সীমান্ত নদী জাদুকাঁটা-সুরমা ও আপার বৌলাই খনন হচ্ছে
হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: ‘মৎস বালি পাথর ধান সুনামগঞ্জের প্রাণ, দেশের হাওরের রাজধানী সুনামগঞ্জের ঐতিহ্যে প্রবাদের ওই কথা লিখা থাকলেও পাহাড়ি ঢল আর আগাম বন্যায় গোটা জেলার ১১টি উপজেলার কয়েক হাজার কোটি টাকার একমাত্র বোরো ফসল ফি-বছর তলিয়ে যাওয়ায় জেলার ২৫ লাখ মানুষের মুখের হাসি ম্লান হয়ে যায়। অকাল বন্যায় নিম্ন, মধ্যম ও প্রান্তিক কৃষকরা আকালে (অভাবে) পড়ে প্রায় নি:স্ব হয়ে গেছেন। দীর্ঘ কয়েক যুগের দাবির প্রেক্ষিতে পাহাড়ি ঢল আর আগাম বন্যার হাত থেকে কৃষকের বোরো ফসল রক্ষায় সরকার এবার নদী খননের জন্য ১৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সুত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে ১০ নভেম্বর জেলার একমাত্র বোরো ফসল পাহাড়ি ঢল ও আগাম বন্যায় তলিয়ে যাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাহিরপুরে কৃষক সমাবেশে নদী খননের প্রতিশ্রতি দিয়েছিলেন। দীর্ঘ ৬ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রতি এবার আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে।
সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তনদী জাদুকাঁটা, আপার বৌলাই নদী ও পৈন্দা থেকে মিটামইন পর্যন্ত মরা সুরমা নদীর ৪০ কি.মি. নৌ-পথ খনন কাজে ১৪৬ কোটি টাকার প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে।
এই তিন নদীর খনন কাজ সঠিকভাবে সম্পন্ন হলে আগামী শুস্ক মৌসুমেই সুনামগঞ্জের জাদুকাটা ও আপার বৌলাই নদী দিয়ে সারা দেশে বালি-পাথর, কয়লা চুনাপাথর সহ সব ধরণের মালামাল পরিবহনে বাল্কহেড, কার্গো, বলগেট নৌ পথে বিনা বাঁধায় নাব্যতা সংকট অতিক্রম করে স্বাভাবিক ভাবেই চলাচল করতে পারবে।
আজ সোমবার পাউবো জাদুকাঁটা নদী এবং আগামী বৃহস্পতিবার আপার বৌলাইয়ের খনন কাজের দরপত্র গ্রহণ করবে। যাচাই-বাছাই শেষে ২০১৭ সালের জানুয়ারী মাসের প্রথম সপ্তাহেই এই দুই নদী খননের ঠিকাদার নিয়োগ হবে। একইভাবে পৈন্দা থেকে মিঠামইন পর্যন্ত মরা সুরমা নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন কার্যক্রমেরও প্রাক্কলন ব্যয় অনুমোদিত হয়েছে। এই তিন নদীর খনন কাজে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে ১৪৬ কোটি টাকা।
জাদুকাঁটা ও আপার বৌলাই খনন হলে তাহিরপুর, জামালগঞ্জ, ধর্মপাশা, বিশ্বম্ভরপুরের বৃহৎ করচার হাওর, সোনামোড়ল ও হালির হাওর, জেলার বৃহৎ বোরো ফসলী শনির হাওর সহ ছোট ছোট আরো কয়েকটি হাওরের বোরো ফসল অকাল বন্যা ও পাহাড়ি ঢলের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
পাউবো সূত্রে জানা গেছে, আপার বৌলাই নদীর প্রায় ১৬ কিলোমিটার খনন হবে। এজন্য বরাদ্দ হয়েছে ৩৪ কোটি টাকা।
জামালগঞ্জের লালপুর থেকে ধর্মপাশা-তাহিরপুর ও জামালগঞ্জ উপজেলা মধ্যবর্তী সুন্দরপুর জলমহালের খলা পর্যন্ত খনন হবে এটি।
জাদুকাঁটা খনন হবে ৬ কিলোমিটার। নিয়ামতপুর সেতুর আধা কিলোমিটার নিচের দিকে গিয়ে এটি শেষ হবে।
ওই দুই নদী খনন হলে বালু-পাথরবাহী বাল্কহেড কার্গো শুস্ক মৌসুমেও দেশের যে কোন অঞ্চলে যেতে প্রায় ৫০ কিলোমিটার পথের দূরত্ব কমবে। নদীর পাড়ের হাওরগুলো অকাল বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। ওই নদী দিয়ে সহজেই পানি সুরমায় নামবে।
অপরদিকে, পৈন্দা থেকে দিরাই-শাল্লার কালিকুটা হাওরের পাশ দিয়ে যাওয়া মরা সুরমা নদীর ৪০ কিলোমিটার খনন কার্যক্রমের অনুমোদনও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে অনুমোদিত হয়েছে। এই নদী খনন হলে সুরমার পানি মরা সুরমা হয়ে মেঘনায় গিয়ে নামবে। তাতে দিরাই-শাল্লার অনেক হাওর অকাল বন্যা থেকে রক্ষা পাবে।’
সংশ্লিস্ট সূত্রে জানা গেছে, মরা সুরমা নদী খননের দরপত্র প্রক্রিয়ার প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। আগামী ২ মাসের মধ্যেই ওই নদীর ৪০ কিলোমিটার খননের জন্য প্রায় ১০০ কোটি টাকার দরপত্র আহবান করা হবে।’
সুনামগঞ্জ জেলা সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)’র সহ সভাপতি অ্যাডভোকেট আইনুল ইসলাম বাবলু বলেন ‘জেলার গুরুত্বপূর্ণ তিনটি নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে হাওরের পানি নিস্কাশনের সুবিধা বৃদ্ধির জন্য নেওয়া এই প্রকল্পগুলোতে কোনভাবেই যাতে দুর্নীতি না হয়, সেটি কঠোরভাবে দেখতে হবে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের দায়িত্বশীলদের।
পাউবো’র উপ সহকারী প্রকৌশলী খন্দকার আলী রেজা বলেন,‘এই প্রকল্পগুলোর মনিটরিং করছেন টাস্কফোর্সের কর্মকর্তারা। আইডব্লিউএমও মনিটরিংয়ে থাকবে, সুতরাং এখানে দুর্নীতি হওয়ার সুযোগ কম’।
Related News
পাখির কলকাকলিতে মুখর নাজিরপাড়া, ১৫ বছর ধরে অতিথিদের মিলনমেলা
মো. সফিকুল আলম দোলন, জেলা প্রতিনিধি,পঞ্চগড়: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির। গাছের ডালেRead More
ঐতিহ্যের অনন্য নিদর্শন ৮শ বছরের পুরাতন সেতু
শাহ মনসুর আলী নোমান, লন্ডন থেকে: ইতিহাস ঐতিহ্যে সমৃদ্ধ ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টির উইকলার (Wycoller )গ্রামেRead More



Comments are Closed