Main Menu

সিলেটে বন্যায় ক্ষতি ১১০০ কোটি টাকা, বেশি ক্ষতি সড়ক, কৃষি ও মাছের

Manual5 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সড়ক, কৃষি ও মাছের। এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গবাদিপশু ও গ্রামীণ অবকাঠামোরও ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ১১০০ কোটি টাকার মতো। তবে ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

গত ১১ মে থেকে সিলেটে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এখন পানি কমে এলেও সিলেটের বিভিন্ন উপজেলার অনেকাংশ এখনও প্লাবিত অবস্থায় রয়েছে।

Manual3 Ad Code

পানি কমতে শুরু করার সঙ্গে সঙ্গে বন্যায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে শুরু করেছে সংশ্লিষ্ট দপ্তর।

সিলেট জেলা প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাবে, বন্যায় জেলায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে। আর সিটি করপোরেশনের হিসাবে নগরে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা।

সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক হিসাব করে জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ে জমা দিয়েছে। জেলা প্রশাসনে জমা দেয়া এসব তথ্য থেকে ক্ষয়ক্ষতির একটি প্রাথমিক চিত্র পাওয়া যায়।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের দেয়া হিসাবে, জেলায় বন্যায় ১ হাজার ৭০৪ হেক্টর জমির বোরো, ১ হাজার ৬০০ হেক্টর জমির আউশের বীজতলা ও ১ হাজার ৪৭১ হেক্টর জমির গ্রীষ্মকালীন সবজি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

সব মিলিয়ে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ৪০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সিলেটের উপপরিচালক মো. কাজী মজিবর রহমান।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসাবে সিলেটে নদীরক্ষা বাঁধ রয়েছে ৫২টি। এর দৈর্ঘ্য ১৫ হাজার ৯০০ মিটার। বন্যায় ৩৮টি বাঁধের ২৮ দশমিক ৬০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

Manual8 Ad Code

ভেঙে যাওয়া বাঁধ সংস্কারের পাশপাশি সবগুলো বাঁধ উঁচু করার সুপারিশ করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আসিফ আহমদ।

বন্যায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হয়েছে সড়কের। সিলেট নগর ও জেলার ১৩টি উপজেলার সড়ক ও রাস্তা পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় এ খাতে প্রায় ৪০৩ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে।

এর মধ্যে সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) ৭২ কিলোমিটার সড়ক ভেঙে গেছে। সওজ সিলেট কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মুস্তাফিজুর রহমান জানান, ভেঙে যাওয়া সড়কগুলো জরুরি মেরামতের জন্য ৫ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন। আর স্থায়ী মেরামতের জন্য প্রয়োজন ৭৫ কোটি টাকা।

এদিকে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) ক্ষতিগ্রস্ত সড়কের সংখ্যা ১২০টি। বন্যায় এসব সড়কের প্রায় ২৭৮ কিলোমিটার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২৮টি। টাকার অঙ্কে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ২৪৮ কোটি টাকা বলে জানিয়েছেন এলজিইডির কর্মকর্তারা।

Manual5 Ad Code

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান জানান, সিসিকের ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ১৪টি ওয়ার্ডের প্রায় ২৫০ কিলোমিটার সড়ক বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ছাড়া কুশিঘাটের ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্টের রিটেইংনিং দেয়ালের মাটি সরে গেছে। নদীপাড়ে ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই অবস্থা ট্রাক টার্মিনালেও। সিসিকের পাম্প হাউস ডুবে প্লাস্টার নষ্ট হয়েছে।

সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ শত কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এখনও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করছি। প্রতি ওয়ার্ডে গিয়ে ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। আগামী সপ্তাহে নিশ্চিত হওয়া যাবে।’

Manual2 Ad Code

বন্যায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সিলেটের মৎস্য খাতও। জেলা মৎস্য অফিসের হিসাবে, পানিতে ১৮ হাজার ৭৪৯টি পুকুর, দিঘি, খামারের মাছ ভেসে গেছে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত মৎস্যজীবীর সংখ্যা ১৫ হাজার ১৬৩ জন। ভেসে গেছে ২ হাজার ৩০৫ টন মাছ, ২ দশমিক ১৩ টন পোনা। এ ছাড়া খামারের অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে প্রায় দেড় কোটি টাকার। সব মিলিয়ে বন্যায় এখানে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ২২ কোটি টাকা।

এ ছাড়া গবাদিপশু, খড়-ঘাসসহ এ খাতে মোট ক্ষতির পরিমাণ ১ কোটি ৩৭ লাখ ৯৩ হাজার ১৭০ টাকা।

পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের ১১ হাজার ৬৪০টি নলকূপ, ক্ষতিগ্রস্ত ল্যাট্রিনের সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ৪১৫টি। ৬ হাজার ৫০০ মিটার পানি সরবরাহের লাইন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে তাদের ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ জানা যায়নি।

জেলা প্রশাসকের কার্যালয় সূত্রে আরও জানা যায়, জেলার ছয় শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ডুবে প্রাথমিকে ১ কোটি ৫১ লাখ ৮৪ হাজার টাকা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিকে ৩ কোটি ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার অবকাঠামোগত ক্ষতি হয়েছে।

এ ছাড়া বন্যায় সিলেটের গ্রামীণ অবকাঠামোর বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। পানিতে ভেঙে গেছে অনেক কাঁচা ঘরবাড়ি। তবে এই ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরূপণ করা যায়নি।

অন্য দিকে নগরের সুরমার তীরঘেঁষা কাজিরবাজার এলাকায় রয়েছে অর্ধশতাধিক অটো রাইস মিল। বন্যার পানিতে এসব রাইস মিলের গুদামে পানি উঠে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। পানি উঠে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েন সিলেটের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার কালীঘাটের ব্যবসায়ীরা। তাদের ক্ষতির পরিমাণ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এ প্রসঙ্গে সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, ‘সিলেটে ক্ষয়ক্ষতির তালিকা আমরা করছি। সব মিলিয়ে ক্ষতির পরিমাণ এক হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করছি। কীভাবে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা যায় সেটা নিয়েও আলোচনা চলছে।’

গত ২১ মে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জে বন্যাকবলিত এলাকা পরিদর্শনে এসে সিলেট-৪ আসনের সাংসদ ও প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রী ইমরান আহমদ বলেন, পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হবে।

গত ২২ মে সিটি করপোরেশনের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাবিষয়ক এক সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবুল মোমেন দ্রুত সময়ের মধ্যে নগরের প্লাবিত এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক, বাসাবাড়ির তালিকা প্রণয়ন ও করণীয় বিষয়ক বিস্তারিত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code