Main Menu

ইম্পালস টাওয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেট নগরীর রিকাবিবাজারস্থ ইম্পালস টাওয়ার কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রতারণা মামলা দায়ের কার হয়েছে। ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপাল মো. তৌহিদুল ইসলাম বাদি হয়ে প্রতারণা মামলাটি দায়ের করেন। ৩৩ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে গত ২ নভেম্বর বুধবার সিলেটের চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তিনি এ মামলা দায়ের করেন। এছাড়াও এই টাওয়ার ঘিরে নামে-বেনামে কোম্পানি খুলে প্রায় আড়াই শ শেয়ার হোল্ডারের কাছ থেকে ১৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ ওঠেছে।

জানা গেছে, মো. তৌহিদুল ইসলামের মামলার আসামিরা হলেন, ইম্পালস বিল্ডার্স লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মুহিউল ইসলাম চৌধুরী, ইম্পালসের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান আবদুস শহিদ, হিসাব রক্ষক আবদুল লতিফ। আদালত মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য তদন্ত সংস্থা পুলিশ ব্যুরো ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)-কে নির্দেশ দেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, তৌহিদুল ইসলাম ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ পরিচালনা করে আসছিলেন নগরীর আম্বরখানায়।

২০১৪ সালে যখন তৌহিদুল ইসলাম নতুন একটি ক্যাম্পাস খুঁজছিলেন, তখন আসামিরা প্রতারণার উদ্দেশ্য নিয়ে তাঁর সঙ্গে পরিচিত হন। তারা তাঁকে ইম্পালস টাওয়ারে কলেজের ক্যাম্পাস স্থানান্তরের প্রস্তাব দেয়। ২০১৫ সালের ৩০ মার্চ রাত ১০টায় তৌহিদুল ইসলাম তাঁর কলেজ নিয়ে ওই টাওয়ারে স্থানান্তরের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর করেন। তৌহিদুল সিকিউরিটি হিসেবে ৪ লাখ ৫০ হাজার টাকার একটি চেক দেন। চুক্তি অনুযায়ী, নির্মাণাধীন ওই টাওয়ারকে ব্যবহার উপযোগী করে হস্তান্তর করার কথা। কিন্তু আসামিরা অপারগতা প্রকাশ করে প্রিন্সিপাল তৌহিদুলকে টাওয়ারে কাজ করার জন্য বলেন। সে অনুসারে তৌহিদুল ওই টাওয়ারে টাইলস, অ্যালমুনিয়াম, বৈদুতিক কাজ, দেয়াল, দরজা-জানলা তৈরিসহ ব্যবহার উপযোগী করতে ৩৩ লাখ ২২ হাজার ৪শ টাকা খরচ করেন। এ খরচের ভাউচারসহ মূল্য তালিকায় আসামিপক্ষ স্বাক্ষরও করেন এবং তৌহিদুলকে এ টাকা পরে দেবেন বলে আশ্বস্ত করেন। গত বছরের ১ জুলাই আসামিরা প্রতারণার কৌশল হিসেবে টাওয়ারে কাজের স্বার্থে তৌহিদুলের সঙ্গে একটি বর্ধিত চুক্তি স্বাক্ষর করেন। অথচ এ চুক্তিতে সিরাজুল ইসলাম ছাড়া কোনো সাক্ষী নেই।

এজাহারে আরও বলা হয়, তৌহিদুল এ ভবন ভাড়া নেওয়ার আগেই ২১০ জনের কাছে ১শ বর্গফুট করে বিক্রি করার চুক্তি বাবদ ৫ কোটি টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। তাদের সঙ্গেও চুক্তি ভঙ্গ করে প্রতারণা করা হয়। ওই টাওয়ার ঘিরে চক্রটি বিভিন্ন নামে ব্যবসা দেখিয়ে চুক্তিবদ্ধ হয়ে অর্থ সংগ্রহ করে। পরে ক্ষতি দেখিয়ে ব্যবসা বন্ধ করে নতুন নামে নতুন কোম্পানি তৈরি করে। ওই চক্র ইম্পালস, সিলেট মার্ট ইত্যাদি নামে বেনামে কোম্পানি করলেও কোনো অডিট রিপোর্ট কখনো তৈরি করেনি। ইতঃপূর্বে এই প্রতারক চক্রের একজন জননিপারত্তা আইনের মামলায় গ্রেপ্তার হয়েছিলেন। এমনকি ওই ভবন নিয়ে জটিলতা চলাকালীন এখন নতুনভাবে সেখানে আয়েশা মেডিকেল করার কথা বলেও টাকা হাতানোর প্রক্রিয়া শুরু করে। শুধু তাই নয়, ব্রিটিশ কলেজের নামেও তারা শেয়ার বিক্রি করে অর্থ সংগ্রহ করে বিভিন্ন প্রবাসীদের কাছ থেকে। এখন তৌহিদুলকে আসামিরা মিথ্যা মামলায় হয়রানি করার হুমকি দিচ্ছে। এ হুমকির ঘটনায় তিনি কোতোয়ালি থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি নম্বর-১৯৫৯) দায়ের করেছেন।

এ বিষয়ে মামলার বাদি ব্রিটিশ ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজের প্রিন্সিপাল মো. তৌহিদুল ইসলাম বলেন, আসামি সিরাজুল ইসলাম মূল হোতা। তিনি ইম্পালস টাওয়ারের নামে চুক্তি করে মানুষের টাকা হাতিয়ে প্রতারণা করেন। আমার জানা মতে, প্রবাসীদের কাছে এই টাওয়ার বিক্রি করে ১৫ কোটি টাকা আত্মসাত করেছেন। অনেক প্রবাসী পরিবার এখন টাকার জন্য তার পেছনে ঘুরছেন।

ভুক্তভোগী এমন প্রবাসী পরিবারের স্বজন ঐতিহ্য গ্রাফিকসের রাসেল আহমদ জানান, তার স্বজন চার জনের কাছ থেকে ৩০ লাখ টাকার মতো নিয়েছে প্রতারক চক্রটি। টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে চলেছে। কিন্তু টাকা দিচ্ছে না।

নগরীর আয়েশা মেডিকেল সার্ভিসেস অ্যান্ড হাসপাতালের প্রধান উপদেষ্টা ডা. মো. হেলাল উদ্দিন জানান, আমি সিরাজুলদের সঙ্গে ইম্পালস টাওয়ারে আয়েশা হাসপাতাল স্থানান্তর করার চিন্তাভাবনা করছিলাম। তারা আলাপে রেখেই অনুমতি না নিয়ে হাসপাতালের নামে একটি লিফলেট করে বিনিয়োগের জন্য প্রচার করে। এক পর্যায়ে আমি তাদের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগ শুনতে পাই এবং এদের সঙ্গে আয়েশা হাসপাতালের ব্যবসা না করার সিদ্ধান্ত নিই।

জানতে চাইলে ইম্পালস টাওয়ারের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম বলেন, তৌহিদুল ৩৩ লাখ টাকা খরচ করেছে। ভাউচার বুঝে স্বাক্ষরও করেছি। তবে এ টাকা আমরা তাকে দিয়েছি।’ কিন্তু টাকা রিসিভের কপি তাঁকে দেখাতে বললে তিনি তা দেখাতে পারেননি।

Share





Related News

Comments are Closed