Main Menu

সিলেটে ট্রিপল মার্ডার: সাত্তার দম্পতির জানাযায় মানুষের ঢল, প্রবাস থেকে এসে অংশ নিলেন ছেলে

Manual8 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: খুন হওয়া সিলেটের প্রবীণ ব্যবসায়ী আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়েছে।

শুক্রবার (১৪ আগস্ট) বাদ আসর সিলেট নগরের ঐতিহাসিক শাহী ঈদগাহ ময়দানে এই দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়। এতে বিপুল সংখ্যক মানুষ অংশ নেন।

জানাযায় যুক্তরাস্ট্র থেকে এসে অংশ নেন এই দম্পতির একমাত্র ছেলে আরিফ ইফতেখার। শুক্রবারই তিনি দেশে আসেন।

জানাযার পূর্বে মুসল্লীদের উদ্দেশে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার বাবা যদি কোন ভুল করে থাকেন আপনারা ক্ষমা করে দেবেন। আর কেউ তার কাছে টাকা পয়সা পাওনা থাকলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।

এরপর পাশপাশি খাটিয়ায় মরদেহ রেখে একসাথে এই দম্পতির জানাযা সম্পন্ন হয়। তার আগে বিকেলে দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে তাদের মরদেহ রায়নগরের বাসা থেকে ঈদগাহ ময়দানে আনা হয়।

জানাযা শেষে তাদের মরদেহ নয়াসড়কস্থ হযরত মানিক পীর (রহ.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে নিয়ে দাফন করা হয়।

Manual4 Ad Code

দাফন ও জানাযায় অংশ নিতে যুক্তরাস্ট্র থেকে এই দম্পতির একমাত্র ছেলে ও এক মেয়ে আজ দেশে ফিরেন। এরআগে বৃহস্পতিবার যুক্তরাজ্য থেকে দেশে ফিরেন দুই মেয়ে।

দাফনের পর এই হত্যাকান্ডর ঘটনায় নিহত দম্পতির ছেলে আজ থানায় মামলা করবেন বলে জানা গেছে।

এর আগে বুধবার (১২ আগস্ট) সকালে রায়নগরে নিজেদের বাসা থেকে আব্দুস সাত্তার (৮২), তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম (৭৬) ও তাদের কাজের মেয়ে তাহমিনার (১৫) গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।

গৃহকর্মী তাহমিনার জানাযা বৃহস্পতিবার রাতে সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজারের গ্রামের বাড়িতে সম্পন্ন হয়।

Manual4 Ad Code

আর বৃহস্পতিবার দেশে ফিরে আব্দুস সাত্তার ও সুরাইয়া বেগম দম্পতির মেয়েরা ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে বাবা-মায়ের মরদেহ গ্রহণ করেন।

নিহত আব্দুস সাত্তারের চার সন্তানের সবাই প্রবাসে বসবাস করেন। তাদের মধ্যে দুই মেয়ে যুক্তরাজ্যে এবং এক মেয়ে ও একমাত্র ছেলে যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন।

উল্লেখ্য, গত বুধবার সকালে রায়নগরের মিতালী এলাকার ১১১ নম্বর বাসায় ঘটে এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড। ঘটনার চার ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশ রহস্য উদঘাটনের দাবি করে। জিজ্ঞাসাবাদে গৃহকর্মী তাহমিনা বেগমের ‘প্রেমিক’ বাবুল মিয়া একাই তিনটি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে বলে স্বীকার করে।

Manual1 Ad Code

পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে তাহমিনার সম্মতিতে বাবুল বাসায় প্রবেশ করে। পরে অনৈতিক প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে দুজনের মধ্যে বিরোধ বাধে। একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে হত্যা করে। তাহমিনার চিৎকারে এগিয়ে আসা গৃহকর্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং পরে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তারকেও একইভাবে হত্যা করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর বাবুল ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে পিছনের বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায় এবং কাছের একটি ঝোপে ছুরিটি ফেলে দেয়। পরে সিসিটিভি ফুটেজের সহায়তায় স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে আটক করা হয় এবং ঝোপঝাড় থেকে ছুরি উদ্ধার করে পুলিশ।

বুধবার সন্ধ্যায় বাবুল মিয়াকে আটকের পর সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার সারোয়ার মুর্শেদ শামীম বলেছিলেন, বাবুল মিয়া ওই বাসার রংমিস্ত্রির কাজ করত, মাঝে মাঝে কসাইয়ের কাজও করত। ওই বাসার গৃহকর্মী তাহমিনার সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে বাবুল ওই বাসায় গিয়ে গৃহকর্মীকে নিয়ে একটি কক্ষে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন নিয়ে কথা কাটাকাটি হয়। এর জেরে একপর্যায়ে বাবুল ছুরি দিয়ে মেয়েটিকে আঘাত করে।

Manual2 Ad Code

তিনি বলেন, শব্দ পেয়ে আব্দুস সাত্তারের স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। তাদের চিৎকার শুনে গৃহকর্তা আব্দুস সাত্তার এগিয়ে আসেন। তখন তাকেও ছুরি মেরে হত্যা করে বাবুল। পরে সে বারান্দা দিয়ে পালিয়ে যায়।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code