Main Menu

‘রোয়ানু’র তান্ডবে উপড়ে গেছে কক্সবাজার সৈকতের ঝাউবিথি

অজিত কুমার দাশ হিমু, কক্সবাজার থেকে: কক্সবাজারের বিস্তীর্ণ সমুদ্র সৈকতের শোভাবর্ধনকারী গাছ ঝাউবিথি। ঘুর্ণিঝড় কিংবা জলোচ্ছাস সহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে সৈকতের সৌন্দর্য রক্ষাকর্তা এই ঝাউগাছ। অথচ আজ অব্যবস্থাপনার কারণে ধ্বংসের মুখে ঝাউবিথি। গত শনিবার ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর আঘাতে উপড়ে গেছে কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের বিভিন্ন পয়েন্টের ঝাউ গাছ গুলো। সাগরের জোয়ারের পানিতে প্রচুর ঝাউগাছ উপড়ে গেছে বলে ধারণা করছেন বন কর্মকর্তারা। বাতাসের তিব্রতায় সৃষ্ট প্রবল স্রোতে ভেসে গেছে উপড়ে পড়া অধিকাংশ ঝাউগাছ।
প্রায় প্রতি বছর মৌসুমী ঘূর্ণিচাপের প্রভাবে জোয়ারের পানি ঝাউগাছ উপড়ে নিলেও সৈকতের সৌন্দর্য বর্ধনকারী এসব গাছ রক্ষায় প্রয়োজনীয় কোন পদক্ষেপ নেই। ফলে ঝাউবাগান আজ বিলীন হতে বসেছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সৈকতের ডায়াবেটিক পয়েন্ট, নাজিরারটেক, সুগন্ধা পয়েন্ট, শৈবাল, লাবণী, কলাতলী ও সী-ইন পয়েন্টসহ বিভিন্ন পয়েন্টে সাগরের বালিয়াড়িতে উপড়ে পড়ে আছে অসংখ্য ঝাউগাছ। রোয়ানুর তান্ডবে সাগরের পানির উচ্চতা বৃদ্ধি ও প্রবল জোয়ারের পানির ঢেউয়ের ধাক্কায় সৈকতের ঝাউগাছের গোড়া থেকে বালি সরে গিয়ে এসব গাছ উপড়ে গেছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। এভাবে চলতে থাকলে সৈকতের সৌন্দর্য বিলীনের পাশাপাশি পরিবেশ মারাত্মক হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বনবিভাগ সূত্র জানায়, কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলের প্রায় ৫৪০ হেক্টর জমিতে ১৯৯৩-৯৪ সালে লাগানো হয় এসব ঝাউগাছ। এগুলো দিনে দিনে সবুজের সমারোহ ছড়াচ্ছে। পাশাপাশি সৈকতে বেড়াতে আসা লোকজনকে একটি অন্যরকম সুরের মূর্চনায় অভিভূত করে রাখে ঝাউগাছ গুলো। গাছগুলো পরিচর্যার দায়িত্বে কাগজে কলমে রয়েছে উপকূলীয় বনবিভাগ।
Cox_PIC_23-05-2016অপর এক সূত্র জানায়, সৈকত এলাকার এসব ঝাউবাগান এখন বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটির আওতায় রয়েছে। পুরো ১২০ কিলোমিটার অখন্ড বালিয়াড়ির নিয়ন্ত্রক কক্সবাজার বীচ ম্যানেজমেন্ট কমিটি। তাই এটি আজ পর্যটনের শ্রী বর্ধনে একটি অংশ হয়ে উঠেছে এ ঝাউগাছ। দৃশ্যত এসব গাছের এখন দু’টি অভিভাবক হয়ে উঠায় সঠিক পরিচর্যা পাচ্ছে না এসব গাছ। অযত্ন অবহেলায় অনেক গাছের গোড়া থেকে দুই-তিন ফুট পর্যন্ত বালি সরে গিয়ে শিকড় বেরিয়ে পড়েছে। তাই হালকা বাতাসেও উপড়ে পড়ছে অসহায় গাছগুলো। অনেক সময় হত্যার শিকারও হচ্ছে ঝাউগাছ।
কক্সবাজার রেঞ্জ কর্মকর্তা তাপস কুমার দেব বলেন, আমরা বন, পাহাড় ও ঝাউগাছ রক্ষায় কঠোর অবস্থানে আছি। বনকর্মীদের চেষ্টায় গাছগুলো এখনো টিকে আছে। কিন্তু স্থায়ী রক্ষণাবেক্ষণের ব্যবস্থা না থাকায় প্রকৃতির কাছে (রোয়ানুর কাছে) শনিবার নতি স্বীকার করেছে শতাধিক গাছ। এরপরও আমাদের সিপিজি সদস্যরা গাছগুলো রক্ষার্থে প্রাণান্ত চেষ্টা করেছে। কিন্তু সৈকতে উপড়ে পড়া কিছু ঝাউগাছ উদ্ধার করতে পারলেও বেশির ভাগ গাছ জোয়ারের পানিতে ভেসে গেছে বলে দাবি করেন তিনি।
এদিকে স্থানীয়রা মনে করেন, সমুদ্র সৈকতের ঝাউগাছ বিলীন হওয়ার কারণে হুমকির মুখে রয়েছে কক্সবাজার শহর ও আশপাশের এলাকা। তাই শহর রক্ষায় এসব স্থানে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ না দিলে বড় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। গাছগুলো রক্ষা করতে হলে জিও ব্যাগ দিয়ে বাঁধ তৈরি করা দরকার।

Share





Related News

Comments are Closed