Main Menu

প্রথম বিয়ের তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়ে, সিলেটে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী নারীর কারাদন্ড

বৈশাখী নিউজ ডেস্ক: সিলেটে আলোচিত প্রতারণার মামলায় যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী এক নারীকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা, অনাদায়ে আরও ৬০ দিনের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত এ রায় দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শারমিন সুরভী মৌসুমী জন্মসূত্রে বাংলাদেশি হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এবং সেখানে বসবাস করেন।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুর রহমান আফজাল রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচার প্রক্রিয়ায় বাদী ও সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং প্রয়োজনীয় নথিপত্র পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করেন। যদিও এ মামলায় কনের পরিবারের অন্যান্য সদস্যদেরও আসামি করা হয়েছিল, তবে রায়ে তাদের বিষয়ে আদালত ভিন্ন সিদ্ধান্ত দিয়েছেন।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, আসামি শারমিন সুরভী মৌসুমী তার পূর্বের বিয়ের কথা গোপন রেখে জাকের আহমেদ নামের এক ব্যক্তির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। বিয়ের কিছুকাল পর জাকের আহমেদ জানতে পারেন শারমিন বিবাহিত এবং তার সন্তানও রয়েছে। প্রতারিত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়ে তিনি ন্যায়বিচারের আশায় আদালতের দ্বারস্থ হন।

মামলার বাদী জাকের আহমেদের পক্ষে আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল জানান, শারমিন সুরভী মৌসুমী তার পূর্বের বিয়ে ও সন্তান থাকার তথ্য গোপন করে জাকের আহমেদকে বিয়ে করেন। বাদীর অভিযোগ ছিল, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করে বিয়েতে সম্মত করানোর মাধ্যমে তার সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

আইনজীবী জানান, এ ঘটনায় জাকের আহমেদ আদালতে মামলা করলে আদালত প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর মামলাটি এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে তদন্ত শেষে পুলিশ আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণের পর বিচার কার্যক্রম শুরু হয়।

মামলার বিচার চলাকালে বাদীসহ একাধিক সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষীদের জবানবন্দি ও অন্যান্য নথি পর্যালোচনা শেষে আদালত আসামি শারমিন সুরভী মৌসুমীকে দণ্ডবিধির ৪১৭ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেন।

দণ্ডপ্রাপ্ত শারমিন সুরভী মৌসুমী

আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আব্দুর রহমান আফজাল বলেন, বিয়ের আগে পূর্বের বিয়ে ও সন্তান থাকার বিষয়টি গোপন না করে আসামির তা জানানো উচিত ছিল। তার মতে, তথ্য গোপন করে দ্বিতীয় বিয়েতে সম্মতি নেওয়ার ঘটনাটিই প্রতারণার মূল বিষয় হিসেবে মামলায় উঠে এসেছে।

তবে মামলায় অভিযুক্ত অন্যদের বিষয়ে আদালতের রায়ে কী পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে, সে বিষয়ে আইনজীবী বলেন, তিনি বাদীপক্ষের হয়ে আসামি শারমিন সুরভী মৌসুমীর বিরুদ্ধে মামলাটি পরিচালনা করেছেন। তার দাবি, বিয়ের আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত পরিবারের সদস্যদেরও মামলায় আসামি করা হয়েছিল। তবে আদালতের রায়ে তাদের বিষয়ে ভিন্ন সিদ্ধান্ত এসেছে।

আইনজীবী আরও বলেন, সিলেটে বিদেশে থাকা বা বিদেশে বসবাসের পরিচয় ব্যবহার করে বিয়ের নামে প্রতারণার অভিযোগের ঘটনা নতুন নয়। এ ধরনের ঘটনায় অনেক পরিবার আর্থিক ও সামাজিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ মামলার রায় এ ধরনের প্রতারণার বিরুদ্ধে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেবে বলে তিনি মনে করেন।

Share





Related News

Comments are Closed