Main Menu

জাফলংয়ে চলছে বালু-পাথর লুটের মহোৎসব, প্রতীকার দাবি

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার জাফলংয়ে ‘নিষিদ্ধ জোন’ থেকে অবাধে চলছে বালু-পাথর লুট। বালু-পাথর খেকোরা বোমা ও ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকার বালু পাথর লোপাট করে নিয়ে যাচ্ছে। এতে মারাত্মক হুমকির মুখে পড়েছে পরিবেশ। নদী গর্ভে চলে যাচ্ছে অনেক এলাকা। অবৈধ বোমা মেশিনের শব্দে অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন স্থানীয়রা। মাঝে মধ্যে প্রশাসন অভিযান চালালেও তা কাজে আসে না। বালু-পাথরখেকোদের এমন তান্ডব থেকে পর্যটন স্পট জাফলংকে বাঁচাতে সংশ্লিষ্টদের সহযোগিতা কামনা করেছেন স্থানীয় বাসিন্দরা।

শনিবার (১১ সেপ্টেম্বর) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে এলাকাবাসীর পক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে বালু-পাথর লুটপাটের অভিযোগ করেছেন জাফলং নয়াবস্তি গ্রামের বাসিন্দা মো: খোকন মিয়া। এ সময় তিনি চিহিৃত বালু-পাথর খেকো চক্রের সদস্যদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ ও জাফলংকে রক্ষার দাবি জানান।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে খোকন মিয়া বলেন, ৮/৯ বছর আগে জাফলং পর্যটনস্পট, পাথর ও বালু মহালসহ প্রায় ১২ কিলোমিটার এলাকাকে পরিবেশ সংকটাপন্ন বা ইসিএ জোন হিসেবে চিহ্নিত করে ওই এলাকা থেকে বালু ও পাথর উত্তোলনে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন হাইকোর্ট। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্তে¡ও বালু-পাথরখেকো চক্রের সদস্যরা প্রতিদিন অবাধে বালু-পাথর লুট করে নিয়ে যাচ্ছে।

খোকনের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনকে ম্যানেজ করে ইজারা বর্হিভুত এলাকা থেকে প্রতিদিন ১৫-২০ লাখ টাকা করে গত ৩ মাসে প্রায় ১৫ কোটি টাকার বালু-পাথর লুটপাট করা হয়েছে। তাছাড়া প্রতিদিন হাজার হাজার বালুবাহী কার্গো নৌকা চলাচলের কারনে জাফলং ব্রিজ, গোয়াইনঘাট ব্রিজ, সালুটিকর ব্রিজ সহ শত শত কোটি টাকায় নির্মিত সেতু হুমকির মুখে পড়েছে। বালুখেকো চক্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন ডৌবাড়ি এলাকার লামা দোমকা গ্রামের বাসিন্দা সুভাস দাস, লেঙ্গুরা গ্রামের মুজিবুর রহমান, মামার দোকান মেলার মাঠের বাসিন্দা ইমরান হোসেন সুমন ও বিশ্বনাথের ফয়জুল ইসলাম ও আসামপাড়া গ্রামের শামসুল আলম।

খোকন বলেন, গোয়াইনঘাট উপজেলায় কেবলমাত্র সালুটিকর ব্রিজের উজানে গোয়াইন ১১৭ নামের একটি বৈধ বালু মহাল এবার ইজারায় দেওয়া হয়েছে। সালুটিকর ব্রীজের উজানে নন্দিরগাও এলাকায় ওই বালু মহালের অবস্থান। কিন্তু বালুখেকো চক্রটি ইজারা বহির্ভূত এলাকা থেকেও বালু লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা একাধিকবার অভিযান চালালেও বালু উত্তোলন বন্ধ হয়নি। বালুখেকো চক্রটি লিজবহির্ভূত সংরক্ষিত এলাকা থেকে বালু লুটপাট করে পার্শ্ববর্তী জৈন্তাপুরের সারি-১ ও সারি-২ বালু মহালের কাগজ দিয়ে বালুভর্তি কার্গো নৌকা পাচার করছে। তাছাড়া প্রতিটি নৌকা থেকে রয়েলিটিসহ লাইন দেওয়ার নামে বালু ফুট প্রতি ৬ টাকা আদায় করছে। এমনকি ছাতক পর্যন্ত কার্গো বের করে দেওয়ার নামে প্রতি কার্গো থেকে ৫/৬ হাজার টাকা চাদা আদায় করছে।

Manual4 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে খোকন বলেন, চক্রটির বেপরোয়া লুটপাটের কারনে এবং বোমা ও ড্রেজার মেশিনের শব্দে গোটা এলাকায় শব্দ দুষন হচ্ছে। জাফলংয়ের পিয়াইন নদী বাগান এলাকায় অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে জাফলং চা বাগান হুমকির মুখে পড়ে পড়েছে। কান্দুবস্তু ও নয়াবস্তি এলাকাও পড়েছে হুমকির মুখে। ওই দুই গ্রামের বাসিন্দারা ঢল থেকে রক্ষার জন্য যে বাধ দিয়েছিলেন সেটিও বালুখেকোরা লুটেপুটে খেয়ে নিয়েছে। স্থানীয় সাংসদ, প্রবাসী কল্যান ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রী ইমরান আহমদের একান্ত প্রচেষ্ঠায় শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গোয়াইনঘাটবাসীর স্বপ্নের সেতু জাফলং ব্রিজও হুমকির মুখে রয়েছে।

Manual1 Ad Code

খোকন আরও বলেন, জাফলংয়ে বালুখেকো সুভাস দাস, মুজিবুর রহমান, ইমরান হোসেন সুমন, বিশ্বানাথী ফয়জুল ও সামসুল আলম এখন মুর্তিমান ত্রাস। প্রতিদিনই তাদের নিয়োজিত সন্ত্রাসী বাহিনী প্রকাশ্য অস্ত্র নিয়ে মহড়া দেয়। বাইরে থেকে লোকজন নিয়েও মহড়া দেয়। এতে চরম আতঙ্কে স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয়। যেকোনো সময় ওই সিন্ডিকেটের মাধ্যমে খুনোখুনির আশঙ্কা রয়েছে।

Manual3 Ad Code

সংবাদ সম্মেলনে তারা চিহ্নিত বালু খেকো চক্রের কবল থেকে জাফলং নয়াবস্তি, কান্দুবস্তি, জাফলং চা বাগান, জাফলং ব্রিজ রক্ষার জন্য ব্যবস্থা নিতে প্রধানমন্ত্রী, স্থানীয় সাংসদ, বিভাগীয় প্রশাসন, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্টদের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

এসময় উপস্থিত ছিলেন, লাখেরপাড় গ্রামের বাসিন্দা মো. তাজুল ইসলাম, নুরুল আমীন, নয়াবস্তি গ্রামের বাসিন্দা সুমন আহমদ ও জাফলং বস্তির বাসিন্দা ফয়জুল ইসলাম।

 

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual3 Ad Code