Main Menu

জৈন্তাপুরে গাছের সাথে ১১ হাজার কেভির বিদ্যুৎ লাইন

মোঃ রেজওয়ান করিম সাব্বির, জৈন্তাপুর প্রতিনিধি: সিলেটের জৈন্তাপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের দুর্নীতির শেষ নেই। ৪শ’ কোটি টাকায় নির্মাণ করা সাবস্টেশনের ১১ হাজার কেভির (কিলো ভোল্ট) ৩টি লাইনের খুঁটি হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে জীবন্ত গাছ।

সরেজমিনে জৈন্তাপুর বিতরণ বিভাগের বিভিন্ন অংশ ঘুরে দেখা যায়- নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে জৈন্তাপুরে বিদ্যুৎ বিতরণ বিভাগের নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ করা হয়েছে। বর্তমানে স্টেশনটি চালু করা হলেও দুর্ভোগের অন্ত নেই। শুরু থেকে জৈন্তাপুর সাবস্টেশনের অনিয়ম-দুর্নীতি নিয়ে বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলেও সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষ নীরবতা পালন করে আসছে। যেন এ বিষয়টি দেখার কেউ নেই?

নির্মাণ করা সাবস্টেশন হতে জাফলং-জৈন্তাপুর বাজারে তিনটি ধাপে ৯টি ১১ হাজার কেভির লাইন স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বিতরণ কার্যক্রম চালু করা হয়। সাবস্টেশন নির্মাণের সময় উল্লেখ করা হয়েছিল- জৈন্তাপুর বিদ্যুৎ সরবরাহ কর্তৃক যে সকল স্থানে লাইন সরবরাহ করা হয়েছে সে সকল স্থানে নতুন সার্ভিস লাইন চালু করা হবে। এছাড়া এর আওতার বাইরে নতুন নতুন গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ বৃদ্ধি করা হবে। লাগামহীন দুর্নীতির কারণে সাবস্টেশন চালু হলেও ২০ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত পুরোনো সার্ভিস লাইন ও খুঁটি বেশির ভাগ স্থানেই পরিবর্তন করা হয়নি।

বর্তমানে উপজেলার বিভিন্ন অংশে সেই জরাজীর্ণ পুরাতন লাইন দিয়েই বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। নতুন ট্রান্সফরমারের পরির্বতে বিভিন্ন স্থানে ব্যবহৃত হয়েছে পুরাতন ট্রান্সফরমার।

এছাড়া অভিযোগ রয়েছে- পাথর স্টোনক্রাশার মিল মালিকদের নিকট থেকে অবৈধ পন্থায় নতুন মিটার দিয়ে লক্ষ লক্ষ টাকা উপঢোকন হিসেবে হাতিয়ে নিয়ে নতুন ট্রান্সফরমারগুলো পাথর ক্রাসিং মিলে ব্যবহৃার করা হয়। পাথর ক্রাশার মিলের পুরাতন ট্রান্সফরমারগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে সার্ভিস লাইন গুলোতে।

এদিকে, উপজেলার বিভিন্ন স্থান ঘুরে দেখা যায় সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের নিজপাট মুরগাহাটি এলাকার নাছির উদ্দিন ও তোরা মিয়া ডাক্তারের বাড়ির সম্মুখে বুরি গোটা গাছকে (স্থানীয় ভাষায় এই গাছকে বুড়ি গোটা গাছ বলা হয়) খুঁটি হিসেবে ব্যবহার করে ১১ হাজার কেভির ৩টি গুরুত্বপূর্ণ সার্ভিস লাইন স্থাপন করা হয়।

নতুন সাবস্টেশন নির্মাণ হওয়ার পূর্বে সদ্য বিদায়ী আবাসিক প্রকৌশলী মাসুদ উদ্দিন পারভেজ বলেছিলেন- “জৈন্তাপুর সাবস্টেশন নির্মাণ হওয়ার পর জৈন্তাপুর উপজেলা তথা বৃহত্তর জৈন্তাপুরে বিদ্যুতের কোন সমস্যা থাকবে না।”

কিন্তু নতুন সাবস্টেশন চালু হলেও সমস্যার যেন শেষ নেই। একদিকে যেমন ভূতুড়ে বিল, অপরদিকে রয়েছে সীমাহীন দুর্ভোগ। অল্প বৃষ্টি কিংবা বাতাস দেখা দিলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়। উন্নয়ন কাজের নামে পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়।

এছাড়া নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিতরণ বিভাগের একাধিক ব্যক্তি জানান- “সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ অনুসন্ধান করলে এবং খতিয়ে দেখলে বের হবে অনিয়মের নানা ফিরিস্তি। ফিডার হতে শুরু করে খুঁটি, টান্সফরমার এবং সার্ভিস লাইন স্থাপনের অনিয়ম। জৈন্তাপুর সাবস্টেশন যেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের ভাগ্যের চাকা খুলে দিয়েছে। তার প্রমাণস্বরূপ জীবিত গাছে ১১ হাজার কেভির ৩টি গুরুত্বপূর্ণ লাইন।”

এ বিষয়ে বর্তমান আবাসিক প্রকৌশলী নিজাম উদ্দিনের সাথে আলাপকালে তিনি বলেন- “পূর্বের কাজটি যাথাসময়ে শেষ না হওয়ার ফলে উপজেলার বিভিন্ন অংশে উন্নয়ন কাজ বাকি রেখে তারা চলে যায়। ফলে নাগরিক সুবিধার কথা বিবেচনা করে পুরাতন এবং নতুন ট্রান্সফরমারের সমন্বয়ে কাজ করা হয়েছে। বর্তমানে নতুন উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য আবেদন করা হয়েছে। বরাদ্দ আসলে বাকি উন্নয়ন কাজ সমাপ্ত করা হবে।”

গাছের সাথে ১১ হাজার কেভির লাইন স্থাপনের বিষয় জানতে চাইলে তিনি এই প্রতিবেদককে জানান- “গাছটির মালিককে গাছ কাটার জন্য বলা হলেও তিনি রাজি না হওয়ায় আমরা লাইন চালুর স্বার্থে কোন দিক যেন ক্ষতি না-হয় সে বিষয় লক্ষ্য রেখেই গাছের সাথে লাইন স্থাপন করেছি।”

Share





Related News

Comments are Closed