Main Menu

সিলেটে ফুটপাতের পর এবার রাস্তা দখলে হকাররা

কাওসার আহমেদ : ফুটপাত অনেক আগেই দখলে নিয়েছে হকাররা। তবে নতুন হকারদের সংখ্যা বাড়ছে। ফলে ফুটপাতে জায়গা না পেয়ে এবার মূল সড়কের একাংশে মালামাল নিয়ে বসছে তারা। এতে করে কমছে সড়কের প্রশস্ততা। পথচারীদের হাঁটাচলায় যেমন বাঁধার সৃষ্টি হচ্ছে ঠিক তেমনই যানবাহন চলাচলে ঘটে বিঘ্নতা। তাছাড়া যেখানে সেখানে সড়কের মাঝেই গড়ে তোলা হয়েছে অবৈধ গাড়ির স্ট্যান্ড, পার্কি স্পট। ফলে সড়কে যান চলাচলে হারাচ্ছে গতি। লাগছে দীর্ঘ যানজট।

সম্প্রতি নগরীর বন্দরবাজার থেকে জিন্দাবাজার, চৌহাট্টা, আম্বরখানা, রিকাবীবাজারসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট আর সড়ক ঘুরে দেখা গেছে এমন চিত্র। বিশেষ করে বন্দর বাজার থেকে জিন্দাবাজার এবং জেলরোড, সিটি করপোরেশনের সামনের অংশের সড়কে একাংশে হকারদের অবস্থানের কারণে যান চলাচলে বাধার সৃষ্টি হচ্ছে। এসব স্থানে হকাররা বেঞ্চ বসিয়ে বিক্রি করছেন কাপড়, পাইরেটেড সিডি, ম্যাগাজিন-বই, চায়ের স্টল, মাছ-তরকারিসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবধরনের তৈজসপত্র।

একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ফুটপাতে ব্যবসা পরিচালনার জন্য প্রতিদিন ভাসমান দোকানদাররা একটি চক্রকে চাঁদা দিয়ে থাকেন। আর এই চাঁদার ভাগ পান প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তি থেকে শুরু করে ক্ষমতাসিন দলের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক নেতা। মূলত তাদের আশ্রয়েই ফুটপাতে হকারদের বসতে দেয়া হয়। বন্ধ রাখা হয় উচ্ছেদ অভিযানও।

পথচারীরা জানান, ফুটপাত দখল শেষে রাস্তা দখল দৌরাত্বে অতিষ্ঠ আমরা। প্রশাসনের নিরবতা আমাদের ভাবায়। রাস্তাঘাটে এভাবে দখল নিলে কয়েকদিন পর নগরী থাকবেনা। নগরী হকার মার্কেটে পরিণত হবে। এদিকে, বিভিন্ন সামাজিক ও পেশাজীবি সংগঠন রাস্তাসহ ফুটপাত দখল মুক্তকরণ করতে বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়েছে স্বারকলিপি দিয়ে আসছে।

অ্যাডভোকেট মামুনুর রশীদ বলেন, সিটি কর্পোরেশনের দায়িত্ব নগরীকে শৃংখল করা। সিটি মেয়র নগরীর মানুষের কাংখিত চাওয়া পুরণ করা উচিত। ফুটপাত দখল মুক্তকরণ নগরবাসীর প্রাণের দাবি। নগরীর জনমত দখলমুক্তকরণের পক্ষে। এখন নতুন করে হকাররা রাস্তা দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। তাই জনপ্রতিনিধি সম্মিলিত প্রশাসনের সহযোগিতায় দ্রুত ফুটপাত দখলম্ক্তুকরণসহ রাস্ত দখলমুক্ত করে রাস্তায় গাড়ি নির্বিঘ্নে চলাচলের ব্যবস্থা করা উচিত বলে মনে করেন তিনি।

শিক্ষার্থী বুরহান আহমদ বলেন, মেয়র আরিফ সিলেট সিটি কর্পোরেশনের নির্বাচিত হওয়ার পর ফুটপাত দখল মুক্তকরণ সকলের প্রশংসায় ভেসেছেন। এখন যদি আবার তার আগের জনসেবামূলক কাজ শুরু করেন তবে নগরবাসী স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলবে বলে জানান তিনি।

চাকুরীজীবী সেলিম আহমদ জানান, একসময় ফুটপাত দখল হলেও নগরবাসী বিকল্প হিসেবে রাস্তার পাশ ব্যবহার করত। কিন্ত তাও দখল হওয়ায় পথচারীরা কোন উপায় না পেয়ে রাস্তার মাঝ দিয়ে হাটা শুরু করছেন।এতে গাড়ি চলাচল অসম্ভব হয়ে পড়ে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

এ ব্যাপারে সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী জানান, ফুটপাত ও রাস্তা দখল মুক্ত করণে বিভিন্ন উধ্বর্তন প্রশাসন ও আইন শৃংখলা বাহিনীর সাথে আলোচনা হচ্ছে। রমজানকে সামনে রেখে দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Share





Related News

Comments are Closed