সিলেটে দুটি বালুমহালের ইজারা নিয়ে নাটকীয়তা
বিশেষ প্রতিনিধি: সিলেট জেলার কুইটুক ও পেশনেওয়াজ নামের দুটি বালুমহাল ইজারা নিয়ে নানা জঠিলতা ও নাটকীয়তা শুরু হয়েছে। বুধবার (১৮ মে) সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত ইজারার টেন্ডারবক্স খোলা হয়নি। ওপেন টেন্ডার না হওয়ায় টেন্ডারে অংশগ্রহনকারী ইজারাদার টেন্ডার বর্জন করে চলে গেছেন। ফলে সরকার রাজস্ব আয় থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
জানা গেছে, সিলেট জেলাধীন কুইটুক ও পেশনেওয়াজ বালুমহাল ইজারা গ্রহনের জন্য গতবছরের (২০১৫ সালে) ২ মার্চ টেন্ডার দেয়া হয়। বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী ইজারাদার মো. মশউদ আহমদ সর্বোচ্চ দরদাতা হয়ে টেন্ডারে অংশ নেন এবং জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে ৩০ লাখ টাকার পে-অর্ডার দাখিল করেন। জেলা বালুমহাল ইজারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় তার নামে ইজারা প্রদানের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পাশাপাশি বালুমহাল দুটিতে থাকা রীট নিষ্পত্তি করাতে তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। মো. মশউদ আহমদ হাইকোর্টে বালুমহালের বিরুদ্ধে থাকা দুইটি রীটে পক্ষভুক্ত হয়ে রীট দুটি খারিজ করান। কিন্তু পরবর্তীতে বালুমহাল দুটি তার নামে ইজারা না দেয়ায় মো. মশউদ আহমদ হাইকোর্টে রিট পিটিশন ৬৯৫৪/১৫ দাখিল করেন। রিটের প্রেক্ষিতে গতবছরের (২০১৫ সালে) ২৯ জুন সিলেটের জেলা প্রশাসক বরাবরে রুল জারী করা হয় এবং ১৫দিনের মধ্যে ইজারার কার্যক্রম গ্রহন করতে আদেশ দেয়া হয়। কিন্তু জেলা প্রশাসন রুলের নিষ্পত্তি না করে ফের বালুমহার দুটি ইজারা প্রদানের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মো. মশউদ আহমদ আবারো হাইকোর্টে রিট (নং-৮৬১৫/১৫) করেন। এতে বালুমহাল দুটি ইজারা প্রদানে হাইকোর্ট ৬ মাসের স্থগিতাদেশ জারী করেন এবং পরবর্তীতে তা আরো একবছর বৃদ্ধি করা হয়। তা সত্বেও জেলা প্রশাসন বালুমহাল দুটি ইজারা দেয়ার বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। ফলে মশউদ আহমদ দুটি রিট পিটিশনের (নং-৩৯২০/১২ ও ৩৯২২/১২) পক্ষভুক্ত হয়ে তার অনুকুলে ইজারা প্রদানের আদেশ প্রাপ্ত হন। আদেশ মোতাবেক জেলা প্রশাসন তাকে ইজারা গ্রহনের লিখিত অনুরোধ জানান। হাইকোর্টের আদেশ ও জেলা প্রশাসনের দেয়া পত্র মোতাবেক মশউদ আহমদ ওই দুই বালুমহালের ইজারা টেন্ডারে অংশ নিয়ে যথারীতি দরপত্র দাখিল করেন। বুধবার (১৮ মে) ছিল টেন্ডার ড্রপের নির্ধারিত তারিখ। ওই দিন একমাত্র দরদাতা মো.মশউদ আহমদ সশরীরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হাজির হয়ে সন্ধ্যে ৬টা পর্যন্ত অপেক্ষা করেন । কিন্তু অজ্ঞাত কারনে টেন্ডারবাক্স খোলা হয়নি এবং দরপত্র গ্রহনও করা হয়নি। দীর্ঘ অপেক্ষার পর তিনি ইজারা কার্যক্রম বন্ধের লিখিত আবেদন দাখিল করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ত্যাগ করেন।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের রেভিনিউ ডেপুটি কালেক্টর ও জেলা বালুমহাল ইজারা ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহর সাথে বুধবার রাত ৮টায় মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি মোবাইল ফোন রিসিভ করেননি।
Related News
জৈন্তাপুরে প্রাইভেটকার-পিকআপের সংঘর্ষ, আহত ৩
Manual7 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার তামাবিল মহাসড়কে প্রাইভেটকার ও গরুবাহী পিকআপেরRead More
কোম্পানীগঞ্জে দুর্বৃক্তদের হামলায় শ্রমিক নেতার মৃত্যু
Manual5 Ad Code বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে দুর্বৃত্তের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এমএজি ওসমানীRead More



Comments are Closed