Main Menu

জালালাবাদ গ্যাসের গৃহস্থালী সংযোগ বন্ধ : ক্ষুব্ধ সিলেটবাসী


বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: জালালাবাদ গ্যাসের সব সেবা একে একে সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে। গৃহস্থালীতে নতুন গ্যাস সংযোগ দেয়া বন্ধ রয়েছে গত নভেম্বর থেকে । সর্বশেষ ৩১ মে থেকে নতুন চুলা সম্প্রসারণ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত ঘোষণা করেছেন কর্তৃপক্ষ। অথচ, এ বিষয়ে কোন লিখিত সার্কুলার দেয়া হয়নি। সিলেট অঞ্চলে পর্যাপ্ত গ্যাস মজুদ থাকা সত্বেও ‘জাতীয় চাহিদার’ অজুহাতে কোনরূপ ঘোষণা ছাড়াই এ ধরণের সিদ্ধান্তকে ‘হটকারী’ ও সিলেট বিদ্বেষী বলে আখ্যায়িত করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
জানা গেছে, সিলেট অঞ্চলে গ্যাসের ব্যাপক মজুদ থাকায় এই অঞ্চলের অনেক গ্রামীণ পর্যায়েও গৃহস্থালী কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রাকৃতিক গ্যাস। শিল্প ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে পাইপ লাইনের মাধ্যমে এই গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে সিলেট অঞ্চলে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয় জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ। আর যাদের বাড়ি ঘরে বর্তমানে গ্যাস সংযোগ রয়েছে, তারা নতুন কোন চুলার সংযোগ নিতে পারবেন না- এমন সিদ্ধান্ত মঙ্গলবার থেকে কার্যকর করেছে জালালাবাদ গ্যাস। এর প্রতিবাদে নগরীর মেন্দিবাগস্থ জালালাবাদ গ্যাস ভবনে বিক্ষোভ করেছেন ঠিকাদাররা।
সম্প্রতি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে গ্যাসের চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় ও শিল্পে গ্যাস ব্যবহার বাড়ার কারণে সরকার গৃহস্থালী কাজে গ্যাস সংযোগ কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নেয়। এ লক্ষ্যে দেশে নতুন করে গৃহস্থালী কাজের জন্য গ্যাস সরবরাহ সংকোচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।
এরই অংশ হিসেবে গত নভেম্বর মাস থেকে জালালাবাদ গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন লিমিটেড সিলেট অঞ্চলে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়। আবাসিক বাড়িঘরের পাশাপাশি বিসিক শিল্প এলাকায় স্থাপিত শিল্প কারখানাতেও তারা গ্যাস সরবরাহ করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। ফলে চরম বিড়ম্বনায় পড়েন সিলেটবাসী। গোটাটিকর বিসিক শিল্প নগরীর শিল্প মালিকরা সংবাদ সম্মেলন করে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষের নতুন সংযোগ বন্ধের এ সিদ্ধান্ত প্রত্যহারের দাবী জানান।
কর্তৃপক্ষের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জনমনেও ক্ষোভ দানা বাধে। জালালাবাদ গ্যাসের এ সিদ্ধান্তকে ‘হটকারী’ ও ‘সিলেটবিদ্বেষী’ আখ্যায়িত করে সচেতন মহল আন্দোলনে নামেন। আন্দোলনকারীদের বক্তব্য- সিলেট অঞ্চলে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ ও জালালাবাদ গ্যাসের পূর্ণ সক্ষমতা থাকা সত্বেও জাতীয় পর্যায়ে সংকটের অজুহাতে সিলেট অঞ্চলে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করা সিলেটবাসীর প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ। আবাসিক গ্যাস সংযোগ বন্ধ করার পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয় শিল্পে গ্যাস সংযোগ বন্ধ করার সিদ্ধান্তকে ‘সিলেট বিদ্বেষী’ আখ্যায়িত করেন তারা। এমনকি, তারা এও অভিযোগ করেন জালালাবাদ গ্যাসে বরাবর-ই সিলেট অঞ্চল থেকে স্থানীয় একজন পরিচালক রাখা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর জালালাবাদ গ্যাসে সিলেট অঞ্চলের কোন পরিচালকও রাখা হয়নি। ফলে, সিলেটের স্বার্থ পরিপন্থি সিদ্ধান্ত নিতে কুন্ঠাবোধ করছে না জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালনা পর্ষদ। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চ মহলের দৃষ্টি আকর্ষণে ব্যর্থ হয়ে এখন অনেকটাই গা ছাড়া ভাব আন্দোলনকারীদের।
এ সুযোগে গত সোমবার আকষ্মিকভাবে জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষ ঘোষণা দিয়েছেন যেসব বাসা বাড়িতে গ্যাস সংযোগ রয়েছে, সেগুলোতে নতুন চুলাও বাড়ানো যাবে না। কর্তৃপক্ষের মৌখিক এ নির্দেশনা জানাজানি হলে জালালাবাদ গ্যাসের ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ দানা বাধে। মঙ্গলবার দুপুরে তারা জালালাবাদ গ্যাসের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের সাথে বৈঠক করেন। বৈঠকে এ বিষয়ে এমডি ৪ জুন পর্যন্ত সময় নিয়েছেন বলে একটি সূত্র জানায়।
জালালাবাদ গ্যাসের কোম্পানী সচিব খান মো: বদিউজ্জামান জানান, সরকারি সিদ্ধান্তেই এক্সটেনশন গ্যাস সংযোগ বন্ধ রাখা হয়েছে। তিনি জানান, কন্ট্রাক্টর ওয়েলফেয়ার এসোসিয়েশনের লোকজন এ নিয়ে এমডি’র সাথে কথা বলেছেন। এমডি পেট্রোবাংলার চেয়ারম্যান দেশে ফেরার পর এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত জানাবেন বলে আন্দোলনকারীদের জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে জালালাবাদ গ্যাসের এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেছেন, বিষয়টি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের ব্যাপার। সিলেট অঞ্চলের মন্ত্রী ও জনপ্রতিনিধিরা বিষয়টি নিয়ে জালালাবাদ গ্যাসের পরিচালনা পর্ষদের সাথে কথা না বললে বিষয়টির সুরাহা হবে না। তিনি বলেন, সরকার চাচ্ছে রান্নার কাজে সিলিন্ডার ব্যবহার জনপ্রিয় করতে। কিন্তু, এখন পর্যন্ত পর্যাপ্ত সিলিন্ডার নেই বাজারে। যে সব সিলিন্ডার রয়েছে, তার দামও আকাশ ছোঁয়া। এ অবস্থায় হঠাৎ করে নতুন সংযোগ বন্ধ করে দেয়া অযৌক্তিক। এছাড়া, গৃহস্থালী কাজে যে গ্যাস ব্যয় হয়, তার মূল্যবাবত জালালাবাদ গ্যাসের যে আয় হয়, তা কোন অংশেই লোকসানি নয়। এ খাতে সরকারকে কোন ভর্তুকিও দিতে হয় না। বরং, যানবাহন চলাচলের সিএনজির জন্য সরকারকে ভর্তূকি দিতে হচ্ছে। ঐ কর্মকর্তা জানান, সিলেট অঞ্চলে পর্যাপ্ত গ্যাসের মজুদ রয়েছে। জালালাবাদ গ্যাস কর্তৃপক্ষও গৃহস্থালী কাজের গ্যাস সংযোগ দিতে অনাগ্রহী নয়। কিন্তু রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্তের কারণে তারা নতুন গ্যাস সংযোগ দিতে পারছেন না। ঐ কর্মকর্তা জানান, হঠাৎ করে নতুন গ্যাস সংযোগ বন্ধ করে দেয়ায় তিতাস গ্যাসের মত জালালাবাদ গ্যাসেও চুরি লুটপাটের আশঙ্কা রয়েছে।

Share





Related News

Comments are Closed