Main Menu

ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুতের চোর-পুলিশ খেলা

অাব্দুল আউয়াল, ঠাকুরগাঁও প্রতিনিধি : টানা কয়েকদিন ধরে শুরু হয়েছে ঠাকুরগাঁওয়ে তীব্র লোডশেডিং। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বিদ্যুতের ভেলকিবাজিতে শহর ও গ্রামের মানুষ অতিষ্ঠ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় একদিকে ব্যবসায়িক কারখানা অন্যদিকে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগের সীমা নেই।
অনেকেই উপহাস করে বলেন, ঠাকুরগাঁওয়ে বিদ্যুৎ যায় না আসে। আর কখন যে আসে সেটাও বুঝা যায় না। ব্যাহত হচ্ছে অফিস-আদালতের সরকারি কার্যক্রম, ব্যবসা বাণিজ্য, লেখাপড়া ও চিকিৎসা সেবা।
ঠাকুরগাঁও শহরের হাজীপাড়া এলাকার সিরাজ আলী জানান, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অন্তত ১০ বার লোডশেডিং হয়েছে। যখন যায় তখন এক থেকে দুই ঘণ্টা আর আসে না। ফলে পানির মোটর চালানো যায় না। তাই ঘরের কাজ করা যাচ্ছে না। চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে এলাকার মানুষ।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত বিদ্যুতের চলে চোর-পুলিশ খেলা। অপরদিকে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রচণ্ড গরমে পড়াশোনা করতে পারছে না।
স্থানীয়দের অভিযোগ বিদ্যুতের অনিয়ম, দুর্নীতি, অব্যবস্থাপনা, স্বজনপ্রীতি, জরাজীর্ণ অবকাঠামো আর পুরোনো লাইনের কারণে জেলার বিদ্যুৎ সুবিধাভোগীরা উৎপাদিত বিদ্যুতের সুফল পাচ্ছেন না।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিদ্যুতের লুকোচুরিতে সারা দিন প্রচণ্ড গরমে অস্থির থাকতে হয়। একবার গেলে দু-তিন ঘণ্টা পার হয়ে যায় তারপরও বিদ্যুৎ আসার কোনো চিহ্ন নেই। আমাদের ব্যবসা লাটে উঠছে।
বিদ্যুৎ অফিস সূত্র জানায়, ঠাকুরগাঁও জেলার গ্রাহকের জন্য যত মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন, জাতীয় গ্রিড থেকে তা পাওয়া যাচ্ছে না। এ কারণে সমস্যার সৃষ্টি হচ্ছে। পরিবেশ, পরিস্থিতি ও লাইনের কাজ করার জন্য মাঝে মধ্যে একটু সমস্যা হচ্ছে তার জন্য আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখিত।
ঠাকুরগাঁও বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের পিডিবির প্রকৌশলী মো. এলাহি জানান, ঠাকুরগাঁও শহরে তুলনামূলক বিদ্যুতের গ্রাহক অনেক। সে অনুযায়ী আমরা বিদ্যুৎ মেগাবাইট পাই না। তাই বিভিন্ন এলাকায় প্রতি ঘণ্টায় লোডশেডিং দিয়ে চাহিদা পূরণের চেষ্টা করছি।
ঠাকুরগাঁও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির মহাবব্যস্থাপক ইনছের আলী বলেন, জাতীয় গ্রিডে সাময়িক সমস্যার কারণে জেলার চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ পাচ্ছি না। দুয়েক দিনের মধ্যে সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে আশা রাখি।

Share





Related News

Comments are Closed