Main Menu

নির্বাচনী এজেন্ডা থাকলে সংলাপে যাবে ঐক্যফ্রন্ট: ফখরুল

Manual7 Ad Code

বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি অত্যন্ত কলঙ্কিত অধ্যায় বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
সোমবার (১৪ জানুয়ারি) দুপুরে সিলেটের হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজার জিয়ারত শেষে এমন মন্তব্য করেন বিএনপি মহাসচিব।
এসময় তিনি বলেন, দখলদারি সরকার বাংলাদেশের জনগণের অধিকারকে হরণ করে নিয়ে গেছে এবং তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মতো ডাকাতি করে নিয়ে গেছে।
তিনি আরো বলেন, সারা দেশেই সকলের চোখে-মুখে একটা শোকের চিত্র ফুটে উঠেছে। এর কারণ জনগণ তাদের অধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি।
প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে সংলাপের আহবানের বিষয়ে ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘এই সংলাপের আহবান কে করেছেন আমি জানি না। কিন্তু এইটুকু বুঝি যে, এই সংলাপ যদি গতবারের মত সংলাপ হয় তাহলে সে সংলাপ অর্থবহ হবে না। সংলাপের জন্য আমাদের এজেন্ডা একটাই এই নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে। পুনরায় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিতে হবে। জনগণের অধিকারকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
এসময় উপজেলা নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, উপজেলা নির্বাচন অথবা স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো সরকারের পরিবর্তন ঘটায় না এমনকি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব সেটারও কোন পরিবর্তন ঘটায় না। তাই এই নির্বাচনগুলো খুব একটা মুখ্য ব্যাপার না।
বর্তমান নির্বাচন কমিশনকে অযোগ্য মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বর্তমান যে নির্বাচন কমিশন রয়েছে এই কমিশনের অধীনেই সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। গোটা পৃথিবী ও জাতি দেখেছে এই নির্বাচন কমিশন অযোগ্য। এই অযোগ্য কমিশনের কোনো যোগ্যতাই নেই নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার। এদের অধীনে কি নির্বাচন হবে এটা নিয়ে প্রশ্নের কোনো প্রয়োজন নেই। ’
তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নির্বাচন হতে হবে সকল দলের অংশগ্রহণে। সকলের কাছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন হতে হবে। সে জন্যই আমরা ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে পরিষ্কার করে বলেছি বর্তমান নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে। নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করার সুযোগ করে দিতে হবে।’
সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় অধ্যায় মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘এই সরকার জনগণের অধিকারকে হরণ করে নিয়ে গেছে। তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছ। জনগণের রায়কে তারা ডাকাতের মত ডাকাতি করে নিয়ে গেছে। আজকে সারা দেশের জনগণের চোখে-মুখে শোকের চিহ্ন লেগে আছে। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি।’
জাতীয় নির্বাচনকে বাতিল করার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা আমাদের ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে বারবার বলছি যে গত জাতীয় নির্বাচনকে বাতিল করতে হবে এবং নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন দিয়ে জনগণের রায়ের মাধ্যমে একটি প্রতিষ্ঠিত সরকার গঠন করতে হবে। সবচেয়ে বড় কথা হচ্ছে নির্বাচন হতে হবে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য এবং সকল দলের অংশগ্রহণে।
জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের ঐক্যফ্রন্ট অটুট আছে সামান্যতম কোন সমস্যা নেই আমাদের ঐক্যফ্রন্টের মধ্যে। রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরের কিছুটা অমিল থাকতেই পারে, এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আমাদের ঐক্য ফ্রন্টের মধ্যে কোন ঝামেলা নেই।
এর আগে সোমবার (১৪ জানুয়ারি) বেলা পৌনে বারোটার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি নিয়মিত ফ্লাইটে করে তিনি কয়েকজন ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের সাথে নিয়ে সিলেট এসে পৌঁছেন।
তার সাথে সিলেট এসেছেন কৃষক শ্রমিক জনতা লীগের সভাপতি আবদুল কাদের সিদ্দিকী, মহাসচিব হাবিবুর রহমান বীর প্রতীক, গণফোরামের কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু, জেএসডি সভাপতি আ স ম আব্দুর রবসহ শীর্ষ কয়েকজন নেতা।
পরে তারা হযরত শাহজালাল (রহ.) এর মাজার জিয়ারত করেন। মাজার জিয়ারত শেষে তারা সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার পথে রওনা হন।
মাজার জিয়ারতের সময় জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাদের সাথে ছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট-১ আসনে বিএনপি’র দলীয় প্রার্থী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরসহ বিএনপি ও বিএনপি’র অঙ্গ সংগঠনের নেতা এবং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের নেতাকর্মী।
সফরকারী টিমে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির নেতাদের মধ্যে মাহমুদুর রহমান মান্নার ঢাকায় একটি অনুষ্ঠান থাকার কারণে তিনি সিলেট আসেননি।

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual4 Ad Code