আতিয়া মহলে নিহত নারী জঙ্গির লাশ শনাক্ত হয়নি
বৈশাখী নিউজ ২৪ ডটকম: সিলেটের দক্ষিণ সুরমার শিববাড়ি এলাকার জঙ্গি আস্তানা আতিয়া মহলে নিহত নারী জঙ্গি ‘মর্জিনা বেগম’ ওরফে মনজিয়ারা কি না, তা নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।
জঙ্গি মনজিয়ারা পরিচয় সনাক্তের জন্য মঙ্গলবার বান্দরবন জেলার নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়ন থেকে তার পিতা ও বড় ভাই সিলেটের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন। বুধবার সকালে সিলেটে পৌছালে জাতীয় পরিচয় পত্র প্রদর্শন করলে তারা এই নারীকে মনজিয়ারা হিসেবে সনাক্ত করেননি। তবে সিলেটে আসা নুরুল ইসলাম ও জিয়াবুল হকের ডিএনএ নমুনা রাখা হয়েছে। নিহত নারীর ডিএনএ’র সাথে এই দুই ব্যক্তির ডিএন এ ম্যাচ করে দেখা হবে।
মোগলাবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল ফজল বলেন, মনজিয়ারা পারভিনের বাবা নুরুল ইসলাম ও বড় ভাই জিয়াবুল হক পুলিশকে জানিয়েছেন, আগুনে ওই নারীর শরীরের মুখমণ্ডলসহ নানা অংশ পুড়ে যাওয়ায় তাঁরা লাশটি চিনতে পারছেন না। এ লাশটি মনজিয়ারা পারভিনের কি না, তারা নিশ্চিত নন।
খায়রুল ফজল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ওই নারী জঙ্গির লাশ শনাক্ত করতে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির বাইশারী ইউনিয়ন থেকে মনজিয়ারা পারভিনের পরিবারের ওই দুই সদস্য বুধবার সকালে সিলেটে আসেন। গত সোমবার যে দুজন জঙ্গির লাশ সেনাবাহিনী পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেছিল, তাদের একজন নারী ও একজন পুরুষ। পুরুষ জঙ্গির পরিবার বা আত্মীয়স্বজন কাউকে পাওয়া যায়নি। তাই লাশ দুটি অজ্ঞাত হিসেবে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে আছে। ডিএনএ পরীক্ষার জন্য দুটি লাশ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে।
আতিয়া মহলের বাড়ির মালিকের কাছে থাকা ভাড়াটেদের তথ্য ফরমে নিচতলার ভাড়াটে হিসেবে মর্জিনা বেগম নামের একজন নারী ও স্বামী কাওসার আলী লেখা রয়েছে।
সিলেট কোতোয়াালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল আহাম্মদ জানান, অজ্ঞাত হিসেবে দুজনের মরদেহ হিমাগারে রাখা হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিচয় পাওয়া না গেলে বেওয়ারিশ হিসেবে লাশ দাফন করা হবে।
টানা পাচদিন উৎকণ্ঠার পর মঙ্গলবার শেষ হয় ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’। এর আগে এদিন বিকেলে ‘আতিয়া মহল’-এর ভেতরে থাকা দুই জঙ্গির ছিন্নভিন্ন লাশসহ ভবনটি পুলিশকে বুঝিয়ে দেয় সেনাবাহিনী। তবে এখনো বাকি দুই জঙ্গির লাশ ঘটনাস্থলেই পড়ে রয়েছে। লাশগুলোতে সুইসাইডাল ভেস্ট বাঁধা রয়েছে।
শিববাড়ির আতিয়া মহল নামের পাঁচতলা বাড়িটি জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটা থেকে ঘিরে রাখে পুলিশ। শুক্রবার ঢাকা থেকে পুলিশের বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াট এসে অভিযানে অংশ নেয়। পরে যুক্ত হয় সেনাবাহিনীর প্যারাকমান্ডো টিম। শনিবার সকাল থেকে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো টিম ‘অপারেশন টোয়াইলাইট’ নামে অভিযান শুরু করে। এই অভিযানের মধ্যেই শনিবার সন্ধ্যায় দুই দফা বিস্ফোরণে দুই পুলিশ কর্মকর্তাসহ ছয়জন নিহত এবং আরও ৪০ জন আহত হন।
Related News
বিশ্বনাথে স্ত্রীর মামলায় স্বামী গ্রেফতার
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে স্ত্রীর দায়ের করা মামলায় কছির আলী (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকেRead More
বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধে তিন মাসব্যাপী পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচি শুরু
বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান শুরু হয়েছে। সারাদেশের সঙ্গে সমন্বয়Read More



Comments are Closed