Main Menu

সিলেটের ৫ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত, পানি বাড়ছে

Manual6 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: গত তিনদিনের টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে ঢল নামা অব্যাহত থাকায় সিলেট সদর, গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, কানাইঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এই ৫ উপজেলার উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় ভেঙ্গে পড়েছে যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন কয়েক লক্ষাধিক মানুষ। সুরমা-কুশিয়ারাসহ সিলেটের সবকটি নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতির আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Manual2 Ad Code

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জ ও সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপদসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এছাড়া সারিঘাট পয়েন্টে সারি নদীর পানিও প্রবাহিত হচ্ছে বিপদসীমার উপর দিয়ে। শুক্রবার থেকে সুরমা, কুশিয়ারা, সারি ও লোভা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে।

Manual1 Ad Code

বন্যায় সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ, হাটখোলা, খাদিমপাড়া, টুকেরবাজার, মোগলগাঁও ও কান্দিগাঁও ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। বন্যার পানি ওঠেছে এসব এলাকার ঘরবাড়ি, ব্যবসা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে। তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, মাছের খামার, ক্ষেতের ফসল ও বীজতলা।

Manual3 Ad Code

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে গোয়াইনঘাট উপজেলা। উপজেলার অধিকাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় সালুটিকর-গোয়াইনঘাট, সারিঘাট-গোয়াইনঘাট, জাফলং-গোয়াইনঘাটসহ বেশ কয়েকটি সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে, কানাইঘাটের নিম্নাঞ্চলও বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে লক্ষ্মীপ্রসাদ পূর্ব ও লক্ষ্মীপ্রসাদ পশ্চিম ইউনিয়ন।

Manual3 Ad Code

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। ফলে উপজেলার প্রায় সব কয়টি গ্রামীণ সড়ক ও বাজারে পানিতে তলিয়ে গেছে। পাশাপাশি উপজেলার সাথে সবগুলো ইউনিয়নের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।

বৃষ্টি আর পাহাড়ি ঢলে জৈন্তাপুর উপজেলার চার ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ১নং নিজপাট ইউনিয়নের মেঘলী, বন্দরহাটি, লামাপাড়া, ময়নাহাটি, জাঙ্গালহাটি, মজুমদারপাড়া, হর্নি, বাইরাখেল, গোয়াবাড়ী, তিলকৈপাড়া, বড়খেল, ফুলবাড়ী, ডিবিরহাওর, ঘিলাতৈল, হেলিরাই। ২নং জৈন্তাপুর ইউনিয়নের মুক্তাপুর, বিরাইমারা, বিরাইমারা হাওর, লামনীগ্রাম, কাটাখাল, খারুবিল, চাতলারপাড়, ডুলটিরপাড়, ১নং লক্ষীপুর, ২নং লক্ষীপুর, আমবাড়ী, ঝিঙ্গাবাড়ী, নলজুরী হাওর ও শেওলারটুক। ৩নং চারিকাটা ইউনিয়নের বালিদাঁড়া, লালাখাল, রামপ্রসাদ, থুবাং, বাউরভাগ উত্তর, বাউরভাগ দক্ষিণ, পুঞ্জীসহ উপজেলার তিনটি ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

এদিকে উপজেলার নিচু এলাকায় পানি প্রবেশ করে ভোগান্তিতে পড়েছেন এলাকার মানুষ। ডুবে গেছে অনেক রাস্তাঘাট। বিভিন্নস্থানে বিশুদ্ধ পানি ও খাদ্যের অভাব দেখা দিয়েছে। এছাড়া পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির নিম্নাঞ্চলের স্কুল, মাদ্রাসা, মসজিদ এবং বীজতলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আর উপজেলার দিনমজুর ও মৎস্যচাষিরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বেশি।

জৈন্তাপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা নাহিদা পারভীন বলেন, শুক্রবার বিকালে সীমান্তবর্তী ৩টি ইউনিয়নের বন্যায় আটকেপড়া পরিবারগুলোর মধ্যে চেয়ারম্যানদের মাধ্যমে আমরা চাউল ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছি। আজ শনিবার দুপুরে আরও বরাদ্দ এসেছে। আমরা চেষ্টা করছি যত দ্রুত সম্ভব তাদের মাঝে খাবার পৌছে দিব। এছাড়া বন্যায় কোন পরিবার আটকে পড়লে তাঁকে জানালে তাদের জন্য নৌকা ও আশ্রয় কেন্দ্র তৈরি আছে বলে জানান তিনি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code