Main Menu

নড়াইলের পাট চাষিরা দাম নিয়ে দুঃচিন্তায়

Manual1 Ad Code

নড়াইল সংবাদদাতা: নড়াইলের গ্রামীণ জনপদে পাট কাটা,পচানো এবং ধোঁয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পাট চাষিরা।অনেকে পাটের পাশাপাশি পাটকাটি প্রক্রিয়াজাত করে ঘরে তুলছেন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এ বছর পাটের ভাল ফলন হয়েছে। তবে কৃষকের দাবি প্রতি বছর উৎপাদন খরচ বাড়লে ও বাড়েনি পাটের দাম। এতে কৃষকেরা পাট আবাদে আগ্রহ হারিয়ে ফেলছেন।

নড়াইল লোহাগড়া উপজেলার নোয়াগ্রাম ইউনিয়নের শুলধিয়া গ্রামের মনু মোল্যা। তিনি এ বছর ৬০ শতক জমিতে পাটের আবাদ করেছেন। ৬০ শতক জমিতে পাট চাষ করে ২৫ হাজার টাকা খরচ করেছেন তিনি। প্রথম দিকে পাটের বাজার দর ছিল ৪ হাজার ৫ শত টাকা সেই দর কমে এখন ৩ হাজারে দাড়িয়েছে। পাটের বাজার দর কমে যাওয়ায় অনেকটা হতাশ হয়ে পড়েছেন এ চাষি।

Manual3 Ad Code

মনু মোল্যা বলেন, ” পাট চাষ করে যে টাকা খরচ হয়েছে। সেই তুলানায় দর দাম নাই। বাজার দর যদি না বাড়ে তাহলে আগামী বছর হয়ত পাট চাষ করা হবে না। ”

Manual7 Ad Code

নড়াইল সদর উপজেলার মুলিয়া ইউনিয়নের কোড়গ্রামের দীপক রায়। চিত্রা নদীতে পাট জাগ দিচ্ছেন তিনি। এসময় কথা হয় তার সাথে। তিনি বলেন,,

পাটের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার আর কোন আশা নেই। প্রথম দিকে মন প্রতি ৪ থেকে সাড়ে ৪ হাজার টাকা পাটের দাম ছিল। বর্তমানে সেটি কমে দাড়িয়েছে ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার টাকা। আমরা এখন মাত্র জাগ দিচ্ছি। এই পাট বাছাই করে ধুয়ে, রোদে দিয়ে হাটে নিতে এখনও অনেক সময়। সেই সময় হয়ত ২ থেকে আড়াই হাজার টাকা দাম থাকাবে। আমরা সঠিক দাম পাবো কই। এক জন শ্রমিকের দাম ৫ শত টাকা, ৯ টায় যায় ১ টায় আসে। কয় ঘন্টা কাজ করে? চাষার বাঁচার কোন পথ নেই। এক আটি পাট ঘরে তুলতে ২০ টাকা খরচ হয়ে যায়। ফলন ভাল আছে। বাজার যদি ঠিক না থাকে তাহলে আমাদের বাঁচার আর কোন পথ নেই। ”

মোবারক হোসেন নামে আরেক চাষি বলেন, “মাঠ থেকে এক আটি পাট আনতে ১০ টাকা দিতে হচ্ছে।জমি প্রস্তুত করা, পাট কাটা,পচানো, বাছাই, শুকানো সব মিলে পাটে যে খরচ এ থেকে আমরা লাভবান হতে পারছি না। হাট থেকে পাট বিক্রি করে সেটি আবার শ্রমিকদের দিয়ে দিতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আবেদন পাটের দাম সরকারি ভাবে নির্ধারণ করা হক”।

Manual6 Ad Code

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, চলতি মৌসুমে নড়াইলে ২৩ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে পাট চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে ২৩ হাজার ৫১৭ হেক্টর জমিতে, যা লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ১৭ হেক্টর বেশি। উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি পাটের আবাদ হয়েছে লোহাগড়ায়—১২ হাজার ১৬৫ হেক্টর জমিতে। এ ছাড়া নড়াইল সদর উপজেলায় ৬ হাজার ৯৪২ হেক্টর এবং কালিয়া উপজেলায় ৪ হাজার ৪১০ হেক্টর জমিতে পাটের আবাদ হয়েছে।

জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক, মো.আরিফুর রহমান বলেন, ” এ বছর অনুকূল আবাহাওয়া এবং কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে সময়মত উন্নত মানের বীজ,সার,ও কারিগরি পরামর্শ দেওয়ার কারনে জেলায় পাটের আবাদ ও ফলন ভাল হয়েছে। তবে বাজারে পাটের দাম উঠানামা করছে, যা কৃষকদের উদ্বিগ্ন করছে। পাটের গুনগত মান উন্নয়নে আমরা নিয়মিত পরামর্শ দিয়ে আসছি।

 

Manual1 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code