রস্থরা এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত ক্ষতিপূরন পায়নি। বিকল্প ব্যাবস্থা না থাকায় ঝুকিপূর্ণ এলাকায় নিরুপায় হয়ে বসবাস করছেন তারা। যেকোন সময় দূর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কায় এলাকাবাসী উদ্বিগ্ন।
এ ব্যাপারে সুনামগঞ্জ জেলা বারের বিজ্ঞ আইনজীবী এডভোকেট চান মিয়া ও টেংরাটিলা দাবী আদায় কমিটির নেতৃস্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা মাস্টার আজিম উদ্দিন জানান, গ্যাসক্ষেত্রটি নিয়ে আইনী জটিলতার দরুন সরকার অনেকটা উদাসীন। ফলে সম্ভাবনাময় প্রাকৃতিক গ্যাসের অপার সম্ভাবনা টেংরাটিলা গ্যাস ফিল্ডটি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে। দেশ হারাতে বসেছে এক বিশাল জাতীয় সম্পদ। তারা ক্ষতিগ্রস্থদের পূনর্বাসন ও পর্যাপ্ত ক্ষয়ক্ষতি পূরনের দাবী জানান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফুল ইসলাম ও উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ ইদ্রিছ আলী বীরপ্রতীক বলেন, বর্তমান সরকার উপযুক্ত ক্ষয়ক্ষতি পূরনের লক্ষ্যেই আন্তর্জাতিক আদালতে নাইকো কোম্পানীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে। দেশীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শন করে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করেছেন। বর্তমানে এটি আইনী প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এলাকার জনগনের প্রশ্ন এগারো বছর অতিবাহিত হয়ে গেলো। আদৌ টেংরাটিলা গ্যাসফিল্ড ট্রাজেডির ক্ষয়ক্ষতি ও সার্বিক সমস্যার কার্যকর সমাধান হবে কি ?

Share





Related News

Comments are Closed