Main Menu

১৯ বছর পর খালাস পেলেন স্বামী

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক : বগুড়ার কামরুন্নাহার লাকী হত্যা মামলায় নিম্ন আদালতে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত নিহতের স্বামী রফিকুল ইসলাম বুলবুলকে খালাস দিয়েছেন হাইকোর্ট। বুলবুল এ মামলার একমাত্র আসামি ছিলেন।

ঘটনার প্রায় ১৯ বছর পর বৃহস্পতিবার (২৫ জানুয়ারী) বিচারপতি মো. রুহুল কুদ্দুস ও বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান রুবেল এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, রফিকুল ইসলাম বিচারের শুরু থেকেই পলাতক। তিনি সিঙ্গাপুরে থাকেন।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান রুবেল, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মারুফা আক্তার শিউলী। পলাতক আসামি বুলবুলের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী ছিলেন হাসনা বেগম।

কামরুন্নাহার লাকী ১৯৯৮ সালের ১৭ নভেম্বর সিঙ্গাপুরে মারা যান। পরদিন দেশে লাশ আসে। এরপর ১৯ নভেম্বর বগুড়া থানায় অপমৃত্যুর মামলা হয়। এর প্রায় এক বছর পর ১৯৯৯ সালের ২৬ আগস্ট বুলবুলের বিরুদ্ধে বগুড়া থানায় হত্যা মামলা করেন লাকীর মা। ওই মামলায় বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৫ জুলাই বুলবুলের সঙ্গে লাকীর বিয়ে হয়। এর কিছুদিন পর থেকে যৌতুকের জন্য লাকীকে নির্যাতন করা হতো। যৌতুকের টাকা দিতে না পারায় তাকে ১২তলা ভবন থেকে ফেলে দিয়ে হত্যা করা হয়েছে।

এ মামলায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল বিচার শেষে ২০১১ সালের ১২ ডিসেম্বর রায় দেন। রায়ে একমাত্র আসামি বুলবুলকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। এরপর রাজশাহীর আদালত মৃত্যুদণ্ড অনুমোদনের জন্য হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স জন্য পাঠান। এই ডেথ রেফারেন্সের ওপর শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার হাইকোর্ট আসামি বুলবুলকে খালাস দেন।

ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মনিরুজ্জামান রুবেল সাংবাদিকদের জানান, লাকী মারা যাওয়ার পরপরই পুলিশ তার লাশ উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায় ও পরে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়। তাদের ওই প্রতিবেদন ইন্টারপোলের মাধ্যমে সংগ্রহ করা হয়। ওই তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, হত্যার কোনও আলামত পাওয়া যায়নি। মৃত্যুর ঘটনাটি আত্মহত্যা বলে প্রতীয়মান হয়। হাইকোর্ট সিঙ্গাপুর পুলিশের ওই তদন্ত প্রতিবেদন বিশ্বাস করেছেন। এ কারণে আসামিকে খালাস দিয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সন্তান না হওয়ায় লাকী হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। এজন্য তিনি চিকিৎসাও নিয়েছেন। সেই হতাশা থেকেই আত্মহত্যা করেছেন বলে বিচারের সময় উঠে এসেছে। হাইকোর্ট এটাকে বিশ্বাস করে আসামিকে খালাস দিয়েছেন।’

রাষ্ট্রপক্ষের এই আইনজীবী আরও বলেন, ‘যৌতুকের জন্য নির্যাতন করা হতো এবং এ কারণে ১২তলা ভবন থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে হত্যা করেছে, সাক্ষীদের এসব কথা বিশ্বাস করে নিম্ন আদালত আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।’ হাইকোর্টের এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করা হবে বলেও তিনি জানান।

Share





Related News

Comments are Closed