রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায় বিক্ষোভে করেছে শত শত শিক্ষার্থী। তাদের অভিযোগ, সরকারের বিভিন্ন নীতি দেশটিকে দেউলিয়ার পথে ঠেলে দিচ্ছে।
সরকারের অপচয়মূলক ব্যয় বন্ধের দাবিতে স্থানীয় সময় গত শুক্রবার (১২ জুন) শিক্ষার্থীরা জাকার্তার বিভিন্ন সড়কে সমবেত হয়ে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।
বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিক্ষোভকালে দুর্নীতির অভিযোগে সমালোচিত বিনামূল্যে খাদ্য বিতরণের ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি বাতিলের দাবি জানান তারা। ওই কর্মসূচি নিয়ে খাদ্যে বিষক্রিয়া এবং দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় জ্বালানির দাম বাড়ানোর ব্যাপারে সরকারি সিদ্ধান্তেরও প্রতিবাদ জানান শিক্ষার্থীরা। তাদের মতে, এ সিদ্ধান্তে মধ্যবিত্তরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
সরকারের কথিত অব্যবস্থাপনা নিয়ে কয়েক মাস ধরে ইন্দোনেশিয়াজুড়ে অসন্তোষ বাড়ছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি দেশটির মুদ্রার মানও কমে গেছে।
বিক্ষোভ থেকে পুলিশ কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী জাকি বলেন, ‘জ্বালানির দাম বাড়ছে, আমাদের জীবনযাপনের ব্যয় বহন করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের কণ্ঠস্বরকে কেন ভয় পান? সরকার বলে, সংবিধানে বিক্ষোভের অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে, অথচ বাস্তবে সেটি মানা হয় না।’
এরই মধ্যে বিক্ষোভের বিভিন্ন ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। তাতে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীরা জাকার্তার সুপরিচিত হোটেল ইন্দোনেশিয়া রাউন্ডঅ্যাবাউটের দিকে অগ্রসর হলে পুলিশ ব্যারিকেড দিয়ে তাদের থামানোর চেষ্টা করছে।
বিবিসি ইন্দোনেশিয়ার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, পরে কয়েকজন বিক্ষোভকারী পুলি ব্যারিকেড ভেঙে করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাক্কাধাক্কি হয়। তবে এ বিক্ষোভে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়াও বিক্ষোভকারীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘হ্যাশট্যাগ মেনুজুইন্দোনেশিয়াব্যাংকরাপ্ট’ হ্যাশট্যাগ ব্যবহার করেন, যার অর্থ ‘দেউলিয়া হওয়ার পথে ইন্দোনেশিয়া’।
এর ফলে গত বছরের আগস্টে সরকারবিরোধী বিক্ষোভের এক বছরেরও কম সময়ের মধ্যে আবারও দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ হলো। সে সময় এক ডেলিভারি রাইডারের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে অভিজাত শাসনব্যবস্থা ও রাষ্ট্রীয় অব্যবস্থাপনার অভিযোগে জণগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছিল।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে ইন্দোনেশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি কোম্পানি পার্তামিনা বহুল ব্যবহৃত দুটি জ্বালানির দাম ৩০ শতাংশের বেশি বাড়িয়েছে। পার্তামাক্স নামে পরিচিত এসব জ্বালানির দাম দীর্ঘদিন স্থিতিশীল ছিল। বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, বর্তমানে প্রাবোও সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচি, বিশেষ করে ‘ফ্রি মিল’ কর্মসূচি রাষ্ট্রীয় বাজেটের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।
ফ্রি মিলস কর্মসূচি প্রাবোও সরকারর রাজনৈতিক ইশতেহারের কেন্দ্রবিন্দু। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারণায় এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।
প্রতি বছর প্রায় ২৮ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের এই কর্মসূচির লক্ষ্য শিশুদের অপুষ্টি দূর করা, শিক্ষার মান উন্নয়ন এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করা। সরকারি কর্মকর্তারা এটিকে ‘ইন্দোনেশিয়ার ভবিষ্যতের জন্য বিনিয়োগ’ বলে বর্ণনা করেছেন।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী রিনা বলেন, ‘শুরু থেকে এই কর্মসূচির ব্যাপারে জণগণের স্পষ্ট ধারণা ছিল না।’
তিনি বলেন, ‘ফ্রি মিল কর্মসূচির খাদ্যে বিষক্রিয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া এ কর্মসূচিতে সংশ্ষ্টিদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগও উঠেছে। জনগণ দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিতে বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। কিন্তু সরকার বহুদিন দরে সেই দাবি উপেক্ষা করে আসছে।’
এদিকে, গত সপ্তাহে গণহারে খাদ্যে বিষক্রিয়া ও দুর্নীতির অভিযোগের পর ফ্রি মিল কর্মসূচির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার প্রধানকে বরখাস্ত করেন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তো।
Related News
রাষ্ট্রীয় ব্যয় ও জ্বালানির মূল্য বৃদ্ধির প্রতিবাদে ইন্দোনেশিয়ায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
Manual1 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রীয় ব্যয় এবং জ্বালানির দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদে রাজধানী জাকার্তায়Read More
সৌদিতে থাকতে হলে মানতে হবে নতুন নিয়ম
Manual1 Ad Code আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবে বসবাসরত প্রিমিয়াম রেসিডেন্সি (অনূর্ধ্ব বা স্থায়ী বিশেষ আবাসনRead More



Comments are Closed