Main Menu

পাখির কলকাকলিতে মুখর নাজিরপাড়া, ১৫ বছর ধরে অতিথিদের মিলনমেলা

Manual8 Ad Code

মো. সফিকুল আলম দোলন, জেলা প্রতিনিধি,পঞ্চগড়: ভোরের আলো ফুটতেই শুরু হয় পাখিদের কিচিরমিচির। গাছের ডালে ডালে ব্যস্ততা—কেউ বাসা গোছাচ্ছে, কেউ ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার, আবার কোনো বাসা থেকে উঁকি দিচ্ছে সদ্য ফোটা ছানা। শত শত পাখির কলকাকলি আর ডানা ঝাপটানোর শব্দে প্রতিদিনই যেন নতুন প্রাণ ফিরে পায় পঞ্চগড়ের বোদা পৌর এলাকার নাজিরপাড়া গ্রাম।

প্রায় ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর বংশবিস্তারের জন্য নানা প্রজাতির দেশি ও অতিথি পাখি নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে বেছে নিচ্ছে নাজিরপাড়াকে। বর্ষার শুরুতে জুন-জুলাই মাসে পাখিরা এখানে এসে বড় বড় গাছের ডালে বাসা বাঁধে, ডিম দেয় এবং ছানা ফোটায়। এরপর প্রায় ছয় থেকে সাত মাস অবস্থান করে বংশবিস্তার শেষে নভেম্বর-ডিসেম্বরের দিকে ফিরে যায় নিজ নিজ আবাসস্থলে।

Manual8 Ad Code

সরেজমিনে দেখা যায়, নাজিরপাড়ার বড় বড় গাছের ডালজুড়ে অসংখ্য পাখির বাসা। শামুকখোলের পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি, রাতচরা ও ঘুঘুসহ নানা প্রজাতির পাখির অবাধ বিচরণ। কোনো গাছের ডালে সদ্য ফোটা ছানা মাথা উঁচু করে বসে আছে, আবার কোথাও মা পাখি ছানার মুখে তুলে দিচ্ছে খাবার। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত পাখিদের কলকাকলি ও ডানা ঝাপটানোর শব্দে মুখর থাকে পুরো এলাকা।

স্থানীয়দের কাছে এখন এই পাখিরাই নাজিরপাড়ার পরিচয়ের অন্যতম অংশ। শুধু স্থানীয় বাসিন্দারাই নন, পাখিদের এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্য দেখতে প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে ছুটে আসেন প্রকৃতিপ্রেমী, দর্শনার্থী ও আলোকচিত্রী। অনেকেই পাখির ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে নাজিরপাড়ার পাখির আবাসস্থলটি ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে জেলার বাইরেও।

স্থানীয় বাসিন্দা আনিসুর ও জুয়েল আলম বলেন, “ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ এখানে পাখি দেখতে আসেন। গ্রামের মানুষ নিয়মিত পাখিদের খাবারও দেন।প্রায় ১০ থেকে ১৫ বছর ধরে প্রতিবছর এসব পাখি নাজিরপাড়ায় আসে। শামুকখোলের সংখ্যাই বেশি। পাশাপাশি বিভিন্ন প্রজাতির বক, পানকৌড়ি ও রাতচরা পাখিও রয়েছে। কেউ পাখি শিকার করতে এলে গ্রামের তরুণ ও অভিভাবকেরা মিলে তা প্রতিহত করেন। নিরাপদ পরিবেশ পাওয়ায় পাখিগুলো প্রতিবছরই এখানে ফিরে আসে।”

Manual1 Ad Code

আরেক বাসিন্দা আল আমিন বলেন, প্রায় ১৫ বছর ধরে নাজিরপাড়ায় শামুকখোল, পানকৌড়ি ও বিভিন্ন প্রজাতির বক আসছে। এসব পাখি দেখতে বিভিন্ন এলাকার মানুষ এখানে আসেন। গ্রামের মানুষ কোনোভাবেই পাখি শিকার করতে দেন না।

Manual2 Ad Code

স্থানীয়দের এমন সচেতনতা ও ভালোবাসার কারণেই বছরের পর বছর ধরে নিরাপদে টিকে আছে নাজিরপাড়ার পাখির আবাসস্থল। পাখি শিকার বন্ধে গ্রামবাসীর সম্মিলিত প্রতিরোধও তৈরি করেছে নিরাপদ পরিবেশ।

নাজিরপাড়ার এই পাখির আবাসস্থল এখন আর শুধু স্থানীয়দের বিনোদনের জায়গা নয়; এটি হয়ে উঠেছে পঞ্চগড়ের প্রকৃতি, জীববৈচিত্র্য ও পরিবেশের এক অনন্য সম্পদ। প্রকৃতির এই অতিথিরা প্রতিবছর ফিরে আসে—আর তাদের কলকাকলিতে জেগে ওঠে নাজিরপাড়া। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মানুষের ভালোবাসা ও প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগে পাখিদের এই নিরাপদ ঠিকানা টিকে থাকুক প্রজন্মের পর প্রজন্ম।

Manual7 Ad Code

Share





Related News

Comments are Closed

Manual1 Ad Code
Manual6 Ad Code