Main Menu

যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন নীতিতে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ, আদালতে ২২ অঙ্গরাজ্য

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নিজেদের কঠোর অভিবাসন নীতি কার্যকর করতে গিয়ে বড় ধরণের আইনি ধাক্কার মুখে পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন। একদিকে ফেডারেল আদালত ট্রাম্প প্রশাসনের প্রস্তাবিত বিতর্কিত ভিসা নীতি স্থগিত করেছেন, অন্যদিকে ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় দুই ডজন অঙ্গরাজ্য।

প্রস্তাবিত নতুন ভিসা নীতি অনুযায়ী, বিদেশি শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকদের যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানের সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ২০২৫ সালের আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা থাকা এই নীতিতে বলা হয়েছিল, শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ চার বছর এবং সাংবাদিকরা মাত্র ২৪০ দিন দেশটিতে অবস্থান করতে পারবেন। তবে এই নীতি কার্যকর হওয়ার একদিন আগে বোস্টনের ডিস্ট্রিক্ট আদালতের বিচারক এফ ডেনিস সেলর এটি স্থগিতের আদেশ দেন।

বিচারক তাঁর পর্যবেক্ষণে জানান, বর্তমান ব্যবস্থার মাধ্যমে বিদেশি শিক্ষাবিদরা গবেষণায় ও মার্কিন অর্থনীতিতে যে অবদান রাখছেন, এই নতুন নীতি তা বাধাগ্রস্ত করবে এবং অর্থনীতির জন্য বিপর্যয়কর হয়ে উঠতে পারে। প্রায় ১৬ লাখ শিক্ষার্থী এবং ৫ লাখ জে-ভিসাধারী এই আদেশের ফলে সাময়িক স্বস্তি পেলেন।

অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসনের ‘পাবলিক চার্জ’ নীতির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক, ক্যালিফোর্নিয়া ও ইলিনয়সহ ২২টি অঙ্গরাজ্য এবং ওয়াশিংটন ডিসি সম্মিলিতভাবে মামলা করেছে। এই নীতি অনুযায়ী, কোনো অভিবাসী যদি জীবনধারণের জন্য খাদ্য সহায়তা বা স্বাস্থ্যের মতো সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভর করেন, তবে মার্কিন প্রশাসন সরাসরি তাদের গ্রিন কার্ড বা স্থায়ী বসবাসের আবেদন বাতিল করতে পারবে। অভিবাসন কর্মকর্তাদের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দেওয়ার এই প্রস্তাবকে ‘আইনের অপব্যবহার’ হিসেবে দেখছেন আন্দোলনকারীরা।

নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানি এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, এই নীতির মূল লক্ষ্য হলো অভিবাসী পরিবারগুলোকে খাদ্য ও স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত করা। মামলাগুলোতে যুক্তি দেওয়া হয়েছে যে, গ্রিন কার্ডের যোগ্যতা নির্ধারণের একক ক্ষমতা কেবল মার্কিন কংগ্রেসের হাতে।

ট্রাম্প প্রশাসন কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে নিজেদের ইচ্ছামতো নীতি চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে, যা দেশটির বিদ্যমান আইনের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আইনি এই লড়াইয়ের ফলে ট্রাম্পের কঠোর অভিবাসন এজেন্ডা এখন বড় ধরণের অনিশ্চয়তার মুখে পড়ল।

Share





Related News

Comments are Closed