Main Menu

কমলগঞ্জে অস্বাভাবিক বিদ্যুৎ বিল; চরম ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

Manual7 Ad Code

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি: মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকদের ঘাড়ে চেপেছে ‘অস্বাভাবিক’ বিদ্যুৎ বিলের বোঝা। গত কয়েক মাস ধরে কোনো ধরনের নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে মনগড়া ও কাল্পনিক বিল তৈরির অভিযোগ উঠেছে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের বিরুদ্ধে। এতে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে সাধারণ গ্রাহকদের মাঝে। ভুতুড়ে এই বিল সংশোধন করতে গিয়ে বিদ্যুৎ অফিসে দিনের পর দিন ধরনা দিয়েও মিলছে না প্রতিকার, উল্টো চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে গ্রাহকদের।

ভুক্তভোগী গ্রাহকদের অভিযোগ, বাস্তবে ব্যবহৃত ইউনিটের সাথে বিদ্যুৎ অফিসের তৈরি করা বিলের কোনো মিল নেই। অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, গত মাসের তুলনায় জুন মাসে বিল এসেছে তিন থেকে চার গুণ বেশি।

উপজেলার সদর ইউনিয়ন এলাকার গ্রাহক ইমরান মিয়া ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আমার ছোট একটি দোকানে প্রতি মাসে সাধারণত ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা বিল আসে। কিন্তু এবার কোনো কারণ ছাড়াই জুন মাসে বিল এসেছে ৪ হাজার ৮০০ টাকা! মিটারের রিডিং চেক করে দেখলাম, বিলে অনেক বেশি ইউনিট লিখে রাখা হয়েছে। অফিসে গেলে তারা সমন্বয় করে ১৮০০ টাকার বিল ধরিয়ে দিয়েছে।

ভানুগাছ বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল অদুদ জানান, আমার প্রতিষ্ঠানের বিল পরিশোধ করা থাকলেও জুন মাসের বিলের সাথে ২০২৪ সালের মার্চ মাসের একটি বিল যুক্ত করে দিয়ে দিছে,এখন এ দ্বায়ভার আমার নাকি বিদ্যুৎ অফিসের? এখন আমাকে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ফেলে রেখে বিদ্যুৎ অফিসে ধরনা দিতে হচ্ছে।

Manual5 Ad Code

একই অবস্থা উপজেলার ভানুগাছ, মুন্সিবাজার, পতনঊষার, আলীনগর, মাধবপুরসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের। সাধারণ নিম্নআয়ের মানুষ ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলো এই বাড়তি বিলের বোঝা টানতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছে।

Manual8 Ad Code

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাঠপর্যায়ে গিয়ে মিটারের প্রকৃত রিডিং না দেখেই অফিসে বসে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে এই বিল তৈরি করা হচ্ছে। বিদ্যুৎ বিভাগের রিডাররা নিয়মিত বাড়ি বাড়ি না গিয়ে একবারে কয়েক মাসের রিডিং একসঙ্গে দিয়ে দিচ্ছেন, যার ফলে গ্রাহকরা ‘স্ল্যাব’ (ঝষধন) পরিবর্তনের গ্যাঁড়াকলে পড়ে যাচ্ছেন। বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ একটি নির্দিষ্ট সীমা পার হলেই ইউনিটের দাম বেড়ে যায়, আর মাঠপর্যায়ের কর্মীদের গাফিলতির খেসারত দিতে হচ্ছে সাধারণ গ্রাহককে।

Manual6 Ad Code

অস্বাভাবিক এই বিলের কপি নিয়ে গ্রাহকরা যখন স্থানীয় বিদ্যুৎ অফিসে যাচ্ছেন, তখন সেখানে তাদের পড়তে হচ্ছে আরেক দফায় ভোগান্তিতে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও কোনো সুরাহা মিলছে না। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো গ্রাহককে বিল সংশোধনের নামে হয়রানি করা হচ্ছে এবং ধমক দিয়ে বিদায় করে দেওয়া হচ্ছে। সময়মতো বিল পরিশোধ না করলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন অনেকে।

এ বিষয়ে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডিজিএম রঞ্জন কুমার ঘোষ এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি গ্রাহকদের ভোগান্তির বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, আমাদের সফটওয়্যার পরিবর্তনের কারনে অনেক গ্রাহকেরই সমস্যা হয়েছে, পুরাতন বিল লেজারে উঠে গেছে, এ সমস্যার দ্রুত সমাধান হবে, এছাড়া মিটারে কোনো ত্রুটি বা রিডিংয়ে ভুল হলে তা খতিয়ে দেখে দ্রুত সংশোধনের আশ্বাস দেন। তিনি আরো বলেন, গ্রাহকদের অযথা হয়রানি করার কোনো উদ্দেশ্য নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে আমরা অবশ্যই বিল সংশোধন করে দেব।

এদিকে গ্রাহক হয়রানি ও ভুতুড়ে বিলের সমস্যা দ্রুত সমাধান করে কমলগঞ্জবাসীকে এই চরম ভোগান্তি থেকে রেহাই দিতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগীরা।

Manual8 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code