Main Menu

আগের ফ্যাসিস্ট সরকারের পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: শফিকুর রহমান

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন যে, বর্তমান সরকার বিগত ‘ফ্যাসিস্ট’ সরকারের পথেই হাঁটছে। একইসঙ্গে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, জনগণের ন্যায্য দাবির প্রতি সরকার যদি উদাসীন থাকে, তবে আগামীতে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের উদ্যোগে আয়োজিত ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শফিকুর রহমান বলেন, ‘আগের ফ্যাসিস্ট সরকার যে রাস্তা ধরে হেঁটেছে, এই সরকারও বর্তমানে একই রাস্তা ধরে হাঁটছে।’

দেশের বর্তমান পরিস্থিতির কঠোর সমালোচনা করে জামায়াত আমির বলেন, সারা দেশে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট চরমে পৌঁছেছে, জ্বালানি সরবরাহে মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেবা না পেলেও সাধারণ মানুষকে নিয়মিত বিল পরিশোধ করতে হচ্ছে। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দুর্নীতি ও সামাজিক অস্থিরতা।

বর্তমান পরিস্থিতিকে জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সাংঘর্ষিক উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের ঘোষিত ছয় দফা কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের দাবি নয়; বরং এটি দেশের ১৮ কোটি মানুষের দাবি।

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের আগে সরকার ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দল গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের রায় বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচনের পর ছয় মাস অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন হয়নি। গণভোটে প্রায় ৭০ শতাংশ মানুষের মতামতকে উপেক্ষা করা হচ্ছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘এভাবে জনগণের রায়কে অস্বীকার করা তাদের প্রতি অপমান ও বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়রের উদাহরণ টেনে শফিকুর রহমান বলেন, ‘নির্বাচিত কোনো প্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও যদি তিনি নিজের ইচ্ছামতো দায়িত্বে বহাল থাকতে চান, তবে সেটি সুশাসন নাকি ফ্যাসিবাদ—সেই প্রশ্নের উত্তর সরকারকে দিতে হবে।’

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জনগণ যাকে নির্বাচিত করবে, তাকেই দায়িত্ব দিতে হবে; আর জনগণ যদি অন্য কাউকে বেছে নেয়, সেই সিদ্ধান্তও মেনে নিতে হবে।’

সরকারকে সতর্ক করে জামায়াত আমির বলেন, তাদের এই আন্দোলন কাউকে ক্ষমতা থেকে সরানোর জন্য নয়, বরং জনগণের দাবি আদায়ের জন্য। তবে সরকার যদি এমন পরিস্থিতি তৈরি করে যে তাদের সরে যেতে হয়, তবে বিরোধী দলগুলো বসে থাকবে না। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, ‘কোনো টোপের দিকে আমরা চোখ তুলেও তাকাব না।’

ঢাকা থেকে সকাল ৭টায় শুরু হওয়া এই লংমার্চে পথে পথে মানুষের অংশগ্রহণের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজকের এই কর্মসূচিকে সরকারের জন্য চূড়ান্ত সতর্কবার্তা হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। তিনি আরও বলেন, ‘আজকের লংমার্চ এভাবে শেষ হচ্ছে, কিন্তু ভবিষ্যতের লংমার্চ আর এভাবে হবে না।’

বক্তব্যের শেষে তিনি প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘আমরা থামব না। এই লড়াই চলবে এবং বাংলাদেশ ইনশাআল্লাহ বদলাবে।’

Share





Related News

Comments are Closed