Main Menu

ভোলায় সন্তানের সামনে গৃহবধূকে পালাক্রমে ধর্ষণ, গ্রেফতার ১

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় দুই সন্তানের সামনে গৃহবধূকে রাতভর পালাক্রমে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। পরে ধর্ষণকারীরা স্বর্ণালংকার সহ মালমাল লুট করে নিয়ে যায়। এসময় ওই গৃহবধূর পিতা বাঁধা দিলে কুপিয়ে জখম করা হয়।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকালে ওই গৃহবধূ থানায় প্রধান আসামী মিরাজসহ অজ্ঞাতনামা ৩-৪ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

পরে পুলিশ মামলার প্রধান আসামী মিরাজকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে ভোলা জেল হাজতে প্রেরণ করে।

মামলার প্রধান আসামী গ্রেফতারকৃত মিরাজ হাজিরহাট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা কামালের ছেলে।

এর আগে গত শুক্রবার (১০ এপ্রিল) দিবাগত রাত ১টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ২ নং ওয়ার্ডে ওই গৃহবধূর বাড়িতে এই নির্মম পাশবিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে।

পরে রোববার (১২ এপ্রিল) রাত ১০ টায় ফের আটককৃত মিরাজের নেতৃত্বে সংঘবদ্ধ ৩-৪ জনের দলটি ওই গৃহবধূকে ধর্ষণের জন্য গেলে ওই গৃহবধূর পিতা বাঁধা দেয়। পরে সংঘবদ্ধ চক্রটি পিতাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগীর স্বামী চর এলাকায় মহিষ পালনের কাজ করেন এবং সেখানেই রাত্রিযাপন করেন। বাড়িতে দুই সন্তানসহ একাই থাকতেন ওই গৃহবধূ। গত ১০ এপ্রিল দিবাগত রাত ১টার দিকে মিরাজসহ ৩-৪ জন দুর্বৃত্ত প্রথমে সিঁদ কেটে ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে। ব্যর্থ হয়ে তারা ঘরের দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। এরপর ১০ বছরের শিশুকন্যার সামনেই গৃহবধূর মুখ চেপে ধরে তাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে। যাওয়ার সময় তারা স্বর্ণালংকার ও মোবাইল ফোন লুট করে নিয়ে যায়।
​
​ঘটনার পর অপরাধীদের ধরতে ওঁত পেতে ছিলেন ভুক্তভোগীর বাবা। ১২ এপ্রিল দিবাগত রাতে অভিযুক্তরা আবারও ওই বাড়ির কাছে এলে তিনি মিরাজকে চিনে ফেলেন এবং ধরার চেষ্টা করেন। এসময় মিরাজ তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে পালিয়ে যায়। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য নোয়াখালী পাঠায়।
​
​মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফরিদ উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান,​ ভুক্তভোগী নারী নিজে বাদী হয়ে মিরাজসহ অজ্ঞাতনামা তিন চার জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন। মামলার পরপরই আমরা প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছি। ভুক্তভোগীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ভোলা ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। এই ঘটনার সাথে জড়িত বাকিদের ধরতেও আমাদের অভিযান অব্যাহত আছে।

Share





Related News

Comments are Closed