Main Menu

বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে আতঙ্কে নীলফামারীর কৃষকরা

মোঃ রিমন চৌধুরী, নীলফামারী জেলা প্রতিনিধি : নীলফামারীতে বোরো ধানের বীজতলা নিয়ে আতঙ্কে রয়েছেন কৃষকেরা। শীতের কারনে বোরোর বীজতলাগুলো লালচে বর্ণ ধারণ করছে বলে জানিয়েছেন কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে জেলার ছয় উপজেলার কৃষকরা বলেছেন, ‘প্রতিষেধক দিয়েও কোনও কাজ হচ্ছে না। কিছুতেই বীজতলা তরতাজা হচ্ছে না। বীজতলার এমন দশায় বোরো আবাদ নিয়ে আমরা আতঙ্কে আছি।’
জেলা সদরের টুপামারী ইউনিয়নের চৌধুরী পাড়া গ্রামের কৃষক খোকন মিয়া (৪০) বলেন, ‘শৈত্য প্রবাহের কারনে বীজতলার এমন দশা, পর্যাপ্ত রাসায়নিক সার ও ঔষুধ ছিটিয়েও আশানুরূপ ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এ অবস্থা চলতে থাকলে চারা কিনে অসময়ে বোরো আবাদ করতে হবে। তাতে খরচ বাড়বে, কিন্তু ফল আশারনুরূপ হবে না।’
একই গ্রামের কৃষক হরিকেশর রায় (৩৬) বলেন, ‘রোয়া গারিবার (রোপণ) সময় হইল, এলা বিছন মরেছে। পালা (কুয়াশা) কাটেবার মেলা ঔষুধ দিনু তাহো বিছন মরেছে বাহে। বোধ হয় (মনে হয়) এলা বিছন কিনি হামাক আবাদ করিবার নাগিবে।
২৪ জানুয়ারী বুধবার সদরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে বীজতলাগুলো লালচে আকার ধারন করেছে। আবার কোথাও দেখা গেছে, কচি চারাগুলো খড়ের মতো শুকিয়ে গেছে। কৃষকদের বীজতলার জন্য বাড়তি শ্রম ও পরিচর্যা করতে দেখা গেছে।
জেলা সদরের গোড়গ্রাম ইউনিয়নের মাঝপাড়ায় গিয়ে দেকা গেছে, বীজতলার করুন অবস্থা। দুই কৃষি শ্রমিককে দেখা যায় জমিতে রোপণের জন্য বেছে বেছে বীজতলা থেকে চারা তুলছেন। এক প্রশ্নের জবাবে তাদের একজন ইব্রাহিম আলী বলেন, ‘ছয় জনের দল করে তিন বিঘা জমিতে রোয়া (চারা) লাগানোর চুক্তি নিছি। বিছনের যে অবস্থা তাতে আমার লোকসান হবে। এবার দেখছি কাম আগাচ্ছে না। মরা বিছন (বোরো বীজ) বেছে ফেলতে হচ্ছে। এতে অনেক সময় লাগছে। ’
এদিকে, সদরের রামনগর ইউনিয়নের বাহালী পাড়া কাছারী গ্রামের কৃষক রফিকুল ইসলাম এবার ২ বিঘা জমিতে বোরো আবাদ করবে জানিয়ে বলেন, ‘একে তো শীত বিছন নষ্ট হচ্ছে। তার উপর ওই নষ্ট বিছন তুলবার জন্য লোক পাওয়া যাচ্ছে না। যদিও পাওয়া যায়, তাও আবার চড়া মজুরি চাওয়ায় লোক নেওয়া যাচ্ছে না। ’
তিনি আরও বলেন, ‘জমি তৈরী করে শ্রমিকের অভাবে ফেলে রেখেছি। গতবার চারা রোপণে বিঘা প্রতি খরচ হয়েছে ছয়শ টাকা, এবার সেখানে এক হাজার টাকা লাগছে। ’ বিছন নষ্টের কারণে বাছাই করে তুলতে সময় লাগছে এতে সময় ও খরচ দুটোই বেশি হচ্ছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘এবার জেলায় বোরো আবাদের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ হাজার ২৮০ হেক্টর জমি। এজন্য চার হাজার ৯৭২ হেক্টর জমিতে বীজতলা তৈরী করা হয়েছে। এরই মধ্যে কৃষকরা জমিতে বোরো রোপণ শুরু করেছেন।
সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাজেদুল ইসলাম বলেন, ‘বন্যার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কৃষকরা কোমর বেঁধে বোরো চাষে নামলেও বীজতল ক্ষতি হওয়ার কারণে অনেকেই হোঁচট খাচ্ছে। তবে, আশা করি দুই একদিনের মধ্যে শীত কেটে যাবে। শীতের কারণেই এ সমস্যা তৈরি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. আফতাব হোসেন বলেন, ‘এবছর অতিমাত্রায় শীত পড়ায় আমরা উদ্বিগ্ন। কোল্ড ইঞ্জুরির কারণে বোরো বীজতলা লালচে বর্ণ ও সাদা হয়ে যাচ্ছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তারা কৃষকদের মাঠে সালফারযুক্ত ও ওষুধ ছিটানোর পরামর্শ দিচ্ছেন। তবে একটু রোদ উঠলেই এ সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তিনি আরও বলেন, এ ছাড়াও, বীজতলায় জিপসাম ও ইউরিয়া দিতে বলছি। শীত অনেকটাই কেটে গেছে, আর দুই, এক দিনের রোদ পেলেই চারা সবুজ হয়ে যাবে। আর সমস্যা থাকবে না। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আছেন, তারা পাড়া মহল্লায় বীজতলা দেখাশুনা করছেন এবং কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছেন।

Share





Related News

Comments are Closed