Main Menu

টেকনাফে পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: কক্সবাজারের টেকনাফে গহিন পাহাড় থেকে তিন যুবকের গলা কাটা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) সকাল ৯টার দিকে বাহারছড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর শীলখালী এলাকার পাহাড় থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

Manual1 Ad Code

বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুর্জয় বিশ্বাস বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন।

নিহতরা হলেন- টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের শীলখালী গ্রামের নুরুল কবিরের ছেলে মুজিবুর রহমান (৩৫), রুহুল আমিনের ছেলে আমিনুল ইসলাম রবি (২০) এবং মৃত নুরুল ইসলামের ছেলে নুরুল বশর ওরফে কালানি (২৫)।

Manual4 Ad Code

বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য হুমায়ুন কাদের জানান, মঙ্গলবার সকালে শীলখালী পাহাড় সংলগ্ন এলাকা থেকে তিনটি গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ধারণা করা হচ্ছে, রাতে অথবা ভোরের দিকে তাদের অপহরণ করা হয়েছিল। নিহতদের মধ্যে একজন তার আত্মীয় বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া আরও দুইজন নিখোঁজ রয়েছে, তাদের খোঁজ চলছে।

Manual2 Ad Code

প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত দ্বন্দ্বের জেরে তাদের হত্যা করা হয়েছে।

পুলিশ বলছে, নিহতরা চিহ্নিত ডাকাত ও মানবপাচারকারী চক্রের সদস্য হতে পারেন। তবে বিষয়টি তদন্তাধীন।

পুলিশ জানায়, উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে একজন ঘটনাস্থলেই মারা যান। গুরুতর আহত অবস্থায় অপর দুজনকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথে তাদের মৃত্যু হয়। নিহতদের মুখমণ্ডল ও শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ উদঘাটনে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দুজয় বিশ্বাস গণমাধ্যমকে বলেন, ভাগবাটোয়ারা সংক্রান্ত অন্তঃদ্বন্দ্বে এ হত্যাকাণ্ড ঘটতে পারে বলে ধারণা করছি। এর পেছনে মানবপাচার ও অপহরণের সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে।

তিনি জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল ৮টার দিকে শাহেনা আক্তার নামে এক নারী তার স্বামী নুরুল বশর ওরফে কালানির খোঁজে বের হয়ে পাহাড়ের ভেতরে রক্তাক্ত অবস্থায় তিনজনকে পড়ে থাকতে দেখেন। পরে স্থানীয়দের মাধ্যমে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, নিহতদের মধ্যে অন্তত দুজন মানবপাচার ও অপহরণে জড়িত ছিলেন। বিষয়টি এলাকায় প্রকাশ্য থাকলেও ভয়ের কারণে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতেন না।

স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বাহারছড়ার পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে সশস্ত্র অপহরণ ও মানবপাচারকারী চক্র সক্রিয় রয়েছে। এসব চক্রের ভয়ে অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ আতঙ্কে বসবাস করছে।

স্থানীয় বেলাল উদ্দিন গণমাধ্যমকে বলেন, আমাদের এলাকার একপাশে সমুদ্র, অন্যপাশে পাহাড়। অপহরণ ও মানবপাচারকারী চক্রের কারণে সন্ধ্যার পর কেউ ঘর থেকে বের হতে পারে না। বহুবার প্রশাসনিকভাবে অভিযোগ করেও কার্যকর সমাধান পাওয়া যায়নি। নিয়মিত চিরুনি অভিযান জরুরি।

নিহত আমিনুল ইসলাম রবির বাবা রুহুল আমিন গণমাধ্যমকে বলেন, রাতে মুজিব আমার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায়। সকালে পাহাড়ে লাশ পড়ে থাকার খবর পেয়ে গিয়ে ছেলেকে রক্তাক্ত অবস্থায় পাই। কেন এমন হলো, বুঝতে পারছি না।

টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, নিহতদের বিরুদ্ধে এসব কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ততার অভিযোগ রয়েছে। তবে তদন্তের মাধ্যমে সবকিছু যাচাই করা হচ্ছে।

 

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code