Main Menu

এসআই’র বিরুদ্ধে ঘুষ নিয়েও চার্জশীট না দেয়ার অভিযোগ

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটের বিশ্বনাথ থানার এক এসআই বাদির কাছ থেকে ঘুষ নিয়ে আসামীদেরকে গ্রেপ্তার করছেন না বলে অভিযোগ ওঠেছে। ঘুষ নেয়া এবং বিবাদীদের সাথে আঁতাতের মাধ্যমে মামলার চূড়ান্ত প্রতিবেদন দাখিলের পাঁয়তারা করছেন বলে সিলেট জেলা পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন বিশ্বনাথের দশপাইকা গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আকবর আলী।

গত ২ নভেম্বর সিলেটের পুলিশ সুপারের কাছে দেয়া অভিযোগে তিনি উল্লেখ করেন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে বিশ্বনাথ থানায় গত ৬ জুলাই তিনি একটি মামলা দায়ের করেন। মামলাটি তদন্ত ভার দেয়া হয় বিশ্বনাথ থানার এসআই কল্লোল গোস্বামীকে। তিনি মামলাটির দায়িত্ব পাওয়ার পর আকবর আলীর বাড়িতে গিয়ে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। টাকা না দিলে মামলাটি তাঁর বিপক্ষে যাবে বলেও জানান। পরে আকবর আলী বাধ্য হয়ে এসআই কল্লোলকে ১০ হাজার টাকা এবং গত ১৮ আগস্ট আরো ১৫ হাজার টাকা দেন। এসআই কল্লোল আকবর আলীর কাছে আরো টাকা চাইলে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হন এসআই কল্লোল। আকবর আলীর অভিযোগ আসামিদের সাথে যোগাযোগের মাধ্যমে বড় অঙ্কের টাকার বিনিময়ে মামলাটি সুষ্ঠুভাবে তিনি তদন্ত করেননি। এমনকি আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরাফেরা করলেও কোনো আসামিকে তিনি গ্রেপ্তার করেননি। এর ফলে আসামিদের আত্মীয়স্বজন আকবর আলীকে অব্যাহত প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছেন। বিষয়টি গত ১ নভেম্বর বিশ্বনাথ থানায় গিয়ে এসআই কল্লোলকে জানালে তিনি আকবর আলীর সাথে খারাপ আচরণ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন। তিনি তাঁর দায়ের করা মামলার তদন্ত থেকে এসআই কল্লোলকে প্রত্যাহার করে অন্য কোনো সংস্থার মাধ্যম্যে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

আকবর আলী বলেন, গত ৬ জুলাই তাঁর দায়ের করা তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনে দায়ের করা মামলার আসামি একই এলাকার দুলাল মিয়া, শাহিনুর মিয়া, শাহজাহান মিয়া, মিজান ও জামাল মিয়ার হুমকিতে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তিনি মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের জন্য এসআই কল্লোলকে উক্ত মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়ার দাবি জানিয়ে বলেন, এসআই কল্লোল এখন পর্যন্ত তাঁর কাছে থেকে দুবারে ২৫ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন। তবুও মামলার চার্জশিট না দিয়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়ার পাঁয়তারা করছেন।

এ ব্যাপারে এসআই কল্লোল গোস্বামী বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে। অভিযোগ করার পর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাঁকে বিষয়টি জিজ্ঞেস করেন। তিনি তাঁদেরকে বিষয়টি বিস্তারিত বলেছেন এবং ওই দিন বাদি আকবর আলীও সামনে ছিলেন। এসআই কল্লোল বলেন, তাঁর বিরুদ্ধে মামলা তদন্তের চার মাসের মধ্যে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। আদালতে প্রতিবেদন জমা দেয়ার সময় একটা মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করেন বাদি আকবর আলী। যা সঠিক নয় বলেই তিনি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবহিত করেছেন।

Share





Related News

Comments are Closed