Main Menu

পরিত্যক্ত জমিতে লাউ চাষে সাফল্য, বিষমুক্ত সবজিতে হাসি ফুটেছে কৃষক ফারুকের মুখে

Manual7 Ad Code

আনোয়ার হো‌সেন র‌নি, ছাতক সুনামগঞ্জ প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ছাতকে বাড়ির সামনে দীর্ঘদিনের পরিত্যক্ত জমিতে উচ্চফলনশীল লাউ চাষ করে সাফল্যের মুখ দেখেছেন প্রান্তিক কৃষক ফারুক মিয়া। মাত্র দেড় মাসের পরিচর্যায় জমিতে ফলন আসায় এবং বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় তার মুখে ফুটেছে হাসি। একই সঙ্গে বিষমুক্ত ও পরিবেশবান্ধব পদ্ধতিতে লাউ উৎপাদন করে স্থানীয় কৃষকদের মাঝেও তিনি সৃষ্টি করেছেন নতুন আগ্রহ।

Manual7 Ad Code

ফারুক মিয়া ছাতক উপজেলার ছৈলা আফজলাবাদ ইউনিয়নের কৃষ্ণনগর গ্রামের মৃত মখলিছ আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন সৌদি আরবে প্রবাসজীবন কাটানোর পাশাপাশি কৃষিকাজের সঙ্গেও যুক্ত। ধান ও কচু চাষে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। এবারই প্রথম বাড়ির সামনে প্রায় ৪৫ শতক পরিত্যক্ত জায়গায় লাউ চাষ শুরু করেন তিনি।

স্থানীয় কৃষি বিভাগের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিদৎু তালুকদার জানান, পরামর্শ নিয়ে বাংলা লাউয়ের বীজ সংগ্রহ করে শ্রাবণ মাসের প্রথম সপ্তাহে জমিতে বপন করেন। প্রায় এক মাস ২০ দিনের মধ্যেই লাউ পরিপক্ব হয়ে বাজারজাতের উপযোগী হয়। দেড় মাস পরিচর্যার পর বাগানে ব্যাপক ফলন দেখা দেয়।

সরেজমিনে দেখা যায়, বাড়ির সামনের সবজি বাগানে তৈরি করা মাচায় সারি সারি লম্বা সবুজ লাউ ঝুলছে। বাগানের যেদিকেই চোখ যায়, সেদিকেই দেখা মিলছে কচি ও পরিপুষ্ট লাউয়ের। প্রাকৃতিক পরিবেশে বেড়ে ওঠা এসব সবজি দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, তেমনি বিষমুক্ত হওয়ায় ক্রেতাদের কাছেও এর চাহিদা রয়েছে।

ফারুক মিয়া বলেন, ‘বাড়ির সামনে প্রায় ৪৫ শতক জায়গা সারা বছরই পড়ে থাকত। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে এবার সেখানে লাউ চাষ শুরু করি। মাচা তৈরি ও পরিচর্যাসহ মোট খরচ হয়েছে প্রায় ৫০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে প্রায় ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করেছি। আরও ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকার লাউ বিক্রি করার আশা করছি।’

Manual8 Ad Code

তিনি জানান, ওজন অনুযায়ী প্রতিটি লাউ খুচরা ১০০ থেকে ১২০ টাকা এবং পাইকারি ৮০ থেকে ৯০ টাকা দরে বিক্রি করছেন। এতে স্বল্প সময়ে বিনিয়োগের তুলনায় ভালো লাভ পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।

কৃষক ফারুকের সফলতা দেখে স্থানীয় অন্যান্য কৃষকরাও পরিত্যক্ত জমিতে সবজি চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, সারা বছর সবজি উৎপাদনের সুযোগ থাকায় কৃষকরা পরিকল্পিতভাবে সবজি চাষ করলে একদিকে যেমন বাড়তি আয় করতে পারবেন, অন্যদিকে স্থানীয় বাজারে নিরাপদ সবজির সরবরাহও বাড়বে। লাউ চাষে জৈব সার ব্যবহারের পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সীমিত রাসায়নিক সার ব্যবহার করেছেন ফারুক মিয়া। তবে কীটনাশক বা বালাইনাশকের প্রয়োজন হয়নি বলে জানান তিনি।

Manual3 Ad Code

কৃষি বিভাগের পরামর্শ, প্রশিক্ষণ ও সহযোগিতা পেলে ছাতকের অনাবাদি ও পরিত্যক্ত জমিগুলোকে সবজি উৎপাদনের আওতায় এনে কৃষকের আয় বাড়ানো সম্ভব। ফারুক মিয়ার উদ্যোগ তাই শুধু ব্যক্তিগত সাফল্যের গল্প নয়; এটি পতিত জমিকে কৃষির আওতায় এনে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনেরও একটি সম্ভাবনাময় দৃষ্টান্ত।

Manual4 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual7 Ad Code