Main Menu

মুকুট ও পীর হাবিবের বিরুদ্ধে কোটি টাকার মামলা

হাবিব সরোয়ার আজাদ, সুনামগঞ্জ থেকে: জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলার আসামি নিয়ে মিথ্যা, বানোয়াট ও বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদান এবং তথ্যটি স্থানীয়, আঞ্চলিক, জাতীয় সংবাদপত্রে ও অনলাইন নিউজটি পোর্টালে প্রকাশ করার অভিযোগে সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নুরুল হুদা মুকুট ও পূর্বপশ্চিমবিডিনিউজ (purboposhimbd.news) এর প্রধান সম্পাদক পীর হাবিবুর রহমানকে বিবাদী করে ১০০’শ কোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের বিষয়টি জানাজানি হলে শুধু সুনামগঞ্জ নয় গোটা সিলেট বিভাগ জুড়েই বিভিন্ন রাজনৈতিক মহল, অফিস আদালত পাড়া, সাংবাদিক মহলেও ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার খোরাক জুগিয়েছে।
সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও জেলা পরিষদ প্রশাসক ব্যারিস্টার এম এনামুল কবির ইমন শনিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বাদী হয়ে ঢাকার ১ম যুগ্ম জেলা জজ আদালতে মামলাটি দায়ের করেন। যার নম্বর ৯০/২০১৬।
আদালত বাদীর দায়ের করা মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ৭ দিনের মধ্যে বিবাদীদের কারণ দর্শানোর নির্দেশ প্রদান করেন।
সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সৈয়দ আমিনুল হক সোমবার মামলা দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ১৫ই আগস্ট জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪১তম শাহাদাৎ বার্ষিকীতে সুনামগঞ্জ শহরের ট্রাফিক পয়েন্টে, কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এবং আবুল হোসেন মিলনায়তনে (বিডি হল) অনুষ্ঠিত পৃথক তিনটি শোকসভায় বিবাদী নুরুল হুদা মুকুট বলেন, “আমি একটি নতুন তথ্য জেনেছি, আপনাদের জেনে রাখা প্রয়োজন সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুর উপজেলার কুবাজপুরের আজিজ পাশা বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার চার্জশীটভুক্ত ৭ নম্বর আসামি, স্ব-পরিবারে জিম্বাবুয়ে গিয়ে উনি মারা গেছেন। এই আজিজ পাশা বঙ্গবন্ধুর স্ত্রী ফজিলাতুন্নেছাকেও মেরেছে। জেলা আওয়ামী লীগের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার ইমনের মামা এই লে. কর্নেল আজিজ পাশা। তিনি আরো বলেন, “জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর খুনি’র ভাগ্নেকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ স¤পাদক হিসাবে মেনে নেওয়া যায় না। সুনামগঞ্জবাসী ক্ষমা করতে পারে না।”
১৫ই আগস্ট মামলার অপর বিবাদী সাংবাদিক পীর হাবিবুর রহমান, তার প্রকাশিত অনলাইন পূর্বপশ্চিমবিডি.নিউজ এ খরবটি প্রকাশ করেন, যার শিরোনাম ছিল- “মুকুটের বক্তব্যে সুনামগঞ্জে তোলপাড়, জেলা আওয়ামীলীগ সেক্রেটারি ইমন বঙ্গবন্ধুর খুনি পাশার ভাগ্নে”।
অন্যদিকে মামলার বিবাদী নুরুল হুদা মুকুট ও পীর হাবিবুর রহমানের ইন্ধনে তাদের অনুসারী লোকজন ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাদীকে জড়িয়ে অনবরত মানহানিকর বক্তব্য প্রকাশ ও পোষ্ট দিতে থাকে বলে মামলার বিবরণীতে উল্লেখ করা হয়। সংবাদটি অনলাইন ওয়েব নিউজ পোর্টাল, সংবাদপত্র এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এর প্রতিবাদে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলা রাষ্ট্র কর্তৃক পরিচালিত রাষ্ট্রের সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ মামলা। বাদী নিজে এই মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের একজন আইনজীবী হিসেবে নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন। বঙ্গবন্ধুর খুনি আজিজ পাশার সাথে বাদীকে জড়িয়ে মিথ্যা, বানোয়াট বক্তব্য প্রদান এবং তা সংবাদপত্রে প্রকাশ হলে দেশ-বিদেশে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার ভাবমূর্তিকে ক্ষুন্ন করেছে বলে বাদী মামলায় উল্লেখ করেন।
মানহানির মামলা দায়ের প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বিবাদী নুরুল হুদা মুকুট সোমবার তার প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে বলেন, “শোক দিবসের আলোচনা সভায় আমার বক্তব্য বিভিন্ন গণমাধ্যমে বিকৃত করে প্রকাশ করা হয়েছে”। তিনি আরো বলেন জেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ধরাশায়ী হওয়ার আশংকা থেকেই আমাকে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্ধিতা থেকে বিরত রাখতে ব্যারিষ্টার এনামুল কবীর ইমন মামলা দায়ের করে কৌশল অবলম্বন করেছেন, আমি আইনি ভাবেই মামলাটি মোকাবেলা করব।
পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ব্যারিষ্টার এম এনামুল কবীর ইমন সোমবার বলেন, আমি একজন তরুণ রাজনীতিবিদ, আমাকে জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক করায় নুরুল হুদা মুকুট ও তার কিছু অনুসারী হিংসাত্বক হয়ে উঠে। বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোয়ন চেয়েও নুরুল হুদা মুকুট ব্যর্থ হন, জাতীর জনকের কন্যা বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সারা দেশের ন্যায় সুনামগঞ্জ যখন উন্নয়নের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে তখন ক্ষমতার সিড়ি বেয়ে উঠতে না পারার ক্ষোভে নুরুল হুদা মুকুট আমার মামা ও আমার পরিবারকে জড়িয়ে শোক দিবসের আলোচনা সভায় মিথ্যাচার করে বক্তব্য দিয়ে দেশ-বিদেশে জাতীর জনক বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলার মত একটি রাষ্ট্রীয় মামলাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন। ১৫ আগষ্টের পর আমার পিতা জেল খেটেছেন, আমার মা বহু ত্যাগ স্বীকার করেছেন, আমার মামারও দেশের প্রতি অবদান রয়েছে তার। নুরুল হুদা মুকুটের বক্তব্যে আমি মনে করি তিনি গোটা আ’লীগ, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে নিজের ক্ষমতার জানান দিয়েছেন। আমি মামলা করার আগে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছিলাম উল্টো আমাকেই মামলার আসামী করা হবে বলে হুমকি দেয়া হয়েছে। মামলার সাথে জেলা পরিষদের নির্বাচনের কোন সম্পৃকতা নেই এটি তার আরেকটি মিথ্যাচার।

Share





Related News

Comments are Closed