Main Menu
শিরোনাম
মামাতো ভাইয়ের ‘ধর্ষণে’ মা হলো কিশোরী         সিলেটে একদিনে আরো ৫১ জন শনাক্ত, সুস্থ ৪৬         বালাগঞ্জে পাশবিকতার অভিযোগে প্রবাসী আটক         সিলেটে করোনায় আক্রান্ত বেড়ে ১২,৫৩১, মৃত্যু ২১৬         মাধবপুরে মহাসড়কে ত্রিমুখী সংর্ঘষে নিহত ১         সিলেটের দুই ল্যাবে ৩১ জনের করোনা শনাক্ত         করোনায় মৃতদের লাশ দাফন করছে প্রতিশ্রুতি দাফন টীম         বিশ্বনাথে করোনায় ব্যবসায়ীর মৃত্যু         সিলাম হাজীপুরে মসজিদ নির্মাণের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন         সিলেটের দুই ল্যাবে ১৯ জনের করোনা শনাক্ত         বড়লেখায় ৭ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল         বিশ্বনাথে ইউপি নির্বাচনে ৫ প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল        

মৌলভীবাজারে পানির জারে সবজি চাষে সাফল্য

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: পানি রাখার কাজে ব্যবহৃত প্লাস্টিকের জার নষ্ট হয়ে গেলে সাধারণত এর ঠিকানা হয় আবর্জনার স্তুপে। তবে এমন পরিত্যক্ত জার সংগ্রহ করে তাতে টমেটোসহ বিভিন্ন জাতের মৌসুমী সবজি ফলানো হয়েছে। সেগুলো রেখে দেওয়া হয়েছে বাড়ির বিভিন্ন ফাঁকা স্থানে। ফলে বাড়তি কোনো জায়গাও লাগছে না। তেমন কোনো খরচও নেই। ব্যক্তিগত শ্রম আর উদ্যোগে উৎপাদিত সবজি দিয়ে প্রায় প্রতিদিনের চাহিদা পুরণ হচ্ছে।

মৌলভীবাজার শহরতলীর মোস্তফাপুর ইউনিয়নের হিলালপুরের একটি বাড়িতে প্রায় দেড়শ প্লাস্টিকের বাতিল পানির জারে এভাবে সবজি চাষ করেছেন সালেহ এলাহী। পেশায় সাংবাদিক সালেহ এলাহী মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বাড়িটির পশ্চিমদিকের পুকুর পাড়ে সারি করে রাখা অনেকগুলো পানির জার। এর মধ্যে দাঁড়িয়ে আছে বিভিন্ন ধরণের মৌসুমী সবজির গাছ। এই জারের মধ্যে আছে টমেটো, বেগুন, পেঁয়াজ, মরিচ, ফরাশ, ডাঁটা, লেটুসপাতা ইত্যাদি। বাড়ির পুকুরের দক্ষিণদিকের দুইপাশে জারগুলো সাজিয়ে রাখা হয়েছে। তাতে পুকুরপাড় দিয়ে চলাচলেও কোনো সমস্যা হচ্ছে না।

সালেহ এলাহী জানান, জেলা শহরের বিভিন্ন বাড়ি ও কার্যালয়ে পানি পরিবেশন করে একটি প্রতিষ্ঠান। এ কাজে ব্যবহৃত জার ছিদ্র বা অন্য কারণে নষ্ট হয়ে গেলে সেগুলো তারা বাতিল আবর্জনার স্তুপে জমা করে রাখে। তাদের কাছ থেকে প্লাস্টিকের এই জারগুলো তিনি সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এজন্য কোম্পানিকে কোনো টাকা-পয়সা দিতে হয় না। নষ্ট হওয়া এই জারগুলো এনে তিনি সবজি চাষ করে সফল হয়েছেন।

এভাবে সবজি চাষের পদ্ধতিটাও বেশ সহজ। প্রথমে জারের উপরের দিকে সমান করে কেটে ফেলেন সালেহ এলাহী। এরপর শুকনো গোবর, লাল, সাদা ও কালো জাতের সার মিশিয়ে মাটি প্রস্তুত করা হয়। মাটি প্রস্তুত হওয়ার পর তা জারের মধ্যে ১৫-২০ দিন রেখে দেন। এরপর এই মাটিতে চারা রোপণ করা হয়। গাছে তিনি কোনো ওষুধ ব্যবহার করেন না। কীটনাশকের বিকল্প হিসেবে তাতে ছাই ব্যবহার করেন। খুব সামান্য জৈব সার ব্যবহার করেন। গোবর থাকার কারণে তেমন সার লাগেও না। সবকিছু মিলিয়ে তার ৪ থেকে ৫শ টাকার বেশি খরচ হয়নি। বাকিটা নিজের শ্রম।

সালেহ এলাহী জানান, তিনি এমনিতেই ক্ষেতে সবজি চাষ করেন। কিন্তু ক্ষেতে মাটি শুকাতে সময় লাগে। এ জন্য গ্রীষ্মকালীন সবজিসহ আগাম সবজি চাষ করতে পারেন না। বিকল্প হিসেবে তিনি এই পদ্ধতি বেছে নিয়েছেন।

সালেহ এলাহীর এই সবজি বাগানে ১২৬টি জারে টমেটো লাগানো হয়েছে। এগুলো কলম করা চারা। প্রতিটি জারে দু’টো করে গাছ আছে। ১৬টি জারে আছে বেগুন গাছ। ফলের প্লাস্টিকের ঝুড়ি ও জারে লাগানো হয়েছে পেঁয়াজ। ৬টি ঝুড়ি ও ৫টি জারে লাগানো হয়েছে ১২৪টি পেঁয়াজের গাছ। সেখান থেকে নিয়মিত পেঁয়াজ পাতা সংগ্রহ করা হচ্ছে।

সালেহ এলাহী বলেন, ‘আমি সবসময় সবজি চাষ করি। কিন্তু সবজির জমিতে পানি শুকাতে সময় লাগে। তাছাড়া অগ্রহায়ণ মাসে ধান কাটার পর সবজি রোপণ করতে দেরি হয়ে যায়। এ জন্য প্লাস্টিকের জারে এভাবে চার-পাঁচ বছর ধরে আমি আগাম সবজি চাষ করছি। এতেই আমার নিয়মিত চাহিদা পুরণ হচ্ছে। এই সবজি চাষে আমার শ্রম দেওয়া ছাড়া আর তেমন খরচও নেই। গত আগস্ট মাস থেকে সবজি বাগানের টমেটো খাচ্ছি। এ রকম চাষের পরিমাণ আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা আছে।’

0Shares





Related News

Comments are Closed