Main Menu

পুত্রকে গলায় ফাঁস দিয়ে হত্যা করলো পাষন্ড পিতা!

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার মুড়িয়া ইউপির কোনাগ্রামের দেলওয়ার হোসেন মুক্তার কলোনী হতে ফাহিম নামের ৮ বছরের এক শিশুর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজ শুক্রবার ভোরে কলোনীতে একটি জেনারেটর রাখার রুমে তার ঝুলন্ত লাশ দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশে খবর দেয়। সকাল ১১টার দিকে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে লাশ উদ্ধার করে।
এ ঘটনায় দুইজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো নিহত ফাহিমের পিতা নুর ইসলাম ও তার প্রতিবেশী আল-আমিন।
এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবুল বাশার মোহাম্মদ বদরুজ্জামান জানান, তাদের সন্দেহ এটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড। নিহত ফাহিমের বাবার অভিযোগের প্রেক্ষিতে প্রতিবেশী আল-আমিন কে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসেন। ফাহিমের পিতাকেও একই কারনে থানায় নিয়ে আসেন।
পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, রাতে জিজ্ঞাসাবাদে ফাহিমের পিতা নুরুল ইসলাম শিশু পুত্রকে হত্যার কথা স্বীকার করে বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছে। নুরুল ইসলামের বাড়ী নেত্রকোনা জেলা কলমাকান্দা থানায়।

পাষন্ড পিতা নূরুল ইসলাম
পাষন্ড পিতা নূরুল ইসলাম

পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে নুরুল ইসলাম জানিয়েছে, ছেলের উচ্ছৃঙ্খল আচরণে পরিবারের সকলে তার উপর অতিষ্ট। সম্প্রতি পাশের বাসার সাথে তার মারামারির ঘটনা ঘটে। এ নিয়ে আপোশ মিমাংসায় ফাহিমের পিতা পার্শ্ববর্তী ঘরের লোকের কাছে ক্ষমা চাইতে হয়। এরপর থেকে ছেলের প্রতি ক্ষোভ দেখা দেয়। তার মনে জেদ জাগে। পুত্রকে দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করে।
নুরুল ইসলাম জানায়, শুক্রবার সকালে পুত্রকে নিয়ে পার্শ্ববর্তী বাজারে আসে এবং সেখানের একটি চায়ের দোকানে তাকে রুটি খাওয়ায়। বাড়ী যেতে যেতে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে এবং বাড়ীতে নিয়ে হাতে থাকা রশি দিয়ে ফাঁস দিয়ে হত্যা করে মেশিনের সাথে লাশ ঝুঁলিয়ে রাখে।
উল্লেখ্য, উপজেলার মুড়িয়া ইউনিয়নের কোনাগ্রামের মুক্তা মিয়ার কলোনীতে নেত্রকোনার বাসিন্দা দিনমজুর নুরুল ইসলাম তাঁর স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন। তাঁর স্ত্রী অন্যের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে কলোনীর জেনারেটর রুমে ফাহিমের ঝুলন্ত লাশ দেখতে পেয়ে পুলিশে খবর দেন কলোনীর অন্যান্য বাসিন্দারা। খবর পেয়ে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশ লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরীর পর ময়নাতদন্তের জন্য লাশ সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে প্রেরণ করে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা চন্দন কুমার চক্রবর্তী জানান, শিশু হত্যার কথা পুলিশের কাছে স্বীকার করেছে নুরুল ইসলাম। শনিবার তাকে আদালতে প্রেরণ করা হবে।

Share





Related News

Comments are Closed