প্রেমিকের খোঁজে কক্সবাজার গিয়ে ধর্ষণের শিকার, বাড়ি ফিরে আত্মহত্যা
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে চট্টগ্রাম থেকে এক বান্ধবীকে নিয়ে কক্সবাজারে ছুটে গিয়েছিল দশম শ্রেণির স্কুল শিক্ষার্থী সামিহা আফরিন মৌ (১৬)। কিন্তু প্রতারক সেই প্রেমিক মৌর সঙ্গে দেখা করলেন না। সেখানে তার অসহায়ত্বের সুযোগ নিয়ে একটি হোটেলে তোলে সেখানকার টমটম চালক। হোটেলে ধর্ষণের শিকার হয় মেয়েটি।
পরদিন মৌকে চট্টগ্রামের বাসে তুলে দেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে বকাঝকা করে। আর এসব ঘটনা সহ্য করতে না পেরে শেষ পর্যন্ত শুক্রবার (৩ জুন) সকালে নিজের ঘরে ফ্যানের সঙ্গে ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় মেয়েটি।
নগরের বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন টেপটাইল এলাকায় পরিবারের সঙ্গে থাকত মৌ। আত্মহত্যার আগে একটি সুইসাইড নোটও লিখে যায় সে। তাতে ঘটনার শিকার হওয়া ও নিজের অসহায়ত্বের চিত্র তুলে ধরে সে। মৌ ওই এলাকার নুর আলমের মেয়ে। সে ডা. মাজহারুল হক উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী।
মৌর প্রেম, ধর্ষণের শিকার হওয়া ও আত্মহত্যার বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন তার বোন মুক্তা আকতার। তিনি জানান, বায়েজিদ বোস্তামীর টেপটাইল এলাকায় ফুলকলি মিষ্টি কারখানার পাশেই তাদের বাসা। সেই কারখানায় কাজ করত জিসান নামে এক যুবক। তার সঙ্গে মৌয়ের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছেলেটির বাড়ি চট্টগ্রামের বাঁশখালী বলে শুনেছি। সেই ছেলে এক সময় চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারে চলে গেলেও মৌয়ের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। কাউকে না জানিয়ে ৩১ মে মৌ তার স্কুল বান্ধবী মাহমুদা মুক্তাকে নিয়ে ওই ছেলের সঙ্গে দেখা করতে কক্সবাজারে যান। সেখানে যাওয়ার পর জিসান মৌয়ের সঙ্গে দেখা করতে অস্বীকৃতি জানায়। মৌ টমটম নিয়ে তাকে খুঁজতে থাকে। শেষ পর্যন্ত খোঁজ পায়নি সে। এক পর্যায়ে সঙ্গে যাওয়া বান্ধবী চট্টগ্রামে ফিরে আসে। আর এই সুযোগটি নেয় টমটম চালক রুবেল (২২)। সে রাতে মৌকে একটি হোটেলে রেখে ধর্ষণ করে। পরদিন ১ জুন মৌকে সে চট্টগ্রামের একটি বাসে তুলে দেয়। বাড়িতে ফিরে শুক্রবার সকালে আত্মহত্যা করে মৌ। মৌ ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় যারা প্ররোচনা দিয়েছে তাদের শাস্তি দাবি করেন মুক্তা আকতার।
চট্টগ্রামের বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি মো. কামরুজ্জামান বলেন, ‘বায়েজিদ নগর আবাসিক এলাকার একটি ভবন থেকে ওই শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ওই শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে।’
একই প্রসঙ্গে কক্সবাজা সদর থানার ওসি শেখ মুনীর-উল গিয়াস বলেন, গত ১ জুন মেয়েটিকে খুঁজতে তার স্বজনরা কক্সবাজারে এসেছিলেন। যে বান্ধবীকে নিয়ে সে কক্সবাজারে এসেছিল তাকে নিয়ে আমরা সারাদিন কক্সবাজারে খুঁজেছি, কিন্তু পাইনি। রাতে পরিবারের পক্ষ থেকে আমাদের জানানো হয়েছে, মেয়েটি ঘরে ফিরে গেছে। আজকে (শুক্রবার) আমাকে ফোন করে জানানো হলো মেয়েটি আত্মহত্যা করেছে। ধর্ষিত হওয়ার বিষয়টিও জানানো হয়েছে। আমরা বলেছি, ময়নাতদন্তে এই ধরনের কোনো আলামত মিললে আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। টমটম চালক রুবেলকেও খোজা হচ্ছে।- খবর সমকালের।
Related News
বিশ্ব স্ট্রোক দিবসে এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রামের র্যালি
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: বন্দরনগরীর সর্ববৃহৎ হাসপাতাল এভারকেয়ার হসপিটাল চট্টগ্রাম বিশ্ব স্ট্রোক দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবারRead More
সীতাকুণ্ডে বাস-লরির সংঘর্ষে নিহত ৫
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে বাসের সঙ্গে লরির সংঘর্ষে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এRead More



Comments are Closed