শাহজালালের ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব সম্পন্ন
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের ৬৯৮তম বার্ষিক ওরস উপলক্ষে শুক্রবার ‘লাকড়ি তোড়া’ উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। জুমার নামাজের পর দরগাহে মিলাদ শেষে ভক্ত-অনুরাগীরা শহরতলির লাক্কাতোড়া ও মালনিছড়া চা বাগানের টিলা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন।
এ উপলক্ষে সকাল থেকে ‘লালে লাল- শাহজালাল’, ‘শাহজালাল বাবা কি- জয়’, ‘৩৬০ আউলিয়া কি- জয়’, ‘ওলি আউলিয়া কি- জয়’-এ রকম নানা স্লোগানে লাল গামছা বা চাদর গায়ে হাজার হাজার ভক্তরা মিছিলে নামেন সিলেটের সড়কে। হজরত শাহজালালের (রহ.) দরগাহ থেকে শুরু করে নগরীর আম্বরখানা পয়েন্ট, চৌকিদেখি হয়ে সোজা লাক্কাতোড়া চা-বাগান পর্যন্ত মিছিল করেন তারা। ফেরার পথে লাল গালিচার মিছিলে যুক্ত হয় গাছের সবুজ লতাপাতা।
ওরসের শিরনিতে ব্যবহৃত কাঠ সংগ্রহের ওই উৎসবকে লাকড়ি তোড়ার উৎসব বলা হয়ে থাকে। দরগাহের বার্ষিক ওরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি সংগ্রহের এ আনুষ্ঠানিকতায় আজ যোগ দেন হাজার হাজার ভক্ত। সিলেট নগরীসহ বিভিন্ন স্থান থেকে মিছিল সহকারে ভক্তরা অংশ নেন। ৭০০ বছর ধরে ওই উৎসব চলে আসছে। শাহজালাল (রহ.)-এর জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সেই ঐতিহ্য এখনও অব্যাহত রয়েছে।
জনশ্রুতি আছে ৭০৩ হিজরির এই দিনে হজরত শাহজালাল (রহ.) তার সঙ্গীদের নিয়ে জোহরের নামাজ আদায় শেষে কুড়াল হাতে পাহাড়-টিলাবেষ্টিত (বর্তমান লাক্কাতুরা চা-বাগানের নির্ধারিত টিলা) উত্তর প্রান্তের গভীর জঙ্গলের দিকে যেতে থাকেন। সঙ্গীরা তাকে অনুসরণ করতে থাকেন। তিনি নিজ হাতে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। পরে সেই জায়গার নাম হয় লাকড়ি তোড়ার (ভাঙা) টিলা। যা বর্তমানে লাক্কাতোড়া চা-বাগান নামেই প্রসিদ্ধ।
দরগাহের অফিস সূত্র জানায়, শাহজালালের (রহ.) জীবদ্দশায় এভাবে লাকড়ি সংগ্রহ করে রান্না করা হতো। সে ঐতিহ্য রক্ষা করে ৭০০ বছর ধরে উরসের তিন সপ্তাহ আগে লাকড়ি তোড়া সম্পন্ন হয়ে আসছে। সংগ্রহ করা লাকড়ি নির্দিষ্ট স্থানে জমা করে রাখা হয়। আর এসব লাকড়ি উরসে শিরনির রান্নায় ব্যবহার করা হয়। প্রতি বছর দেশের প্রত্যন্ত জেলা-উপজেলা থেকে হাজার হাজার ভক্ত-আশেকান সিলেটে লাকড়ি তোড়া উৎসবে যোগ দেন। লাকড়ি তোড়ার ফয়েজ ও আকর্ষণ ভক্ত অনুসারীদের কাছে অনেক বেশি বলে মনে করেন তারা।
ট্রাক পিক-আপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের অংশগ্রহণ;
হযরত শাহজালাল (রহ:) এর ঐতিহাসিক লাকড়ি তোড়ার ওরসে অংশগ্রহণ করেছে সিলেট জেলা ট্রাক পিক-আপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন-২১৫৯ এর নেতৃবৃন্দ। শুক্রবার বাদ জুমআ শাহজালাল মাজার থেকে বের হয়ে লাক্কাতুরা চা বাগানে গিয়ে লাকড়ি তোড়ায় অংশ নেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ট্রাক পিক-আপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়ন-২১৫৯ এর সভাপতি দিলু মিয়া, কার্যকরী সভাপতি আব্দুস সালাম মিয়া সহ কমিটির নেতৃবৃন্দ।
প্রতি বছরের ন্যায় আরবী বর্ষের শাওয়াল মাসের এ দিনটি শুধু লাকড়ি ভাঙ্গার উৎসব হিসেবেই পালিত হয় না এর সাথে প্রাচীণ ইতিহাস ঐতিহ্য জড়িত। হযরত শাহজালাল (রহ) এর সিলেট বিজয়ের সাথে লাকড়ি ভাঙ্গার সম্পর্ক জড়িয়ে আছে। ১৩০৩ সালের এ দিনে হযরত শাহজালাল (রহ:) অত্যাচারী রাজা গৌড়গোবিন্দকে পরাজিত করে সিলেট জয় করেন। এরপর রান্নার প্রয়োজনে তিনি শহরতলীর লাক্কাতুরা থেকে লাকড়ি সংগ্রহ করেন। সেই বিজয়ের স্মারক হিসেবে হিজরি বর্ষপঞ্জির দশম মাস শাওয়ালের ২৬ তারিখ এ লাকড়ি ভাঙ্গা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। লাক্কাতুরা নামটিও এসেছে এই লাকড়ি তোড়া থেকে। লাকড়ি ভাঙ্গার শোভাযাত্রাটি ভক্ত আশেকানদের কাছে আরও একটি কারণে গুরুত্বপূর্ণ। এ উৎসবটিকে হযরত শাহজালাল (রহ:) ওরসের প্রস্ত্ততি হিসেবেই বিবেচনা করেন তারা।
Related News
সিলেটে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় কম্বল জব্দ, আটক ২ যুবক
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) বিশেষ অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার টাকাRead More
নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় মাউন্ট এডোরার মাতৃসেবা ইউনিটে ভর্তি বন্ধের নির্দেশ
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগের পর সিলেটের মাউন্ট এডোরা হাসপাতালের ‘অলRead More



Comments are Closed