Main Menu

রাজবাড়ীতে প্রবাসীর স্ত্রীকে একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগ, তরুণ গ্রেপ্তার

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: রাজবাড়ীর পাংশায় এক প্রবাসীর শিশু সন্তানকে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে তাঁর স্ত্রীকে (৩১) একাধিকবার ধর্ষণের অভিযোগে মো. ইকবাল হোসেন মিয়া (২৩) নামের এক তরুণকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

শুক্রবার (৩ জুলাই) পাংশা উপজেলার কলিমহর ইউনিয়নের নাছনা মুরাদপুর গ্রাম থেকে পুলিশ অভিযুক্ত ইকবালকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। সে ওই গ্রামের মো. বুলবুল মিয়ার ছেলে।

এর আগে গত শুক্রবার সকালে ওই গৃহবধু বাদী হয়ে পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে গ্রেপ্তারকৃত তরুণের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। তাকে আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। সে এলাকায় রাজমিস্ত্রীর কাজ করতো।

গৃহবধুর দায়েরকৃত অভিযোগ থেকে জানা যায়, একই গ্রামের বাসিন্দা হওয়ায় গ্রেপ্তারকৃত তরুণ ইকবাল হোসেন দীর্ঘদিন ধরে গৃহবধুর প্রতি কুদৃষ্টি দিয়ে বিভিন্ন অশালিন অঙ্গভঙ্গি করে আসছিল। সর্বশেষ গত ১ জুন বাড়ির সবাই মাঠে কাজে যাওয়ায় প্রবাসীর স্ত্রী ঘরে একাই ছিলেন। এ সুযোগে তরুণ বেলা ১১টার দিকে গৃহবধুর ঘরে ঢুকে একা পেয়ে গৃহবধুর শিশু সন্তানকে অস্ত্রের মতো দেখতে ধাতব বস্তু দিয়ে জিম্মি করে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। এ ঘটনার পর থেকে আবারও নানাভাবে গৃহবধুকে উত্যক্ত করে খারাপ প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে ওই গৃহবধু তাঁর স্বামীসহ শ্বশুর বাড়ির লোকজনকে ঘটনা খুলে বললে সকলের পরামর্শে শুক্রবার (৩ জুলাই) সকাল ৮টার দিকে পাংশা মডেল থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। মামলা দায়েরের পর তাৎক্ষনিকভাবে পুলিশ এলাকার একাটি চায়ের দোকান থেকে তরুণ ইকবাল হোসেন মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। এর আগেও এই তরুণ প্রবাসীর স্ত্রীকে আরও চার থেকে পাঁচবার ভয়ভীতি দেখিয়ে ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ গ্রেপ্তারের পর পুলিশের কাছে স্বীকারও করেছেন।

পাংশা মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ মঈনুল ইসলাম বলেন, প্রবাসীর স্ত্রী শুক্রবার সকালে থানায় অভিযোগ দায়ের করামাত্র এলাকা থেকে অভিযুক্ত তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযুক্ত তরুণ ওই গৃহবধুকে একাধিকবার ধর্ষণের কথা স্বীকার করেছেন। তাকে শুক্রবার বিকেলেই রাজবাড়ীর আদালতে পাঠানো হয়েছে। এছাড়া শনিবার ওই গৃহবধুর ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে।

ওসি আরও বলেন, এ অঞ্চলে পাট খেত বড় হওয়ার সময় ধর্ষণ এবং চুরি-ডাকাতির মতো ঘটনা বৃদ্ধি পায়। এক মাসে একাধিক ধর্ষণের ঘটনায় থানায় মামলা দায়ের হয়েছে। প্রতিটি ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার (৩০ জুন) পাংশা উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের জোনা গ্রামের ঝালমুড়ি বিক্রেতা লুৎফর বিশ্বাস (৫৫) একই গ্রামের প্রথম শ্রেণির এক স্কুল শিক্ষার্থী শিশুকে (৭) ঝালমুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণ করে। শিশুটি বর্তমানে রাজবাড়ী সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে থানায় মামলা দায়ের করলে পুলিশ ওই ঝালমুড়ি বিক্রেতা লুৎফর বিশ্বাসকে (৫৫) গ্রেপ্তার করে। তিনি উপজেলার পাট্টা ইউনিয়নের জোনা গ্রামের মৃত আজাহার বিশ্বাসের ছেলে। তাকে পুলিশ আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠিয়েছে।

 

Share





Related News

Comments are Closed